ঢাকা ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বাসে পুরোনো ভাড়াই বহাল বিশ্বকাপের আর মাত্র ৫০ দিন সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক উল্টে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ৪ কিমি যানজট লোডশেডিংয়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক সচল রাখতে বিটিআরসি’র জরুরি বৈঠক আজ ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রামের পথে ‘এমটি নিনেমিয়া’ আর্সেনালকে টপকাতে, রদ্রিকে ছাড়াই মাঠে নামছে ম্যানসিটি বজ্রপাতে নিহত, লাশ চুরির আতঙ্কে রাত জেগে সন্তানের কবর পাহারা দিচ্ছেন বৃদ্ধ বাবা সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ২০ হাজার বাংলাদেশি হজযাত্রী, একজনের মৃত্যু সংরক্ষিত নারী আসনে জমা পড়া মনোনয়নপত্র বাছাই শুরু আজ ইরানের সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের

রাজনৈতিক দলসমূহ যদি সীমিত সংস্কারে রাজি হয়, তাহলে ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ, নির্ভুল ও উত্সবমুখর: প্রধান উপদেষ্টা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৩৫:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫
  • / 238

ছবি: সংগৃহীত

 

আগামী জাতীয় নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো সীমিত সংস্কারে সম্মত হলে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে। তবে বৃহৎ পরিসরে সংস্কার প্রয়োজন হলে নির্বাচন কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে।

মঙ্গলবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় মার্কিন সিনেটর গ্যারি পিটার্সের সঙ্গে বৈঠক করেন ড. ইউনূস। বৈঠকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, নির্বাচনী পরিবেশ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার উদ্যোগসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

আরও পড়ুন  জাতীয় সনদের লক্ষ্যে রাজনৈতিক সংলাপ শুরু মঙ্গলবার

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এবারের নির্বাচন অতীতের তুলনায় আরও বেশি স্বতঃস্ফূর্ত হবে। জনগণ উৎসবমুখর পরিবেশে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। রাজনৈতিক দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কমিশনের সুপারিশে একমত হলে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলার ভিত্তি তৈরি করবে।”

সিনেটর পিটার্স অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচনী পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান এবং সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রত্যাশা করে।

বৈঠকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়। পিটার্স জানান, মিশিগানে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতরা সম্প্রতি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে প্রচুর ভুল তথ্য ছড়িয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রভাব ফেলেছে।

প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। “ধর্ম, বর্ণ, জাতি, লিঙ্গ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের মানবাধিকার রক্ষায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল, ধর্মীয় নয়। সরকার দোষীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে।”

তিনি মার্কিন সিনেটরকে বাংলাদেশ সফরের আহ্বান জানান এবং অন্যান্য মার্কিন রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্টদেরও আমন্ত্রণ জানান। “যদি তারা বাংলাদেশ ভ্রমণ করেন, তাহলে এখানে ধর্মীয় সম্প্রীতির বাস্তব চিত্র দেখতে পারবেন। আমরা ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে লড়াই করছি এবং এর বিরুদ্ধে বৈশ্বিক সহযোগিতা চাই।”

বৈঠকে সামাজিক ব্যবসা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং ক্ষুদ্রঋণের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়। উভয় নেতা বিশ্বের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

রাজনৈতিক দলসমূহ যদি সীমিত সংস্কারে রাজি হয়, তাহলে ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ, নির্ভুল ও উত্সবমুখর: প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৩:৩৫:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫

 

আগামী জাতীয় নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো সীমিত সংস্কারে সম্মত হলে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে। তবে বৃহৎ পরিসরে সংস্কার প্রয়োজন হলে নির্বাচন কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে।

মঙ্গলবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় মার্কিন সিনেটর গ্যারি পিটার্সের সঙ্গে বৈঠক করেন ড. ইউনূস। বৈঠকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, নির্বাচনী পরিবেশ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার উদ্যোগসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

আরও পড়ুন  দেশের সংস্কার নিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দৃঢ় অবস্থান: “এ বছরেই নির্বাচন হবে”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এবারের নির্বাচন অতীতের তুলনায় আরও বেশি স্বতঃস্ফূর্ত হবে। জনগণ উৎসবমুখর পরিবেশে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। রাজনৈতিক দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কমিশনের সুপারিশে একমত হলে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলার ভিত্তি তৈরি করবে।”

সিনেটর পিটার্স অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচনী পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান এবং সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রত্যাশা করে।

বৈঠকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়। পিটার্স জানান, মিশিগানে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতরা সম্প্রতি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে প্রচুর ভুল তথ্য ছড়িয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রভাব ফেলেছে।

প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। “ধর্ম, বর্ণ, জাতি, লিঙ্গ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের মানবাধিকার রক্ষায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল, ধর্মীয় নয়। সরকার দোষীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে।”

তিনি মার্কিন সিনেটরকে বাংলাদেশ সফরের আহ্বান জানান এবং অন্যান্য মার্কিন রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্টদেরও আমন্ত্রণ জানান। “যদি তারা বাংলাদেশ ভ্রমণ করেন, তাহলে এখানে ধর্মীয় সম্প্রীতির বাস্তব চিত্র দেখতে পারবেন। আমরা ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে লড়াই করছি এবং এর বিরুদ্ধে বৈশ্বিক সহযোগিতা চাই।”

বৈঠকে সামাজিক ব্যবসা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং ক্ষুদ্রঋণের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়। উভয় নেতা বিশ্বের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন।