ঢাকা ০৬:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঐতিহ্যিক উৎসবের আবহে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ বরণ করছে দেশ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:৩৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / 26

ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি

 

বৈশাখী শোভাযাত্রা ও ছায়ানটের সুরে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।

চৈত্রের খরতাপ শেষে নতুনের কেতন উড়িয়ে দুয়ারে হাজির ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। অতীতের সব গ্লানি ও জীর্ণতা মুছে নতুনের আহ্বানে আজ সারা দেশ মেতে উঠবে বর্ষবরণ উৎসবে। গ্রাম থেকে শহর, পাহাড় থেকে সমতল—সর্বত্রই এখন বৈশাখী উন্মাদনা। এবারের নববর্ষ উদযাপনে মূল সুর হিসেবে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও গণতন্ত্র পুনরুত্থানের জোরালো বার্তা। রমনা বটমূল থেকে চারুকলা, প্রতিটি প্রাঙ্গণ সাজানো হয়েছে বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য ও বর্তমান রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাকে সঙ্গী করে।

আরও পড়ুন  বাংলা নববর্ষে ড্রোন শোতে গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি আনন্দময় ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। এবারের বর্ষবরণের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়াম থেকে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এই যুগান্তকারী প্রকল্পের আওতায় দেশের ২০ হাজার ৬৭১ জন ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকের হাতে বিশেষ কার্ড তুলে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা বার্ষিক আর্থিক সুবিধাসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা লাভ করবেন।

অন্যদিকে, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কেন্দ্রবিন্দু রমনা বটমূলে ভোরের সূর্য ওঠার সাথে সাথেই শুরু হবে ছায়ানটের ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। ‘অন্ধকারের অর্গল খুলে, আলোর ভুবনে যাত্রা’—এই প্রতিপাদ্যে প্রায় দুইশ শিল্পী সম্মিলিত কণ্ঠে গেয়ে উঠবেন নতুনের জয়গান। ছায়ানটের এবারের আয়োজনে বিশ্বশান্তি কামনার পাশাপাশি ব্রিটিশবিরোধী ও পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলনের বীরদের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হবে।

বর্ষবরণের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ চারুকলা অনুষদের শোভাযাত্রাটি এবার ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে অনুষ্ঠিত হবে। ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবার শোভাযাত্রায় থাকছে মোরগ, হাতি, পায়রা, দোতারা ও ঘোড়ার মতো পাঁচটি মূল মোটিফ।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, গত ১৮ বছরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট শেষে দেশে যে নতুন ভোরে গণতন্ত্রের সূর্য উদিত হয়েছে, তার প্রতীক হিসেবেই এবার ‘মোরগ’কে প্রধান মোটিফ করা হয়েছে।

এছাড়া বৈশাখী মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুখর থাকবে বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণ। ঢাকার বাইরেও চট্টগ্রাম, যশোর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ কমিশনার মো. সারোয়ার জানিয়েছেন, রমনা পার্কসহ সকল অনুষ্ঠানস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকবে।

তবে জননিরাপত্তার স্বার্থে সকল অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে মুখোশ, বড় ব্যাগ বা দাহ্য পদার্থ বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং শব্দ দূষণ রোধে বাঁশি ও আতশবাজি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, কঠোর নিরাপত্তা আর উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে বরণ করে নিতে আজ প্রস্তুত গোটা বাংলাদেশ।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ঐতিহ্যিক উৎসবের আবহে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ বরণ করছে দেশ

আপডেট সময় ০৮:৩৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

 

বৈশাখী শোভাযাত্রা ও ছায়ানটের সুরে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।

চৈত্রের খরতাপ শেষে নতুনের কেতন উড়িয়ে দুয়ারে হাজির ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। অতীতের সব গ্লানি ও জীর্ণতা মুছে নতুনের আহ্বানে আজ সারা দেশ মেতে উঠবে বর্ষবরণ উৎসবে। গ্রাম থেকে শহর, পাহাড় থেকে সমতল—সর্বত্রই এখন বৈশাখী উন্মাদনা। এবারের নববর্ষ উদযাপনে মূল সুর হিসেবে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও গণতন্ত্র পুনরুত্থানের জোরালো বার্তা। রমনা বটমূল থেকে চারুকলা, প্রতিটি প্রাঙ্গণ সাজানো হয়েছে বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য ও বর্তমান রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাকে সঙ্গী করে।

আরও পড়ুন  বাংলা নববর্ষে ড্রোন শোতে গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি আনন্দময় ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। এবারের বর্ষবরণের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়াম থেকে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এই যুগান্তকারী প্রকল্পের আওতায় দেশের ২০ হাজার ৬৭১ জন ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকের হাতে বিশেষ কার্ড তুলে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা বার্ষিক আর্থিক সুবিধাসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা লাভ করবেন।

অন্যদিকে, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কেন্দ্রবিন্দু রমনা বটমূলে ভোরের সূর্য ওঠার সাথে সাথেই শুরু হবে ছায়ানটের ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। ‘অন্ধকারের অর্গল খুলে, আলোর ভুবনে যাত্রা’—এই প্রতিপাদ্যে প্রায় দুইশ শিল্পী সম্মিলিত কণ্ঠে গেয়ে উঠবেন নতুনের জয়গান। ছায়ানটের এবারের আয়োজনে বিশ্বশান্তি কামনার পাশাপাশি ব্রিটিশবিরোধী ও পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলনের বীরদের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হবে।

বর্ষবরণের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ চারুকলা অনুষদের শোভাযাত্রাটি এবার ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে অনুষ্ঠিত হবে। ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবার শোভাযাত্রায় থাকছে মোরগ, হাতি, পায়রা, দোতারা ও ঘোড়ার মতো পাঁচটি মূল মোটিফ।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, গত ১৮ বছরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট শেষে দেশে যে নতুন ভোরে গণতন্ত্রের সূর্য উদিত হয়েছে, তার প্রতীক হিসেবেই এবার ‘মোরগ’কে প্রধান মোটিফ করা হয়েছে।

এছাড়া বৈশাখী মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুখর থাকবে বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণ। ঢাকার বাইরেও চট্টগ্রাম, যশোর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ কমিশনার মো. সারোয়ার জানিয়েছেন, রমনা পার্কসহ সকল অনুষ্ঠানস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকবে।

তবে জননিরাপত্তার স্বার্থে সকল অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে মুখোশ, বড় ব্যাগ বা দাহ্য পদার্থ বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং শব্দ দূষণ রোধে বাঁশি ও আতশবাজি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, কঠোর নিরাপত্তা আর উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে বরণ করে নিতে আজ প্রস্তুত গোটা বাংলাদেশ।