বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০২:২০:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 12
পরিবর্তিত বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সময়োপযোগী করা এবং সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার স্পেস ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধের মতো প্রযুক্তি জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। তাই প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব উন্নয়নের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সাভার সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর সাতটি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিশ্বে নিরাপত্তা পরিবেশ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের ধরন ও কৌশল। স্থল, সমুদ্র ও আকাশের পাশাপাশি সাইবার স্পেস, মহাকাশ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্যভিত্তিক সক্ষমতা জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এ বাস্তবতায় সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু সামরিক সক্ষমতা নয়, শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও জনগণের আস্থাও সশস্ত্র বাহিনীর শক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পেশাদার বাহিনী গড়ে তুলতে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সৈনিক সংবিধান, আইন, সামরিক বিধিবিধান এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল থাকবেন—এটাই জনগণের প্রত্যাশা বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জাতীয় পতাকার গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, জাতীয় পতাকা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। পতাকার মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক সৈনিকের দায়িত্ব।
মহান মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সঙ্গে সেনাবাহিনীর জন্মের ইতিহাস অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সেনাসদস্যরা সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। স্বাধীনতার জন্য তাঁদের সেই প্রতিরোধ বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেশীয়ভাবে উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা খাতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম উৎপাদনে দেশীয় সক্ষমতা গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রযুক্তি কখনোই মানুষের বিকল্প নয়। তাই প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও পেশাদারিত্ব বাড়াতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার সক্ষমতা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যাতে জাতীয় প্রয়োজনে তিন বাহিনী একযোগে দায়িত্ব পালন করতে পারে। দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদারে বাহিনীগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এবং আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সশস্ত্র বাহিনীর বহুমুখী দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড এবং অন্যান্য জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের অভ্যন্তরে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার পাশাপাশি বিদেশের শান্তিরক্ষা মিশনেও বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন এবং অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জাতীয় পে স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া সেনাসদস্যদের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত করতে ‘ওয়ান র্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর প্রধান, সংসদ সদস্য, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন পর্যায়ের সেনাসদস্য এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।























