ঢাকা ০৯:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
বিচ্ছেদের পর নতুন রূপে শেহতাজ রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব আতাউর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা কমছে নেতানিয়াহুর, খুঁজছেন নতুন মিত্র সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুজনের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে পাঁচ বিষয়ে অগ্রাধিকার ববি হাজ্জাজের নিজ সন্তানের জন্য হলেও ঢাকা পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, তথ্যের ঘাটতি ছিল মিডিয়ায় আমাকে টার্গেট করা হয়েছে, বললেন ইশরাক মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের ঘোষণা ইশরাকের, প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দিলেন পদত্যাগপত্র

হামের টিকাদানে অনিয়ম: বড় ধরনের সংক্রমণ ঝুঁকিতে দেশের লাখো শিশু

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:২৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • / 229

ছবি সংগৃহীত

 

টানা কয়েক বছর সন্তোষজনক অগ্রগতির পর দেশে হামের টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত কয়েক বছর টিকার কভারেজ ৮০ থেকে ৯০ শতাংশের উপরে থাকলেও ২০২৫ সালে তা নাটকীয়ভাবে ৬০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। টিকার এই বিশাল ঘাটতির কারণে বর্তমানে দেশজুড়ে অতি সংক্রামক এই রোগটির প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, বিগত সময়ে টিকাদানের ক্ষেত্রে যথাযথ তদারকির অভাব এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার কারণেই এখন হামের প্রকোপ পুনরায় ফিরে আসছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালে এমআর-১ টিকার কভারেজ শতভাগ এবং এমআর-২ টিকার হার ৯৭ দশমিক ৯ শতাংশ থাকলেও ২০২৫ সালে তা যথাক্রমে ৫৬ দশমিক ৫ ও ৫৭ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসে। সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে টিকাদানের এই হার সর্বনিম্ন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন  হামের সংক্রমণ বাড়ায় শনিবার থেকে বিশেষ টিকাদান

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এই পতনের পেছনে ‘অ্যাক্টিভ ক্যাম্পেইন’ বা বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়াকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আগে যেসব শিশু কেন্দ্রে আসতে পারত না, মাঠকর্মীরা তাদের বাড়ি গিয়ে টিকার আওতায় আনতেন। তবে ২০২৫ সালে অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি) বাতিল হওয়ায় অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যায় এবং মাঠপর্যায়ের বিশেষ তদারকি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। এর ফলে বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে এবং বাড়িতে জন্ম নেওয়া বিপুলসংখ্যক শিশু জীবনরক্ষাকারী এই টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

সংক্রমণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বর্তমানে স্বাস্থ্য বিভাগ জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। সারা দেশের ১০টি বড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ডিএনসিসি হাসপাতালে হামের রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড ও আইসিইউ সুবিধা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেইন মো. মইনুল আহসান জানিয়েছেন, বিভিন্ন জেলা থেকে সংক্রমণের খবর আসছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সংকট উত্তরণে আগামী জুলাই-আগস্ট মাসে দেশজুড়ে বড় ধরনের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি বা মপ-আপ ক্যাম্পেইন চালানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানিয়েছেন, টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক জোট গ্যাভিকে (Gavi) অবহিত করা হয়েছে এবং আগামী মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ২ কোটি সিরিঞ্জ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেই বঞ্চিত শিশুদের টিকার আওতায় আনতে এই বিশেষ কর্মসূচি শুরু হবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

হামের টিকাদানে অনিয়ম: বড় ধরনের সংক্রমণ ঝুঁকিতে দেশের লাখো শিশু

আপডেট সময় ১১:২৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

 

টানা কয়েক বছর সন্তোষজনক অগ্রগতির পর দেশে হামের টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত কয়েক বছর টিকার কভারেজ ৮০ থেকে ৯০ শতাংশের উপরে থাকলেও ২০২৫ সালে তা নাটকীয়ভাবে ৬০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। টিকার এই বিশাল ঘাটতির কারণে বর্তমানে দেশজুড়ে অতি সংক্রামক এই রোগটির প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, বিগত সময়ে টিকাদানের ক্ষেত্রে যথাযথ তদারকির অভাব এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার কারণেই এখন হামের প্রকোপ পুনরায় ফিরে আসছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালে এমআর-১ টিকার কভারেজ শতভাগ এবং এমআর-২ টিকার হার ৯৭ দশমিক ৯ শতাংশ থাকলেও ২০২৫ সালে তা যথাক্রমে ৫৬ দশমিক ৫ ও ৫৭ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসে। সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে টিকাদানের এই হার সর্বনিম্ন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন  হাম দমনে বিশেষ টিকাদান শুরু: অতীতের অবহেলাকে দায়ী করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এই পতনের পেছনে ‘অ্যাক্টিভ ক্যাম্পেইন’ বা বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়াকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আগে যেসব শিশু কেন্দ্রে আসতে পারত না, মাঠকর্মীরা তাদের বাড়ি গিয়ে টিকার আওতায় আনতেন। তবে ২০২৫ সালে অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি) বাতিল হওয়ায় অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যায় এবং মাঠপর্যায়ের বিশেষ তদারকি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। এর ফলে বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে এবং বাড়িতে জন্ম নেওয়া বিপুলসংখ্যক শিশু জীবনরক্ষাকারী এই টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

সংক্রমণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বর্তমানে স্বাস্থ্য বিভাগ জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। সারা দেশের ১০টি বড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ডিএনসিসি হাসপাতালে হামের রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড ও আইসিইউ সুবিধা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেইন মো. মইনুল আহসান জানিয়েছেন, বিভিন্ন জেলা থেকে সংক্রমণের খবর আসছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সংকট উত্তরণে আগামী জুলাই-আগস্ট মাসে দেশজুড়ে বড় ধরনের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি বা মপ-আপ ক্যাম্পেইন চালানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানিয়েছেন, টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক জোট গ্যাভিকে (Gavi) অবহিত করা হয়েছে এবং আগামী মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ২ কোটি সিরিঞ্জ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেই বঞ্চিত শিশুদের টিকার আওতায় আনতে এই বিশেষ কর্মসূচি শুরু হবে।