ঢাকা ১১:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুটবল ম্যাচের বিরোধে রণক্ষেত্র ভৈরব, বন্ধ ট্রেন চলাচল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:২৮:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
  • / 14

ছবি: সংগৃহীত

 

ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সাতজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। সংঘর্ষের জেরে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এতে বিভিন্ন স্টেশনে অন্তত ছয়টি ট্রেন আটকা পড়ে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত সোয়া ৯টার দিকে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন  মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র হরিপুর, গুলিবিদ্ধ ৪, আটক ৩

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শহরের আমলাপাড়া ও জগন্নাথপুর এলাকার দুই পক্ষের মধ্যে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ দ্রুত বিস্তৃত হয়ে স্টেশন এলাকা ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষ চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠলে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটের অন্তত ছয়টি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে। মহানগর গোধূলী ট্রেনটি ভৈরব স্টেশনের আউটসাইডে অবস্থান নেয়। পারাবত এক্সপ্রেস আটকা পড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তালশহর স্টেশনে। এগারোসিন্ধুর গোধূলী ট্রেনটি নরসিংদীর দৌলতকান্দি স্টেশনে অপেক্ষমাণ রাখা হয়। নরসিংদী কমিউটার ট্রেন অবস্থান নেয় খানাবাড়ী স্টেশনে এবং একটি কন্টেইনার ট্রেন মেথিকান্দা স্টেশনে আটকা পড়ে। এছাড়া নিরাপত্তাজনিত কারণে আরও একটি যাত্রীবাহী ট্রেনকে নির্ধারিত স্টেশনে থামিয়ে রাখা হয়।

ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্টেশনে কোনো ট্রেন প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত স্টেশনের উভয় প্রান্তের আউটসাইড সিগন্যাল এলাকায় এবং নিকটবর্তী স্টেশনগুলোতে ট্রেনগুলোকে অপেক্ষমাণ রাখা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধাপে ধাপে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করা হবে।

ঘটনার খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। তবে সংঘর্ষে জড়িতদের ইটপাটকেল নিক্ষেপের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অভিযান পরিচালনায় বেগ পেতে হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ আহমেদ বলেন, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ফুটবল ম্যাচের বিরোধে রণক্ষেত্র ভৈরব, বন্ধ ট্রেন চলাচল

আপডেট সময় ০৯:২৮:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

 

ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সাতজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। সংঘর্ষের জেরে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এতে বিভিন্ন স্টেশনে অন্তত ছয়টি ট্রেন আটকা পড়ে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত সোয়া ৯টার দিকে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন  ইন্টারকে রুখে দিয়ে বোদো-গ্লিম্টের রূপকথার জয়

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শহরের আমলাপাড়া ও জগন্নাথপুর এলাকার দুই পক্ষের মধ্যে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ দ্রুত বিস্তৃত হয়ে স্টেশন এলাকা ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষ চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠলে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটের অন্তত ছয়টি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে। মহানগর গোধূলী ট্রেনটি ভৈরব স্টেশনের আউটসাইডে অবস্থান নেয়। পারাবত এক্সপ্রেস আটকা পড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তালশহর স্টেশনে। এগারোসিন্ধুর গোধূলী ট্রেনটি নরসিংদীর দৌলতকান্দি স্টেশনে অপেক্ষমাণ রাখা হয়। নরসিংদী কমিউটার ট্রেন অবস্থান নেয় খানাবাড়ী স্টেশনে এবং একটি কন্টেইনার ট্রেন মেথিকান্দা স্টেশনে আটকা পড়ে। এছাড়া নিরাপত্তাজনিত কারণে আরও একটি যাত্রীবাহী ট্রেনকে নির্ধারিত স্টেশনে থামিয়ে রাখা হয়।

ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্টেশনে কোনো ট্রেন প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত স্টেশনের উভয় প্রান্তের আউটসাইড সিগন্যাল এলাকায় এবং নিকটবর্তী স্টেশনগুলোতে ট্রেনগুলোকে অপেক্ষমাণ রাখা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধাপে ধাপে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করা হবে।

ঘটনার খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। তবে সংঘর্ষে জড়িতদের ইটপাটকেল নিক্ষেপের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অভিযান পরিচালনায় বেগ পেতে হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ আহমেদ বলেন, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।