সবুজ বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- আপডেট সময় ০১:৩৩:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
- / 20
ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ গড়ার কাজ এখন থেকেই শুরু করতে হবে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর বাংলা কলেজ পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আয়তনের তুলনায় অত্যন্ত জনবহুল দেশ। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাস। এত মানুষের শহর পরিচ্ছন্ন রাখা কঠিন হলেও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণেরা মাঠে নেমে পরিচ্ছন্নতার কাজ করলে দ্রুত একটি জায়গা পরিষ্কার হয়ে যায়। তবে এ কাজ শুধু নির্দিষ্ট কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। নিজেদের উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি বন্ধু, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদেরও এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে।
পরিচ্ছন্ন পরিবেশের সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের নিবিড় সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, পরিবার ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার থাকলে সদস্যদের সুস্থ থাকার সম্ভাবনা বাড়ে। অন্যদিকে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লে সবাইকে চিকিৎসা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও ওষুধের ব্যবস্থা করা কঠিন। তাই মানুষকে সুস্থ রাখাই প্রথম কাজ। আর এ জন্য পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবছর ডেঙ্গুতে অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন এবং অনেকে প্রাণ হারাচ্ছেন। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর মধ্যে অন্যতম।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগে আগামী নভেম্বর পর্যন্ত প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাসাবাড়ি, স্কুল-কলেজ, কর্মস্থল কিংবা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। বিশেষ করে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
রাস্তা, খাল, নদী ও জলাশয়ে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব বর্জ্য জমে পরিবেশ দূষিত হয় এবং রোগজীবাণু ও মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।
এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ রাস্তায় ময়লা ফেললে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলতে সহযোগিতা করতে হবে। তাঁর ভাষায়, তরুণদের কাজ শুধু নিজেদের জন্য নয়, সবার স্বার্থে।
ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান প্রায়ই ওপরের দিকে থাকে, যা অত্যন্ত বিব্রতকর। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি বেশি করে গাছ লাগাতে হবে।
বৃক্ষরোপণে নিজের অতীত উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, তাঁর বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত একটি সংগঠনের মাধ্যমে ২০০৪-০৫ সালের দিকে শুধু ঢাকা শহরেই প্রায় ৮০ হাজার নিমগাছের চারা রোপণ করা হয়েছিল।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন তোমাদের আমাকে ছাড়িয়ে যেতে হবে। তোমরা আরও বেশি গাছ লাগাবে। ইনশাআল্লাহ, তোমরা পারবে।’
এ সময় সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে নিমগাছ রোপণের ইতিহাসও তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় আরাফাতের ময়দান প্রায় বৃক্ষশূন্য ছিল। পরে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেখানে নিমগাছের চারা পাঠান। বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের পরামর্শে সৌদি আরবের আবহাওয়ার উপযোগী গাছ হিসেবে নিম নির্বাচন করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেখানে নিমগাছের বিস্তার ঘটে, যা এখন ‘জিয়া ট্রি’ নামে পরিচিত।
পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে জাপানের উদাহরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশটির রাস্তাঘাটে খুব কম ময়লা-আবর্জনা দেখা যায়। এর পেছনে শুধু পরিষ্কার করার ব্যবস্থা নয়, মানুষের ময়লা না ফেলার অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয় পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ ও পানিদূষণ রোধে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। যেখানে-সেখানে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, খাবারের প্যাকেট ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। ভবিষ্যৎ তোমাদের। এই দেশ তোমরাই পরিচালনা করবে।’

























