ঢাকা ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
শিরোনাম :
কাপ্তাই হ্রদে পানি বাড়ায় রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতু বন্ধ, অনির্দিষ্টকালের সেতু পারা পারে নিষেধাজ্ঞা পাকিস্তানে তুর্কি সামরিক বিমানের আনাগোনা, উদ্বিগ্ন ভারত শেষ উইকেটের আক্ষেপে বাংলাদেশ, ফাইনাল হাতছাড়া চার গোল মেসির, ৭-১ ব্যবধানে জিতে ইতিহাস গড়ল ইন্টার মিয়ামি নেপালে বন্যায় ৬৭৫ জনের মৃত্যু, এখনও নিখোঁজ ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি ইমামদের শুধু নামাজের নয়, মুত্তাকিদেরও ইমাম হতে হবে: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির পূর্বাভাস, হতে পারে ভারী বর্ষণ গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে বিচার শুরু: প্রধানমন্ত্রী বই দেখে পরীক্ষা: ৪ পরীক্ষার্থী ২ শিক্ষককে বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেপাল পুনর্গঠনে লাগবে ৫ বিলিয়ন ডলার

গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে বিচার শুরু: প্রধানমন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:২৫:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 51

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স বন্ধে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়নের কাজ চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। দিবসটি উপলক্ষে শনিবার ২৯ আগস্ট দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশসহ বিশ্বের গুম হওয়া ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জানান।

বাণীতে তারেক রহমান বলেন, গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা, বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন  শেখ হাসিনা ও জয় দেশে এসে কথা বলুক: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে সরকারবিরোধী আন্দোলন কিংবা ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে গুমের মতো নির্মম পন্থা নেওয়া হয়।

বাংলাদেশের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পতিত, পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমনে গুম-অপহরণের পথ বেছে নিয়েছিল। তাঁর দাবি, মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর গুম-অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের আটকে রাখার জন্য গোপন বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছিল। এসব বন্দিশালা জনপরিসরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পায়।

দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থার হিসাবের বরাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার বিভিন্ন সময়ে কমপক্ষে সাত শতাধিক মানুষকে গুম করেছে।

তিনি বলেন, গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে বর্তমান সরকার বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স বন্ধে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর বাণীতে বলা হয়, ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ও সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।

উত্থাপিত বিলগুলো যথানিয়মে আইনে পরিণত হলে ভবিষ্যতে কেউ গুম কিংবা অপহরণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের পথ বেছে নেবে না বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাণীতে তিনি বলেন, গুম কিংবা অপহরণ শুধু একটি সংখ্যা বা একজন ব্যক্তির নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা নয়। এর সঙ্গে একটি পরিবারের স্বপ্ন, সাধ ও আকাঙ্ক্ষা জড়িয়ে থাকে। গুম হওয়া ব্যক্তির স্বজনদের অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে শোক পালনেরও সুযোগ থাকে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের বীর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট চক্রের পতনের পর গুম হওয়া সৌভাগ্যবান কয়েকজন ফিরে এসেছেন। তবে ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষের এখনও কোনো খোঁজ মেলেনি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং এ ধরনের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্র বা সরকার কর্তৃক গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সের বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেককে জাগ্রত রাখতে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালন করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য ‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’।

বাণীর শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী গুমের মতো অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাপী ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে বিচার শুরু: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৯:২৫:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স বন্ধে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়নের কাজ চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। দিবসটি উপলক্ষে শনিবার ২৯ আগস্ট দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশসহ বিশ্বের গুম হওয়া ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জানান।

বাণীতে তারেক রহমান বলেন, গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা, বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন  সৌদিতে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে সরকারবিরোধী আন্দোলন কিংবা ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে গুমের মতো নির্মম পন্থা নেওয়া হয়।

বাংলাদেশের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পতিত, পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমনে গুম-অপহরণের পথ বেছে নিয়েছিল। তাঁর দাবি, মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর গুম-অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের আটকে রাখার জন্য গোপন বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছিল। এসব বন্দিশালা জনপরিসরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পায়।

দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থার হিসাবের বরাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার বিভিন্ন সময়ে কমপক্ষে সাত শতাধিক মানুষকে গুম করেছে।

তিনি বলেন, গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে বর্তমান সরকার বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স বন্ধে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর বাণীতে বলা হয়, ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ও সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।

উত্থাপিত বিলগুলো যথানিয়মে আইনে পরিণত হলে ভবিষ্যতে কেউ গুম কিংবা অপহরণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের পথ বেছে নেবে না বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাণীতে তিনি বলেন, গুম কিংবা অপহরণ শুধু একটি সংখ্যা বা একজন ব্যক্তির নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা নয়। এর সঙ্গে একটি পরিবারের স্বপ্ন, সাধ ও আকাঙ্ক্ষা জড়িয়ে থাকে। গুম হওয়া ব্যক্তির স্বজনদের অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে শোক পালনেরও সুযোগ থাকে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের বীর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট চক্রের পতনের পর গুম হওয়া সৌভাগ্যবান কয়েকজন ফিরে এসেছেন। তবে ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষের এখনও কোনো খোঁজ মেলেনি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং এ ধরনের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্র বা সরকার কর্তৃক গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সের বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেককে জাগ্রত রাখতে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালন করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য ‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’।

বাণীর শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী গুমের মতো অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাপী ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানান।