প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য তিন দেশে সফর নিয়ে আলোচনা
- আপডেট সময় ০২:৩১:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 40
অক্টোবর ও নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান, তুরস্ক ও সৌদি আরব সফরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
জাপান ও সৌদি আরবের পক্ষ থেকে দেওয়া পৃথক দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ এবং তুরস্কে অনুষ্ঠেয় কপ-৩১ সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ঢাকায় এ আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে সফরগুলোর সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
জাপানের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে সরকারি সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রাথমিক আলোচনায় অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে তার জাপান সফরের সম্ভাবনার কথা জানা গেছে।
একটি কূটনৈতিক সূত্র ইউএনবিকে জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এর আগে আগস্টে বাংলাদেশ-জাপান পররাষ্ট্র দপ্তরের পরামর্শ বৈঠকেও দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সফরসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা হয়।
ওই বৈঠকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানান।
এদিকে তুরস্কের আনতালিয়ায় আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর কপ-৩১ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে কপ-৩১ এবং এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।
এর আগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছিলেন, নভেম্বরে কপ-৩১ সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তুরস্ক সফর করবেন। সম্মেলনটি তুরস্কের আনতালিয়ায় ৯ থেকে ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে দেশটি।
সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময়ের জন্য এ আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
এর আগে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের সময় সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ আমন্ত্রণপত্রটি তার কাছে হস্তান্তর করেন। চিঠিতে সৌদি যুবরাজ দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারে সৌদি আরবের আগ্রহের কথা জানান। পারস্পরিক সুবিধাজনক সময় নির্ধারণ করা গেলে নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরব সফর করতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।
এদিকে ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নভেম্বর অথবা ডিসেম্বরের শুরুতে ভারত সফরের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। ঢাকাও দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সফরের উপযোগী পরিবেশ তৈরির বিষয়টি বিবেচনায় রাখছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত মাসে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর দ্রুত হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন এবং এ বিষয়ে তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক ও যোগাযোগের মাধ্যমে দুই দেশের যেকোনো সমস্যা সমাধানের সুযোগ রয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে সম্প্রতি নিউইয়র্ক সফর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাঁচ দিনের ওই সফরে তিনি তুরস্ক, ইরান, পাকিস্তান, ক্রোয়েশিয়া, হাইতি, ভুটান ও থাইল্যান্ডের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এ ছাড়া তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গাসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসে।






















