ঢাকা ০৭:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

‘নারীর অবমাননা ও ফ্যামিলি কার্ড রাজনীতি একসঙ্গে চলে না’: ডা. শফিক

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৫৭:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 725

ছবি: সংগৃহীত

যশোরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “একদিকে মা-বোনের গায়ে হাত তোলা হবে, আর অন্যদিকে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখানো হবে—এই দুই নীতি একসঙ্গে চলতে পারে না। যারা নির্বাচনের আগেই মা-বোনদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ, তারা ভবিষ্যতে দেশ ও জনগণের জন্য কী করবেন, তা স্পষ্ট।”

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত এই বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা আমির গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।

যশোরের উন্নয়নে জামায়াতের প্রতিশ্রুতি ডা. শফিকুর রহমান যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবিগুলো পূরণের অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, জনগণের রায়ে জামায়াত ক্ষমতায় গেলে যশোরকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা হবে। এছাড়া মেডিকেল কলেজের সম্প্রসারণ, জেনারেল হাসপাতালের আধুনিকায়ন এবং শক্তিশালী যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ভৌত অবকাঠামো গড়ে তোলাকে জামায়াত তাদের নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখবে।

আরও পড়ুন  যুদ্ধের প্রভাব থাকলেও প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসবে না সরকার: প্রধানমন্ত্রী

রাজনীতির গতিপথ পরিবর্তনের ডাক আসন্ন নির্বাচনকে দেশের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ‘সন্ধিক্ষণ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এটি কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়, বরং গতানুগতিক গোষ্ঠীগত বা পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির পরিবর্তে জনকল্যাণমুখী রাজনীতি প্রতিষ্ঠার লড়াই।” প্রচারণার সময় নারী কর্মীদের হেনস্তা করার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি যুবসমাজকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তবে কোনোভাবেই আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে সংঘাত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন তিনি।

দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা জনসভায় উপস্থিত হাজার হাজার নেতাকর্মী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক ও ‘হ্যাঁ’ ভোটের স্লোগানে মাঠ মুখরিত করে তোলেন। জামায়াত আমির একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যশোরবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে অংশ নেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।

জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেনসহ স্থানীয় বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীরা। এছাড়াও খেলাফত মজলিস, এনসিপি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যশোর জেলার নেতৃবৃন্দ সংহতি প্রকাশ করে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

‘নারীর অবমাননা ও ফ্যামিলি কার্ড রাজনীতি একসঙ্গে চলে না’: ডা. শফিক

আপডেট সময় ০১:৫৭:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

যশোরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “একদিকে মা-বোনের গায়ে হাত তোলা হবে, আর অন্যদিকে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখানো হবে—এই দুই নীতি একসঙ্গে চলতে পারে না। যারা নির্বাচনের আগেই মা-বোনদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ, তারা ভবিষ্যতে দেশ ও জনগণের জন্য কী করবেন, তা স্পষ্ট।”

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত এই বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা আমির গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।

যশোরের উন্নয়নে জামায়াতের প্রতিশ্রুতি ডা. শফিকুর রহমান যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবিগুলো পূরণের অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, জনগণের রায়ে জামায়াত ক্ষমতায় গেলে যশোরকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা হবে। এছাড়া মেডিকেল কলেজের সম্প্রসারণ, জেনারেল হাসপাতালের আধুনিকায়ন এবং শক্তিশালী যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ভৌত অবকাঠামো গড়ে তোলাকে জামায়াত তাদের নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখবে।

আরও পড়ুন  বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য নেবেন সরকারি পরিচয়পত্রধারীরা

রাজনীতির গতিপথ পরিবর্তনের ডাক আসন্ন নির্বাচনকে দেশের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ‘সন্ধিক্ষণ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এটি কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়, বরং গতানুগতিক গোষ্ঠীগত বা পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির পরিবর্তে জনকল্যাণমুখী রাজনীতি প্রতিষ্ঠার লড়াই।” প্রচারণার সময় নারী কর্মীদের হেনস্তা করার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি যুবসমাজকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তবে কোনোভাবেই আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে সংঘাত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন তিনি।

দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা জনসভায় উপস্থিত হাজার হাজার নেতাকর্মী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক ও ‘হ্যাঁ’ ভোটের স্লোগানে মাঠ মুখরিত করে তোলেন। জামায়াত আমির একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যশোরবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে অংশ নেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।

জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেনসহ স্থানীয় বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীরা। এছাড়াও খেলাফত মজলিস, এনসিপি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যশোর জেলার নেতৃবৃন্দ সংহতি প্রকাশ করে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।