ঢাকা ০৫:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য চেয়ে সৌদিকে ঢাকার চিঠি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:১০:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 24

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে ঢাকা এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়ে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট।

ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকালে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একটি সূত্র জানায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি তাদের নজরে আসে। এরপর ঘটনার বিস্তারিত জানতে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠায় জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

আরও পড়ুন  নিজামী-মীর কাসেম-সালাউদ্দিন কাদেরকে মিথ্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে: মির্জা ফখরুল

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) গত বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য নিশ্চিত করে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ওই দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক’ ও অশালীন কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে সৌদি নিরাপত্তাবাহিনী তাদের গ্রেফতার করেছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক তদন্ত শেষে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। শরিয়াহ আইনের অধীনে ‘তাআজির’ বা বিচারকের স্বেচ্ছাধীন শাস্তির বিধান অনুযায়ী আদালত তাদের মৃত্যুদণ্ড দেন। মসজিদের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করা এবং অপরাধ সংঘটনের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিচারক এ শাস্তির আদেশ দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখলে তা চূড়ান্ত হয়। এরপর রাজকীয় আদেশে দণ্ড কার্যকরের নির্দেশ জারি করা হয়।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পবিত্র মসজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মীয় পবিত্রতা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে শরিয়াহ আইন কার্যকরের বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে পবিত্র স্থানে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

সৌদি আরবের বেসরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে জেদ্দার আদালতে এ মামলার বিচারপ্রক্রিয়া চলছিল। এ সময় বাংলাদেশের দুজন ব্যক্তি দোভাষী হিসেবে সহযোগিতা করেছেন।

কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা সনদের পক্ষভুক্ত দেশ বাংলাদেশ ও সৌদি আরব। সনদের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো দেশের নাগরিক বিদেশে গ্রেফতার হলে বন্দির অনুরোধে আটককারী দেশকে অবিলম্বে তার দেশের কনস্যুলেটকে বিষয়টি জানাতে হয়। একই সঙ্গে বন্দিকে কনস্যুলার সহায়তা পাওয়ার সুযোগ দিতে হয়। তবে ওই দুই বাংলাদেশি কনস্যুলেটকে বিষয়টি জানানোর অনুরোধ করেছিলেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ দুই বাংলাদেশিকে আটক করে খুব দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে, এমনটা হওয়ার কথা নয়। আটক দুই বাংলাদেশির পক্ষে কেউ বাংলাদেশ মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি কেন, সেটিও রহস্যজনক বলে মন্তব্য করেন তারা।

ওই দুই বাংলাদেশির সৌদি আরবে অবস্থানের ধরন ও মেয়াদ, বিচারপ্রক্রিয়ায় তারা কোনো আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন কি না কিংবা আপিলের সুযোগ নিয়েছিলেন কি না, সে বিষয়েও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য চেয়ে সৌদিকে ঢাকার চিঠি

আপডেট সময় ০৪:১০:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে ঢাকা এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়ে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট।

ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকালে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একটি সূত্র জানায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি তাদের নজরে আসে। এরপর ঘটনার বিস্তারিত জানতে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠায় জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

আরও পড়ুন  নিজামী-মীর কাসেম-সালাউদ্দিন কাদেরকে মিথ্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে: মির্জা ফখরুল

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) গত বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য নিশ্চিত করে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ওই দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক’ ও অশালীন কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে সৌদি নিরাপত্তাবাহিনী তাদের গ্রেফতার করেছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক তদন্ত শেষে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। শরিয়াহ আইনের অধীনে ‘তাআজির’ বা বিচারকের স্বেচ্ছাধীন শাস্তির বিধান অনুযায়ী আদালত তাদের মৃত্যুদণ্ড দেন। মসজিদের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করা এবং অপরাধ সংঘটনের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিচারক এ শাস্তির আদেশ দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখলে তা চূড়ান্ত হয়। এরপর রাজকীয় আদেশে দণ্ড কার্যকরের নির্দেশ জারি করা হয়।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পবিত্র মসজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মীয় পবিত্রতা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে শরিয়াহ আইন কার্যকরের বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে পবিত্র স্থানে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

সৌদি আরবের বেসরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে জেদ্দার আদালতে এ মামলার বিচারপ্রক্রিয়া চলছিল। এ সময় বাংলাদেশের দুজন ব্যক্তি দোভাষী হিসেবে সহযোগিতা করেছেন।

কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা সনদের পক্ষভুক্ত দেশ বাংলাদেশ ও সৌদি আরব। সনদের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো দেশের নাগরিক বিদেশে গ্রেফতার হলে বন্দির অনুরোধে আটককারী দেশকে অবিলম্বে তার দেশের কনস্যুলেটকে বিষয়টি জানাতে হয়। একই সঙ্গে বন্দিকে কনস্যুলার সহায়তা পাওয়ার সুযোগ দিতে হয়। তবে ওই দুই বাংলাদেশি কনস্যুলেটকে বিষয়টি জানানোর অনুরোধ করেছিলেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ দুই বাংলাদেশিকে আটক করে খুব দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে, এমনটা হওয়ার কথা নয়। আটক দুই বাংলাদেশির পক্ষে কেউ বাংলাদেশ মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি কেন, সেটিও রহস্যজনক বলে মন্তব্য করেন তারা।

ওই দুই বাংলাদেশির সৌদি আরবে অবস্থানের ধরন ও মেয়াদ, বিচারপ্রক্রিয়ায় তারা কোনো আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন কি না কিংবা আপিলের সুযোগ নিয়েছিলেন কি না, সে বিষয়েও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।