ঢাকা ০২:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রথমার্ধে গোলশূন্য; রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত আর্জেন্টিনা ‎বিতর্ক এড়াতে ফাইনালে সাত দেশের রেফারি জুলাই সনদ বিতর্কের ইতি টানার উচিত: মির্জা ফখরুলের ‎শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে ৫৮ নিহতের পরিচয় শনাক্ত: চিফ প্রসিকিউটর জিম্বাবুয়েকে ১৪৩ রানে থামাল বাংলাদেশ, লক্ষ্য ১৪৪ রাজনৈতিক পক্ষপাত ছাড়াই দায়িত্ব পালনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‎গণমাধ্যমের তোষামোদী সংস্কৃতি এখনো রয়ে গেছে— মির্জা ফখরুল ‎সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস হেরে বোলিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে দুই পরিবর্তন জুলাই বিপ্লবে বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন সফল হয়েছে: রিজভী জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর নতুন দাবি তেহরানের

সাফারি পার্কে অবহেলা নয়, চাই সুরক্ষা ও ভালোবাসা: পরিবেশ উপদেষ্টা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:২৩:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ এপ্রিল ২০২৫
  • / 458

ছবি সংগৃহীত

 

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে অব্যবস্থাপনা ও জরাজীর্ণ অবস্থা আর থাকবে না এমনই আশ্বাস দিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, “কোনো জায়গার অবস্থা দেখলেই বোঝা যায়, কর্তৃপক্ষের কাজের প্রতি কমিটমেন্ট কতটা। এভাবে চলতে দেওয়া যাবে না।”

বুধবার দুপুরে শ্রীপুরে সাফারি পার্ক পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, “আমি পুরো পার্ক ঘুরে দেখেছি। সার্বিকভাবে অভিজ্ঞতা ইতিবাচক হলেও কিছু বিষয় আমাকে কষ্ট দিয়েছে। হাতির বেষ্টনী, লেমুর চুরির স্থান এবং জাগুয়ার রাখার জায়গা তিনটি খুবই হতাশাজনক।”

আরও পড়ুন  গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে স্কুল অধ্যক্ষের মৃত্যু

তিনি জানান, সাফারি পার্ক শুধুই বিনোদনের জায়গা নয়, এটি মানুষের মধ্যে প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা তৈরি করার একটি উদ্যোগ। “যদি প্রাণীদের দেখেও মানুষ ভালোবাসা না পায়, তবে চিড়িয়াখানা আর সাফারি পার্কে পার্থক্য কোথায়?” প্রশ্ন রাখেন তিনি।

সম্প্রতি পার্ক থেকে তিনটি লেমুর চুরির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, “এই চুরির বিষয়টি আমি গভীরভাবে তদন্ত করব। বাইরের বিশেষজ্ঞদেরও তদন্তে যুক্ত করা হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোথায় গলদ আছে তা খুঁজে বের করা হবে।”

তিনি আরো বলেন, “আমরা যদি দেখি, একই জায়গা থেকে ময়না কিংবা টিয়া হারায় না, অথচ লেমুর হারিয়ে যায়, তখনই বুঝতে হবে কোনো একটা বিশেষ সমস্যা আছে। বিষয়টি আমি চিহ্নিত করব এবং সংশোধনের পদক্ষেপ নেব।”

সাফারি পার্কের ব্যবস্থাপনায় আরও পেশাদারিত্ব ও আধুনিকতার প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই পার্ককে প্রাণীবান্ধব এবং দর্শনার্থীবান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে। প্রাণী যেন নিরাপদ থাকে, সেটাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।”

পরিদর্শনকালে উপদেষ্টার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরী, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নাফিসা আরেফীন, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক সানাউল্লাহ পাটোয়ারী এবং কেন্দ্রীয় সার্কেলের বন সংরক্ষক এএসএম জহির উদ্দিন আকন প্রমুখ।

সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “প্রাণীদের এখানে আনা হয়েছে সুরক্ষার জন্য, হারিয়ে যাওয়ার জন্য নয়। দায়িত্বশীলতা ছাড়া প্রকৃত সংরক্ষণ সম্ভব নয়।”

নিউজটি শেয়ার করুন

সাফারি পার্কে অবহেলা নয়, চাই সুরক্ষা ও ভালোবাসা: পরিবেশ উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৬:২৩:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ এপ্রিল ২০২৫

 

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে অব্যবস্থাপনা ও জরাজীর্ণ অবস্থা আর থাকবে না এমনই আশ্বাস দিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, “কোনো জায়গার অবস্থা দেখলেই বোঝা যায়, কর্তৃপক্ষের কাজের প্রতি কমিটমেন্ট কতটা। এভাবে চলতে দেওয়া যাবে না।”

বুধবার দুপুরে শ্রীপুরে সাফারি পার্ক পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, “আমি পুরো পার্ক ঘুরে দেখেছি। সার্বিকভাবে অভিজ্ঞতা ইতিবাচক হলেও কিছু বিষয় আমাকে কষ্ট দিয়েছে। হাতির বেষ্টনী, লেমুর চুরির স্থান এবং জাগুয়ার রাখার জায়গা তিনটি খুবই হতাশাজনক।”

আরও পড়ুন  দক্ষিণ এশিয়ার দূষণ সংকট: আঞ্চলিক পদক্ষেপ ছাড়া মুক্তি নেই

তিনি জানান, সাফারি পার্ক শুধুই বিনোদনের জায়গা নয়, এটি মানুষের মধ্যে প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা তৈরি করার একটি উদ্যোগ। “যদি প্রাণীদের দেখেও মানুষ ভালোবাসা না পায়, তবে চিড়িয়াখানা আর সাফারি পার্কে পার্থক্য কোথায়?” প্রশ্ন রাখেন তিনি।

সম্প্রতি পার্ক থেকে তিনটি লেমুর চুরির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, “এই চুরির বিষয়টি আমি গভীরভাবে তদন্ত করব। বাইরের বিশেষজ্ঞদেরও তদন্তে যুক্ত করা হবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোথায় গলদ আছে তা খুঁজে বের করা হবে।”

তিনি আরো বলেন, “আমরা যদি দেখি, একই জায়গা থেকে ময়না কিংবা টিয়া হারায় না, অথচ লেমুর হারিয়ে যায়, তখনই বুঝতে হবে কোনো একটা বিশেষ সমস্যা আছে। বিষয়টি আমি চিহ্নিত করব এবং সংশোধনের পদক্ষেপ নেব।”

সাফারি পার্কের ব্যবস্থাপনায় আরও পেশাদারিত্ব ও আধুনিকতার প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই পার্ককে প্রাণীবান্ধব এবং দর্শনার্থীবান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে। প্রাণী যেন নিরাপদ থাকে, সেটাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।”

পরিদর্শনকালে উপদেষ্টার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরী, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নাফিসা আরেফীন, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক সানাউল্লাহ পাটোয়ারী এবং কেন্দ্রীয় সার্কেলের বন সংরক্ষক এএসএম জহির উদ্দিন আকন প্রমুখ।

সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “প্রাণীদের এখানে আনা হয়েছে সুরক্ষার জন্য, হারিয়ে যাওয়ার জন্য নয়। দায়িত্বশীলতা ছাড়া প্রকৃত সংরক্ষণ সম্ভব নয়।”