মৎস্য কর্মকর্তাকে লাঞ্ছনার পাল্টা দাবি অভিযুক্তের: প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত
- আপডেট সময় ১১:০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
- / 27
নড়াইল সদর উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হানের অফিসকক্ষে প্রবেশ করে ভাঙচুর, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ এনে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) রাতে মৎস্য কর্মকর্তা নিজে বাদী হয়ে মো. জিসানুর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচ জনকে আসামি করে নড়াইল সদর থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন।
নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি জিসানুর নড়াইল সদর উপজেলার যদুনাথপুর গ্রামের টিপু সুলতানের ছেলে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে, সদর উপজেলা পরিষদ ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযুক্ত জিসানুর নামের ওই যুবক মাঝে মাঝেই এসে অফিসের বিভিন্ন গোপনীয় তথ্য দাবি করতেন।
চাহিদা অনুযায়ী অফিসের গোপনীয় নথিপত্র প্রদান না করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার বিকেল ৩টার দিকে চার থেকে পাঁচ জনকে সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্ত জিসানুর মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রবেশ করে নড়াইল জেলার সকল সুবিধাভোগী সদস্যদের প্রদর্শনী তালিকা দাবি করেন।
পূর্বেও এই তালিকা সরবরাহ করা হয়েছে বলে মৎস্য কর্মকর্তা জানালে জিসানুর ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ ও মারধর করেন এবং টেবিলের ওপর থাকা সরকারি ডেস্কটপ ও মনিটর ভেঙে ফেলেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এই বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান অভিযোগ করে বলেন, জিসানুর বেশ কিছুদিন ধরেই তার কার্যালয়ে এসে অহেতুক ঝামেলা করছিলেন এবং প্রদর্শনী বরাদ্দের দাবি জানাচ্ছিলেন। বরাদ্দ মূলত একটি নির্দিষ্ট কমিটির মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হয় এবং এই মুহূর্তে তার এককভাবে কোনো বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ নেই বলে তিনি জিসানুরকে বিষয়টি বারবার বুঝিয়ে বলেন।
এরপরও রোববার বিকেলে জিসানুর তার দলবল নিয়ে অফিসে এসে ভাঙচুর ও মারধর করেন এবং এই কারণেই তিনি আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে থানায় মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত জিসানুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। পাল্টা দাবি করে তিনি বলেন, গ্রামীণ সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের কাজের প্রয়োজনে বিভিন্ন সময়ে তাকে উপজেলা অফিসে যেতে হয়। মৎস্য কর্মকর্তার অফিসে কোনো তথ্যের জন্য গেলে সঠিক সহযোগিতা পাওয়া যায় না, বরং কর্মকর্তা অসৌজন্যমূলক আচরণ করে তাড়িয়ে দেন বলে তিনি দাবি করেন।
জিসানুর অভিযোগ করেন, রোববার বিকেলে কিছু তথ্যের জন্য গেলে মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান কোনো সহযোগিতা না করে উল্টো অকারণে গালিগালাজ ও অশালীন আচরণ শুরু করেন এবং সরকারি কর্মকর্তা হয়েও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাব দেখান।
জিসানুর আরও দাবি করেন, কর্মকর্তার এই অপেশাদার আচরণ ও গালিগালাজের বিষয়টি তিনি নিজের মোবাইল ফোনে রেকর্ড করার চেষ্টা করলে মৎস্য কর্মকর্তা চেয়ার থেকে উঠে এসে তার হাত থেকে ফোনটি কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন এবং তাকে মারধর করেন। এই সময় আত্মরক্ষার্থে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয় এবং মৎস্য কর্মকর্তার নিজের হাতের ধাক্কাতেই টেবিলের কম্পিউটারটি নিচে পড়ে ভেঙে যায় বলে জিসানুর দাবি করেন। অফিসের কর্মচারীরা মিলেও তাকে মারধর করেছে এবং পরবর্তীতে মামলা দেওয়ার হুমকি দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই ঘটনায় মৎস্য কর্মকর্তার দেওয়া এজাহারের ভিত্তিতে থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।


























