ঢাকা ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দীর্ঘদিন জ্বালানির আর্থিক চাপ বহন করা সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর: সংসদে বিল পাস কুয়েতের তেলক্ষেত্রে ইরানি ড্রোন হামলা ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির শঙ্কা চলন্ত লরিতে আগুন, চালকের বুদ্ধিমত্তায় রক্ষা পেল ফিলিং স্টেশন দেশে হামের প্রকোপে ২৪ ঘণ্টায় ১২ জনের মৃত্যু মানিকগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম আনোয়ারুল হক আর নেই শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির অভিযোগ গঠন শুনানি ১৯ এপ্রিল রাত ৭টা পর্যন্ত চলবে বিকিকিনি: নতুন সময়সীমা ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সৌজন্য সাক্ষাৎ হাম দমনে বিশেষ টিকাদান শুরু: অতীতের অবহেলাকে দায়ী করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬৬৪ জন: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:২৮:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫
  • / 229

ছবি সংগৃহীত

 

গত মার্চ মাসে দেশে সড়ক, রেল ও নৌ-পথে প্রাণ হারিয়েছেন ৬৬৪ জন মানুষ। আহত হয়েছেন আরও ১২৫৩ জন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। দেশের জাতীয় ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত দুর্ঘটনার খবর পর্যবেক্ষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধুমাত্র সড়কপথেই মার্চে ৫৯৩টি দুর্ঘটনায় ৬১২ জন নিহত এবং ১২৪৬ জন আহত হয়েছেন। রেলপথে ৪০টি দুর্ঘটনায় ৩৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন, আহত ৬ জন। নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮ জন, আহত ১ জন। সব মিলিয়ে ৬৪১টি দুর্ঘটনায় ৬৬৪ জনের মৃত্যু ঘটেছে।

আরও পড়ুন  জুনে সড়কে ঝরলো ৬৯৬ প্রাণ, প্রতিদিন গড়ে মৃত্যু ২৩ জনের: রোড সেফটি ফাউন্ডেশন

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হারও ছিল উদ্বেগজনক। ২২৭টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৫১ জনের মৃত্যু এবং ২০৮ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

ঢাকা বিভাগে সর্বাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ১৪৮টি দুর্ঘটনায় ১৫০ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৩৬৪ জন। অন্যদিকে, বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ৩১টি দুর্ঘটনায় নিহত ৩১ এবং আহত ৮৬ জন।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ট্রাফিক আইন প্রয়োগে দুর্বলতা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্নীতি, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ফুটপাত দখল, এবং রোড সাইন বা আলোর অভাবকে চিহ্নিত করেছে। এছাড়া, উল্টোপথে গাড়ি চালানো, সড়কে চাঁদাবাজি এবং বেপরোয়া গতিও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।

প্রতিবেদনে দুর্ঘটনা রোধে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, জাতীয় পর্যায়ে সড়ক দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্যভান্ডার তৈরি, স্মার্ট গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু, ছোট যানবাহন আমদানি ও নিবন্ধন নিয়ন্ত্রণ, ডিজিটালভাবে যানবাহনের ফিটনেস যাচাই, এবং রাতের বেলায় বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল চালকদের রিফ্লেক্টিং ভেস্ট পরা বাধ্যতামূলক করা।

এছাড়া সড়কে আলোকসজ্জার উন্নয়ন, ব্লাক স্পট নিরসন, চালকদের ন্যায্য বেতন ও কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করা, এবং বিআরটিএ’র কার্যক্রম অডিট করে দুর্বলতা চিহ্নিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা জরুরি, নাহলে প্রতিদিনই সড়কে ঝরবে অমূল্য প্রাণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬৬৪ জন: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

আপডেট সময় ০১:২৮:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫

 

গত মার্চ মাসে দেশে সড়ক, রেল ও নৌ-পথে প্রাণ হারিয়েছেন ৬৬৪ জন মানুষ। আহত হয়েছেন আরও ১২৫৩ জন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। দেশের জাতীয় ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত দুর্ঘটনার খবর পর্যবেক্ষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধুমাত্র সড়কপথেই মার্চে ৫৯৩টি দুর্ঘটনায় ৬১২ জন নিহত এবং ১২৪৬ জন আহত হয়েছেন। রেলপথে ৪০টি দুর্ঘটনায় ৩৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন, আহত ৬ জন। নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮ জন, আহত ১ জন। সব মিলিয়ে ৬৪১টি দুর্ঘটনায় ৬৬৪ জনের মৃত্যু ঘটেছে।

আরও পড়ুন  মধ্য মেক্সিকোতে সড়ক দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হারও ছিল উদ্বেগজনক। ২২৭টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৫১ জনের মৃত্যু এবং ২০৮ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

ঢাকা বিভাগে সর্বাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ১৪৮টি দুর্ঘটনায় ১৫০ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৩৬৪ জন। অন্যদিকে, বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ৩১টি দুর্ঘটনায় নিহত ৩১ এবং আহত ৮৬ জন।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ট্রাফিক আইন প্রয়োগে দুর্বলতা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্নীতি, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ফুটপাত দখল, এবং রোড সাইন বা আলোর অভাবকে চিহ্নিত করেছে। এছাড়া, উল্টোপথে গাড়ি চালানো, সড়কে চাঁদাবাজি এবং বেপরোয়া গতিও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।

প্রতিবেদনে দুর্ঘটনা রোধে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, জাতীয় পর্যায়ে সড়ক দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্যভান্ডার তৈরি, স্মার্ট গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু, ছোট যানবাহন আমদানি ও নিবন্ধন নিয়ন্ত্রণ, ডিজিটালভাবে যানবাহনের ফিটনেস যাচাই, এবং রাতের বেলায় বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল চালকদের রিফ্লেক্টিং ভেস্ট পরা বাধ্যতামূলক করা।

এছাড়া সড়কে আলোকসজ্জার উন্নয়ন, ব্লাক স্পট নিরসন, চালকদের ন্যায্য বেতন ও কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করা, এবং বিআরটিএ’র কার্যক্রম অডিট করে দুর্বলতা চিহ্নিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা জরুরি, নাহলে প্রতিদিনই সড়কে ঝরবে অমূল্য প্রাণ।