ঢাকা ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রথমার্ধে গোলশূন্য; রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত আর্জেন্টিনা ‎বিতর্ক এড়াতে ফাইনালে সাত দেশের রেফারি জুলাই সনদ বিতর্কের ইতি টানার উচিত: মির্জা ফখরুলের ‎শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে ৫৮ নিহতের পরিচয় শনাক্ত: চিফ প্রসিকিউটর জিম্বাবুয়েকে ১৪৩ রানে থামাল বাংলাদেশ, লক্ষ্য ১৪৪ রাজনৈতিক পক্ষপাত ছাড়াই দায়িত্ব পালনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‎গণমাধ্যমের তোষামোদী সংস্কৃতি এখনো রয়ে গেছে— মির্জা ফখরুল ‎সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস হেরে বোলিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে দুই পরিবর্তন জুলাই বিপ্লবে বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন সফল হয়েছে: রিজভী জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর নতুন দাবি তেহরানের

গুয়াতেমালা: প্রাচীন সভ্যতা আর আগ্নেয়গিরির দেশ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:১৪:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
  • / 130

ছবি সংগৃহীত

 

মধ্য আমেরিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হলো গুয়াতেমালা, যা উত্তর আমেরিকা মহাদেশের অন্তর্গত। এর উত্তরে মেক্সিকো, পূর্বে বেলিজ, আর দক্ষিণে প্রশান্ত মহাসাগর রয়েছে। প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দেশের রাজধানী গুয়াতেমালা সিটি। পাহাড়, আগ্নেয়গিরি, বনভূমি আর হ্রদ মিলিয়ে দেশটির প্রকৃতি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়।

গুয়াতেমালার ইতিহাস অনেক পুরোনো ও সমৃদ্ধ। প্রাচীনকালে এখানে মায়া সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল, যা মধ্য আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সভ্যতা। এখনো সেই সভ্যতার অনেক নিদর্শন দেশজুড়ে দেখা যায়। পরে ষোড়শ শতকে স্পেনীয়রা এসে এই অঞ্চল দখল করে এবং দীর্ঘদিন উপনিবেশ হিসেবে শাসন করে। ১৮২১ সালে দেশটি স্পেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।

আরও পড়ুন  গুয়াতেমালায় ভূমিকম্প ও ভূমিধসে ২জনের প্রাণহানি, ৫ জন আটকা

রাজনৈতিকভাবে গুয়াতেমালা একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র। তবে স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাত দেশটিকে প্রভাবিত করেছে। বিশেষ করে ১৯৬০ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত গৃহযুদ্ধ দেশটির জন্য বড় একটি অধ্যায়, যেখানে অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

কিসে বিখ্যাত বলতে গেলে, গুয়াতেমালা তার প্রাচীন মায়া সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ, আগ্নেয়গিরি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত। দেশের পাহাড়ি অঞ্চল, হ্রদ এবং বনভূমি পর্যটকদের আকর্ষণ করে। কফি উৎপাদনেও দেশটির সুনাম রয়েছে।

নাগরিক জীবনের ক্ষেত্রে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় কিছু উন্নতি হলেও দারিদ্র্য, বৈষম্য এবং গ্রামীণ এলাকার সীমিত সুযোগ-সুবিধা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক মানুষ এখনো অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে রয়েছে।

ধর্মীয়ভাবে এখানকার অধিকাংশ মানুষ খ্রিস্টান, বিশেষ করে ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্ট। পাশাপাশি অনেক মানুষ তাদের প্রাচীন মায়া ধর্মীয় ঐতিহ্যও অনুসরণ করে। মুসলিম জনগোষ্ঠী খুবই ছোট, তাই তাই তাদের পরিধিও অনেক কম।

ভ্রমণ ও পর্যটনের ক্ষেত্রে গুয়াতেমালা একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য। প্রাচীন মায়া নগরী, পাহাড়ি হ্রদ, আগ্নেয়গিরি এবং ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে। যারা ইতিহাস ও প্রকৃতি একসাথে উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য এটি একটি ভালো পছন্দ।

সব মিলিয়ে, গুয়াতেমালা একটি দেশ যেখানে প্রাচীন সভ্যতা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সংগ্রামের ইতিহাস মিলিয়ে একটি শক্তিশালী পরিচয় গড়ে উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

গুয়াতেমালা: প্রাচীন সভ্যতা আর আগ্নেয়গিরির দেশ

আপডেট সময় ০৫:১৪:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

 

মধ্য আমেরিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হলো গুয়াতেমালা, যা উত্তর আমেরিকা মহাদেশের অন্তর্গত। এর উত্তরে মেক্সিকো, পূর্বে বেলিজ, আর দক্ষিণে প্রশান্ত মহাসাগর রয়েছে। প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দেশের রাজধানী গুয়াতেমালা সিটি। পাহাড়, আগ্নেয়গিরি, বনভূমি আর হ্রদ মিলিয়ে দেশটির প্রকৃতি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়।

গুয়াতেমালার ইতিহাস অনেক পুরোনো ও সমৃদ্ধ। প্রাচীনকালে এখানে মায়া সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল, যা মধ্য আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সভ্যতা। এখনো সেই সভ্যতার অনেক নিদর্শন দেশজুড়ে দেখা যায়। পরে ষোড়শ শতকে স্পেনীয়রা এসে এই অঞ্চল দখল করে এবং দীর্ঘদিন উপনিবেশ হিসেবে শাসন করে। ১৮২১ সালে দেশটি স্পেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।

আরও পড়ুন  গুয়াতেমালায় ভূমিকম্প ও ভূমিধসে ২জনের প্রাণহানি, ৫ জন আটকা

রাজনৈতিকভাবে গুয়াতেমালা একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র। তবে স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাত দেশটিকে প্রভাবিত করেছে। বিশেষ করে ১৯৬০ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত গৃহযুদ্ধ দেশটির জন্য বড় একটি অধ্যায়, যেখানে অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

কিসে বিখ্যাত বলতে গেলে, গুয়াতেমালা তার প্রাচীন মায়া সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ, আগ্নেয়গিরি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত। দেশের পাহাড়ি অঞ্চল, হ্রদ এবং বনভূমি পর্যটকদের আকর্ষণ করে। কফি উৎপাদনেও দেশটির সুনাম রয়েছে।

নাগরিক জীবনের ক্ষেত্রে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় কিছু উন্নতি হলেও দারিদ্র্য, বৈষম্য এবং গ্রামীণ এলাকার সীমিত সুযোগ-সুবিধা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক মানুষ এখনো অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে রয়েছে।

ধর্মীয়ভাবে এখানকার অধিকাংশ মানুষ খ্রিস্টান, বিশেষ করে ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্ট। পাশাপাশি অনেক মানুষ তাদের প্রাচীন মায়া ধর্মীয় ঐতিহ্যও অনুসরণ করে। মুসলিম জনগোষ্ঠী খুবই ছোট, তাই তাই তাদের পরিধিও অনেক কম।

ভ্রমণ ও পর্যটনের ক্ষেত্রে গুয়াতেমালা একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য। প্রাচীন মায়া নগরী, পাহাড়ি হ্রদ, আগ্নেয়গিরি এবং ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে। যারা ইতিহাস ও প্রকৃতি একসাথে উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য এটি একটি ভালো পছন্দ।

সব মিলিয়ে, গুয়াতেমালা একটি দেশ যেখানে প্রাচীন সভ্যতা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সংগ্রামের ইতিহাস মিলিয়ে একটি শক্তিশালী পরিচয় গড়ে উঠেছে।