‘অতীতের রাজনৈতিক বিতর্কে নয়, সামনে এগিয়ে যেতে হবে’: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৩:৪৯:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
- / 17
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, অতীতের রাজনৈতিক বিতর্কে না গিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়েই আলোচনা হওয়া উচিত। অতীতে কী ভালো বা মন্দ হয়েছে, সেই বিতর্কে না গিয়ে দেশের স্বার্থে সবাইকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষায়, দেশের মানুষ এখন অতীত নয়, ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা শুনতে চায়।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে প্রথমে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং পরে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি দলের সদস্য হিসেবে তিনি এবারের বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ বলতে চান। বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে দেশের বাস্তবতা, মানুষের প্রয়োজন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বাজেট রাষ্ট্র পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। কোনো বাজেটই সব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে পারে না। তবে সরকারের সর্বোচ্চ জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও বিবেচনা কাজে লাগিয়ে এমন একটি বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ কিছুটা স্বস্তি পায়।
প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, এবারের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬১টি পণ্যের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে বাজেট ঘোষণার আগে ও পরে বাজারে নিত্যপণ্যের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখা যায়নি, যা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির কারণ হয়েছে।
সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের অর্থনীতি দুর্বল অবস্থায় ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতি, লুটপাট, অব্যবস্থাপনা ও ভুল নীতির কারণে অর্থনীতি সংকটে পড়েছিল। বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে, উৎপাদন ও বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়ে এবং মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনকে কঠিন করে তোলে।
তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারের সংকটে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যায় এবং টাকার বিনিময় হার উল্লেখযোগ্যভাবে অবমূল্যায়িত হয়। এছাড়া আয়বিহীন বিভিন্ন প্রকল্পে নেওয়া দেশি-বিদেশি ঋণের বোঝাও এখনও বহন করতে হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এসব সংকট অস্বীকার করছে না এবং এগুলোকে অজুহাত হিসেবেও ব্যবহার করতে চায় না। রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর নীতি এবং জনগণের সহযোগিতায় এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হবে।
তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকার কাজ করেছে। পাশাপাশি ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ধারাবাহিক উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে বলে সরকার আশা করছে।
























