ঢাকা ০৯:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

আলিয়া মাদ্রাসায় সহাবস্থানে একমত ছাত্রদল-শিবির

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৫৩:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 45

ছবি সংগৃহীত

ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় হল দখলকে কেন্দ্র করে সংঘাতের পর ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে একমত হয়েছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। রোববার (৯ আগস্ট) রাতে দুই সংগঠনের সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় নেতা ও পুলিশের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত হয়।

এর আগে ৪ আগস্ট হল দখলকে কেন্দ্র করে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এরপর কয়েক দিন ধরে ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে।

লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, দুই পক্ষই ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে থাকবে। এর ফলে বর্তমানে মাদ্রাসায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুন  “শিবিরের নির্দেশে কাজ করিনি, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যাচার” — নাহিদ ইসলাম

সংঘাতের পর ক্যাম্পাসের হলগুলোতে ক্ষয়ক্ষতি ও উত্তেজনার চিত্র এখনো রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় শিক্ষার্থীরাও ধীরে ধীরে ক্যাম্পাসে ফিরতে শুরু করেছেন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার কথা জানিয়েছেন ছাত্রদল নেতারা।

একজন ছাত্রদল নেতা অভিযোগ করে বলেন, আহত হওয়ার ঘটনায় প্রিন্সিপালরা তাদের দিকে অভিযোগের তীর ছুড়ছেন। তবে তাদেরই ধাওয়া করে শিক্ষাবোর্ডের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

আরেক ছাত্রদল নেতা বলেন, অতীতের ঘটনা পেছনে ফেলে কীভাবে সবাই মিলেমিশে থাকতে পারবেন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে পারবেন, বৈঠকে মূলত সে বিষয়েই সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ছাত্রদলের আরেক নেতা বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতারা তাদের সতর্ক করেছেন। ছাত্রশিবিরের নেতারাও তাদের সঙ্গে একসঙ্গে থাকার কথা জানিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, হলের সমস্যা সমাধানসহ বিভিন্ন বিষয়ে ১১ দফা দাবি জানিয়েছে ছাত্রশিবির।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক এসএম ফরহাদ বলেন, হলে আসন বরাদ্দের ক্ষেত্রে কে ছাত্রশিবির বা ছাত্রদল করে, সেটি বিবেচনা করা হবে না। মেধার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী আসন বরাদ্দের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে অশিক্ষার্থী, অনিয়মিত শিক্ষার্থী কিংবা রাজনৈতিক সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতাদের হলে ওঠার প্রবণতা বন্ধের কথাও বলেন তিনি।

সংঘাতের পর দুই সংগঠন সমঝোতায় এলেও তাদের মধ্যে অবিশ্বাস পুরোপুরি দূর হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এখন এই সহাবস্থান কতটা স্থায়ী হয়, সেটিই দেখার বিষয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আলিয়া মাদ্রাসায় সহাবস্থানে একমত ছাত্রদল-শিবির

আপডেট সময় ০৩:৫৩:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় হল দখলকে কেন্দ্র করে সংঘাতের পর ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে একমত হয়েছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। রোববার (৯ আগস্ট) রাতে দুই সংগঠনের সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় নেতা ও পুলিশের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত হয়।

এর আগে ৪ আগস্ট হল দখলকে কেন্দ্র করে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এরপর কয়েক দিন ধরে ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে।

লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, দুই পক্ষই ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে থাকবে। এর ফলে বর্তমানে মাদ্রাসায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুন  জয়পুরহাটে বাড়ির সামনে ছাত্রদল নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

সংঘাতের পর ক্যাম্পাসের হলগুলোতে ক্ষয়ক্ষতি ও উত্তেজনার চিত্র এখনো রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় শিক্ষার্থীরাও ধীরে ধীরে ক্যাম্পাসে ফিরতে শুরু করেছেন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার কথা জানিয়েছেন ছাত্রদল নেতারা।

একজন ছাত্রদল নেতা অভিযোগ করে বলেন, আহত হওয়ার ঘটনায় প্রিন্সিপালরা তাদের দিকে অভিযোগের তীর ছুড়ছেন। তবে তাদেরই ধাওয়া করে শিক্ষাবোর্ডের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

আরেক ছাত্রদল নেতা বলেন, অতীতের ঘটনা পেছনে ফেলে কীভাবে সবাই মিলেমিশে থাকতে পারবেন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে পারবেন, বৈঠকে মূলত সে বিষয়েই সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ছাত্রদলের আরেক নেতা বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতারা তাদের সতর্ক করেছেন। ছাত্রশিবিরের নেতারাও তাদের সঙ্গে একসঙ্গে থাকার কথা জানিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, হলের সমস্যা সমাধানসহ বিভিন্ন বিষয়ে ১১ দফা দাবি জানিয়েছে ছাত্রশিবির।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক এসএম ফরহাদ বলেন, হলে আসন বরাদ্দের ক্ষেত্রে কে ছাত্রশিবির বা ছাত্রদল করে, সেটি বিবেচনা করা হবে না। মেধার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী আসন বরাদ্দের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে অশিক্ষার্থী, অনিয়মিত শিক্ষার্থী কিংবা রাজনৈতিক সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতাদের হলে ওঠার প্রবণতা বন্ধের কথাও বলেন তিনি।

সংঘাতের পর দুই সংগঠন সমঝোতায় এলেও তাদের মধ্যে অবিশ্বাস পুরোপুরি দূর হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এখন এই সহাবস্থান কতটা স্থায়ী হয়, সেটিই দেখার বিষয়।