র্যাব এর নতুন নাম এসআরবি প্রস্তাব
- আপডেট সময় ০৭:৪১:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
- / 1
আলোচিত এলিট বাহিনী র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন একটি বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন আইনের একটি প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুত করেছে, যেখানে র্যাবের পরিবর্তে বাংলাদেশ পুলিশের সহায়ক বাহিনী হিসেবে এসআরবি গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খসড়া আইনটি বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তুতিপর্বে রয়েছে। শিগগিরই এটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রাথমিক অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। পরে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে নীতিগত অনুমোদনের জন্য পুনরায় মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে।
খসড়ার প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুসংহত রাখতে বিদ্যমান র্যাব বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন গঠন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাহিনীটির নিয়ন্ত্রণ, পরিচালনা, শৃঙ্খলা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নতুন আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।
গত মাসে র্যাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও বাহিনীটির কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি মানবাধিকার সমুন্নত রাখা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আধুনিক ও পেশাদার এলিট ফোর্স গঠনের বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, অতীতে র্যাবকে কার্যকর জবাবদিহির আওতায় আনার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় বিভিন্ন বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। নতুন আইনে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার বিষয়টি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে বিশেষায়িত বাহিনীটি জনগণের সেবায় আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে।
খসড়া আইনে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন আইন কার্যকর হলে র্যাবের সব সম্পদ, অধিকার, দায়-দায়িত্ব, তহবিল, নথিপত্র, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি এবং চলমান প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসআরবির কাছে হস্তান্তর হবে। একইভাবে র্যাবের সব কর্মকর্তা, সদস্য ও কর্মচারী এসআরবির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং তাদের চাকরির শর্তও বহাল থাকবে, যতক্ষণ না নতুন বিধান কার্যকর হয়।
নতুন বাহিনীর দায়িত্বের মধ্যে থাকবে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান, সন্ত্রাস দমন এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা প্রদান। পাশাপাশি সরকার বা আদালতের নির্দেশে বিশেষ তদন্ত ও দায়িত্ব পালনও করবে বাহিনীটি।
খসড়া অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এসআরবিকে প্রবেশ, তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও দেওয়া হবে। সন্ত্রাসী কার্যক্রম, অবৈধ অস্ত্র, বিস্ফোরক, মাদক কিংবা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধের সন্দেহে প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনা করতে পারবে বাহিনীটি।
মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, র্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে বাহিনীটির দক্ষ জনবল ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডও রয়েছে। তাই তিনি নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
২০০৪ সালে গঠিত র্যাব বাংলাদেশ পুলিশের অধীন পরিচালিত একটি বিশেষ বাহিনী। পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড এবং আনসার-ভিডিপির সদস্যদের সমন্বয়ে বাহিনীটি গঠন করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সন্ত্রাসবিরোধী বিভিন্ন অভিযানে ভূমিকা রাখলেও ক্রসফায়ার, গুম এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহলে সমালোচনার মুখে পড়ে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থা এবং গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে র্যাবের কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে বাহিনীটির বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সংস্কার কিংবা বিলুপ্তির সুপারিশও করা হয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে সরকার এখন বিদ্যমান র্যাবের পরিবর্তে নতুন কাঠামো ও আইনি ভিত্তিতে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।























