ঢাকা ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টকশো ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থাকতে হবে: মির্জা ফখরুল রুশ তেল আমদানিতে ৬০ দিনের ‘বিশেষ ছাড়’ পেল বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৮ আরোহীর সবার মৃত্যু শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক বার্তা অস্ট্রিয়া—সংগীত, ইতিহাস ও পাহাড়ের দেশ চাঁদ জয়ের রেকর্ড গড়া নভোচারীদের, রাজকীয় সংবর্ধনা সিনেমার বাইরে বাস্তব নাটক—রোহিত শেঠির বাড়িতে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ায় অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ‘ক্লান্ত’ মির্জা ফখরুল কি তবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? গুঞ্জন ও আগামীর সমীকরণ খাবার শেষে পানি পান: উপকার নাকি ক্ষতি—চিকিৎসকরা কী বলছেন

‘আইন আজই প্রত্যাহার করতে হবে, না হলে ১৮ লাখ কর্মচারী কর্মস্থলে ফিরবে না’

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:০৩:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ মে ২০২৫
  • / 251

ছবি সংগৃহীত

 

 

‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বাতিলের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভে মুখর হয়ে উঠেছে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়। সোমবার (২৬ মে) সকাল থেকে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের উদ্যোগে জোরালো প্রতিবাদ, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন  পশ্চিম তীরে সহিংসতার পর ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহার

সকাল ১১টার দিকে পরিষদের সভাপতি মো. বাদিউল কবীর ও মহাসচিব নিজাম উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে সচিবালয়ের মূল ফটকের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি সচিবালয়ের বিভিন্ন ভবন ঘুরে প্রদক্ষিণ করে। পরে আরও একটি অংশ যোগ দেয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মো. নূরুল ইসলাম ও মো. মুজাহিদুল ইসলাম।

সমাবেশে মো. বাদিউল কবীর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এই আইন আজই প্রত্যাহার করতে হবে। না হলে ১৮ লাখ কর্মচারী কর্মস্থলে ফিরবে না। দেশের প্রতিটি দপ্তর, সংস্থা ও বিভাগে কর্মচারীদের ঐক্যবদ্ধ করে এই কালো আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।” তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে আজই আইন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বসে সমাধানের পথ বের হবে।

তিনি আরও বলেন, “প্রধান উপদেষ্টাকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছি, আজ আইন উপদেষ্টা আমাদের সঙ্গে বসবেন এবং যে সব ধারা সাধারণ কর্মচারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করে সেগুলো বাতিল করা হবে।”

পরিষদের নেতা মো. নূরুল ইসলাম বলেন, “কয়েকজন চুক্তিভিত্তিক সচিব এই আইন করে কর্মচারীদের দমন করতে চেয়েছে। জনপ্রশাসন সচিব নিজে মামলা থাকা অবস্থায় কীভাবে অফিস করেন? তিনি এই আইন করে দ্বিচারিতা করেছেন।”

তিনি দাবি করেন, এই আইন বাতিল না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে এবং জড়িত সচিবদের পদত্যাগ চাই। একইসঙ্গে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের দাবিও জানান তিনি।

পরিষদের মহাসচিব মো. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, “এই কালো আইন জনবিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত। আইন প্রত্যাহার না হলে আগামীকাল থেকে তিনদিন ছুটি নিয়ে সচিবালয়ে কর্মচারীরা অনুপস্থিত থাকবেন।”

পরিশেষে পরিষদের সভাপতি বাদিউল কবীর জানান, আজ দুপুরে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী আন্দোলনের কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে। আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বাদামতলায় কর্মচারীদের জমায়েত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

‘আইন আজই প্রত্যাহার করতে হবে, না হলে ১৮ লাখ কর্মচারী কর্মস্থলে ফিরবে না’

আপডেট সময় ০৪:০৩:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ মে ২০২৫

 

 

‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বাতিলের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভে মুখর হয়ে উঠেছে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়। সোমবার (২৬ মে) সকাল থেকে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের উদ্যোগে জোরালো প্রতিবাদ, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন  ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: তারেক রহমানের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহার

সকাল ১১টার দিকে পরিষদের সভাপতি মো. বাদিউল কবীর ও মহাসচিব নিজাম উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে সচিবালয়ের মূল ফটকের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি সচিবালয়ের বিভিন্ন ভবন ঘুরে প্রদক্ষিণ করে। পরে আরও একটি অংশ যোগ দেয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মো. নূরুল ইসলাম ও মো. মুজাহিদুল ইসলাম।

সমাবেশে মো. বাদিউল কবীর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এই আইন আজই প্রত্যাহার করতে হবে। না হলে ১৮ লাখ কর্মচারী কর্মস্থলে ফিরবে না। দেশের প্রতিটি দপ্তর, সংস্থা ও বিভাগে কর্মচারীদের ঐক্যবদ্ধ করে এই কালো আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।” তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে আজই আইন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বসে সমাধানের পথ বের হবে।

তিনি আরও বলেন, “প্রধান উপদেষ্টাকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছি, আজ আইন উপদেষ্টা আমাদের সঙ্গে বসবেন এবং যে সব ধারা সাধারণ কর্মচারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করে সেগুলো বাতিল করা হবে।”

পরিষদের নেতা মো. নূরুল ইসলাম বলেন, “কয়েকজন চুক্তিভিত্তিক সচিব এই আইন করে কর্মচারীদের দমন করতে চেয়েছে। জনপ্রশাসন সচিব নিজে মামলা থাকা অবস্থায় কীভাবে অফিস করেন? তিনি এই আইন করে দ্বিচারিতা করেছেন।”

তিনি দাবি করেন, এই আইন বাতিল না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে এবং জড়িত সচিবদের পদত্যাগ চাই। একইসঙ্গে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের দাবিও জানান তিনি।

পরিষদের মহাসচিব মো. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, “এই কালো আইন জনবিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত। আইন প্রত্যাহার না হলে আগামীকাল থেকে তিনদিন ছুটি নিয়ে সচিবালয়ে কর্মচারীরা অনুপস্থিত থাকবেন।”

পরিশেষে পরিষদের সভাপতি বাদিউল কবীর জানান, আজ দুপুরে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী আন্দোলনের কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে। আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বাদামতলায় কর্মচারীদের জমায়েত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।