ঢাকা ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রথমার্ধে গোলশূন্য; রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত আর্জেন্টিনা ‎বিতর্ক এড়াতে ফাইনালে সাত দেশের রেফারি জুলাই সনদ বিতর্কের ইতি টানার উচিত: মির্জা ফখরুলের ‎শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে ৫৮ নিহতের পরিচয় শনাক্ত: চিফ প্রসিকিউটর জিম্বাবুয়েকে ১৪৩ রানে থামাল বাংলাদেশ, লক্ষ্য ১৪৪ রাজনৈতিক পক্ষপাত ছাড়াই দায়িত্ব পালনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‎গণমাধ্যমের তোষামোদী সংস্কৃতি এখনো রয়ে গেছে— মির্জা ফখরুল ‎সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস হেরে বোলিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে দুই পরিবর্তন জুলাই বিপ্লবে বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন সফল হয়েছে: রিজভী জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর নতুন দাবি তেহরানের

ধলই সীমান্ত দিয়ে পুশ ইন: নারী-শিশুসহ আটক ১৫ জন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:৩৪:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ মে ২০২৫
  • / 295

ছবি সংগৃহীত

 

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলই সীমান্ত দিয়ে পুশ ইন করার সময় নারী-শিশুসহ ১৫ জনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আটকদের মধ্যে রয়েছে ৯ জন পুরুষ, ৩ জন নারী ও ৩ জন শিশু। এদের বাড়ি বাংলাদেশের নড়াইল, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায়।

কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শীব নারায়ণ শীল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বুধবার (৭ মে) ভোরে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের অভিযোগে বিজিবি ১৫ জনকে আটক করে। আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ভারতের আসাম রাজ্যে বসবাস করছিলেন।

আরও পড়ুন  বড়লেখা ও মাগুরায় শিশু ধর্ষণের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠল জনতা, ধর্ষকদের ফাঁসির দাবি

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হঠাৎ করেই ভারতীয় পুলিশ তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে দেয় এবং হেলিকপ্টারে করে ত্রিপুরার মানিকভাণ্ডারে এনে বিএসএফের (ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী) কাছে হস্তান্তর করে। এরপর বিএসএফের সদস্যরা ধলই সীমান্ত দিয়ে গেইট খুলে কয়েকজনকে ‘পুশ ইন’ করে দেয়, যাদের মধ্যে তারা ১৫ জন বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। তারা জানান, মোট প্রায় তিন শতাধিক লোক ছিল, তবে বাকিদের কোন সীমান্ত দিয়ে পাঠানো হয়েছে, তা তারা জানাতে পারেননি।

আটকের পর প্রথমে বিজিবি বিষয়টি গোপন রাখলেও, পরে বুধবার সকালে তাদের কমলগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে পুনরায় ধলই সীমান্তে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর ঘটনা জানাজানি হলে আটক ব্যক্তিদের ধলই সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত সিপাহী হামিদুর রহমান জাদুঘরে রাখা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিজিবির কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল মো. জাকারিয়া জানান, “আটক ব্যক্তিরা সবাই বাংলা ভাষায় কথা বলছেন। যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এই ঘটনার পর মৌলভীবাজার জেলার সব সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি। পাশাপাশি, সীমান্ত এলাকায় পুশ ইন ঠেকাতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকায় এমন অনুপ্রবেশের ঘটনা নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ তৈরি করছে এবং দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান প্রয়োজন।

সরকারি পর্যায়ে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও স্থানীয় প্রশাসন ও বিজিবি ঘটনার উপর নজর রাখছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ধলই সীমান্ত দিয়ে পুশ ইন: নারী-শিশুসহ আটক ১৫ জন

আপডেট সময় ০৮:৩৪:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ মে ২০২৫

 

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলই সীমান্ত দিয়ে পুশ ইন করার সময় নারী-শিশুসহ ১৫ জনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আটকদের মধ্যে রয়েছে ৯ জন পুরুষ, ৩ জন নারী ও ৩ জন শিশু। এদের বাড়ি বাংলাদেশের নড়াইল, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায়।

কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শীব নারায়ণ শীল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বুধবার (৭ মে) ভোরে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের অভিযোগে বিজিবি ১৫ জনকে আটক করে। আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ভারতের আসাম রাজ্যে বসবাস করছিলেন।

আরও পড়ুন  মৌলভীবাজারে বাগানের কেয়ারটেকারকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হঠাৎ করেই ভারতীয় পুলিশ তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে দেয় এবং হেলিকপ্টারে করে ত্রিপুরার মানিকভাণ্ডারে এনে বিএসএফের (ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী) কাছে হস্তান্তর করে। এরপর বিএসএফের সদস্যরা ধলই সীমান্ত দিয়ে গেইট খুলে কয়েকজনকে ‘পুশ ইন’ করে দেয়, যাদের মধ্যে তারা ১৫ জন বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। তারা জানান, মোট প্রায় তিন শতাধিক লোক ছিল, তবে বাকিদের কোন সীমান্ত দিয়ে পাঠানো হয়েছে, তা তারা জানাতে পারেননি।

আটকের পর প্রথমে বিজিবি বিষয়টি গোপন রাখলেও, পরে বুধবার সকালে তাদের কমলগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে পুনরায় ধলই সীমান্তে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর ঘটনা জানাজানি হলে আটক ব্যক্তিদের ধলই সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত সিপাহী হামিদুর রহমান জাদুঘরে রাখা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিজিবির কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল মো. জাকারিয়া জানান, “আটক ব্যক্তিরা সবাই বাংলা ভাষায় কথা বলছেন। যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এই ঘটনার পর মৌলভীবাজার জেলার সব সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি। পাশাপাশি, সীমান্ত এলাকায় পুশ ইন ঠেকাতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকায় এমন অনুপ্রবেশের ঘটনা নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ তৈরি করছে এবং দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান প্রয়োজন।

সরকারি পর্যায়ে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও স্থানীয় প্রশাসন ও বিজিবি ঘটনার উপর নজর রাখছে।