ঢাকা ০৭:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শতকোটি মানুষের প্রাণহানি ঘটাতে পারে নিয়ন্ত্রণহীন এআই: বিল গেটস

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:০৩:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 26

ছবি: সংগৃহীত

 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত অগ্রগতির মধ্যে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি না থাকলে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। তার আশঙ্কা, শক্তিশালী এআই প্রযুক্তি ভুল হাতে পড়লে তা একশো কোটি মানুষের প্রাণহানির কারণ হতে পারে।

এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে উপস্থাপক ক্রিস্টেন ওয়েলকারের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে গেটস বলেন, এআইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ যথেষ্ট নয়। আইনপ্রণেতা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকেও এ বিষয়ে সরাসরি ভূমিকা রাখতে হবে।

আরও পড়ুন  এআই সব গণিত সমাধান করলে আমি রোমান্টিক উপন্যাস লিখব: দেং ইউর

তার মতে, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নজরদারি থাকবে, তা আইন করে বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। এতে প্রযুক্তি খাতে কিছু বাড়তি ব্যয় ও প্রশাসনিক চাপ তৈরি হতে পারে। তবে এর ফলে এআই উন্নয়নের গতি নাটকীয়ভাবে কমে যাবে না বলে মনে করেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে এআইয়ের সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়েও সতর্ক করেন গেটস। তিনি বলেন, অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কেউ সর্বাধুনিক এআই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ পেলে সেটি এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে যে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এআই নিয়ে গেটসের এমন সতর্কতা অবশ্য নতুন নয়। গত আগস্টের শেষ দিকে প্রায় ছয় হাজার শব্দের একটি দীর্ঘ প্রবন্ধেও তিনি মানবজাতির জন্য এআইয়ের সম্ভাব্য গুরুতর ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করেন।

প্রযুক্তি জগতের আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিও এআইয়ের উন্নয়নের গতি ও নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতার কথা বলেছেন। তাদের মধ্যে ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান ও ইলন মাস্কও রয়েছেন।

এদিকে সামরিক খাতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে চুক্তির কারণে বিল গেটসের প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট সমালোচনার মুখে পড়েছে। ‘নো অ্যাজুর ফর অ্যাপার্টহেইড’ নামের একটি অধিকারকামী সংগঠন প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে এ সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি জানিয়েছে।

সংগঠনটির অভিযোগ, মাইক্রোসফটের প্রযুক্তি সামরিক কার্যক্রম ও অভিবাসীদের ওপর নজরদারিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এ বিতর্কিত বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের ভিন্ন অবস্থান রয়েছে।

সাক্ষাৎকারের শেষদিকে এআই নিয়ে রসিকতাও করেন গেটস। ব্যক্তিগত কোনো বিষয়ে তিনি এআইয়ের পরামর্শ নেন না জানিয়ে প্রযুক্তিটির সঙ্গে সামাজিকতায় না যাওয়ার কথা বলেন। হাস্যরসের ছলে তিনি বলেন, ‘এআই জানে, আমি অত্যন্ত গম্ভীর একজন মানুষ।’

নিউজটি শেয়ার করুন

শতকোটি মানুষের প্রাণহানি ঘটাতে পারে নিয়ন্ত্রণহীন এআই: বিল গেটস

আপডেট সময় ০৭:০৩:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত অগ্রগতির মধ্যে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি না থাকলে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। তার আশঙ্কা, শক্তিশালী এআই প্রযুক্তি ভুল হাতে পড়লে তা একশো কোটি মানুষের প্রাণহানির কারণ হতে পারে।

এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে উপস্থাপক ক্রিস্টেন ওয়েলকারের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে গেটস বলেন, এআইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ যথেষ্ট নয়। আইনপ্রণেতা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকেও এ বিষয়ে সরাসরি ভূমিকা রাখতে হবে।

আরও পড়ুন  মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় এআই হতে পারে নির্ভরযোগ্য থেরাপিস্ট – বলছেন মার্কিন গবেষকরা

তার মতে, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নজরদারি থাকবে, তা আইন করে বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। এতে প্রযুক্তি খাতে কিছু বাড়তি ব্যয় ও প্রশাসনিক চাপ তৈরি হতে পারে। তবে এর ফলে এআই উন্নয়নের গতি নাটকীয়ভাবে কমে যাবে না বলে মনে করেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে এআইয়ের সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়েও সতর্ক করেন গেটস। তিনি বলেন, অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কেউ সর্বাধুনিক এআই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ পেলে সেটি এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে যে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এআই নিয়ে গেটসের এমন সতর্কতা অবশ্য নতুন নয়। গত আগস্টের শেষ দিকে প্রায় ছয় হাজার শব্দের একটি দীর্ঘ প্রবন্ধেও তিনি মানবজাতির জন্য এআইয়ের সম্ভাব্য গুরুতর ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করেন।

প্রযুক্তি জগতের আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিও এআইয়ের উন্নয়নের গতি ও নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতার কথা বলেছেন। তাদের মধ্যে ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান ও ইলন মাস্কও রয়েছেন।

এদিকে সামরিক খাতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে চুক্তির কারণে বিল গেটসের প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট সমালোচনার মুখে পড়েছে। ‘নো অ্যাজুর ফর অ্যাপার্টহেইড’ নামের একটি অধিকারকামী সংগঠন প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে এ সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি জানিয়েছে।

সংগঠনটির অভিযোগ, মাইক্রোসফটের প্রযুক্তি সামরিক কার্যক্রম ও অভিবাসীদের ওপর নজরদারিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এ বিতর্কিত বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের ভিন্ন অবস্থান রয়েছে।

সাক্ষাৎকারের শেষদিকে এআই নিয়ে রসিকতাও করেন গেটস। ব্যক্তিগত কোনো বিষয়ে তিনি এআইয়ের পরামর্শ নেন না জানিয়ে প্রযুক্তিটির সঙ্গে সামাজিকতায় না যাওয়ার কথা বলেন। হাস্যরসের ছলে তিনি বলেন, ‘এআই জানে, আমি অত্যন্ত গম্ভীর একজন মানুষ।’