ঢাকা ০৬:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরিবারের ৪ জনকে কুপিয়ে জখম, প্রাণ গেল কলেজছাত্রী দিয়ার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৩৯:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / 21

ছবি সংগৃহীত

 

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে এক ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এক ঠিকাদারের এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাতে একই পরিবারের চার সদস্য গুরুতর জখম হয়েছেন, যাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন দিয়া আক্তার (২০) নামে এক কলেজছাত্রী। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোররাতে যাত্রাবাড়ীর কাজলা ভাঙা প্রেস এলাকায় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় এক নারীর হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আরও দুই শিশু-কিশোর গুরুতর আহত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জনৈক নবীউল্লাহর কাছে জনৈক ঠিকাদার আবু মুসা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পাওনা ছিলেন। সেই টাকা আদায়ের দাবি নিয়ে মঙ্গলবার ভোরে নবীউল্লাহর বাসভবনে যান মুসা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, টাকা নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে এই বিবাদ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।

আহতদের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, আলোচনার শুরুতে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নবীউল্লাহ ক্ষিপ্ত হয়ে আবু মুসাকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিক্রিয়ায় আবু মুসা তার কাছে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর চড়াও হন।

হামলার একপর্যায়ে আবু মুসা ধারালো অস্ত্র দিয়ে নবীউল্লাহর স্ত্রী মৌসুমী আক্তারকে (৩৫) লক্ষ্য করে আঘাত করেন। এতে তার বাম হাতের কবজি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ সময় মাকে বাঁচাতে তার বড় মেয়ে শেখ বোরহান উদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থী দিয়া আক্তার (২০) এগিয়ে এলে তাকেও উপর্যুপরি কুপিয়ে জখম করা হয়।

দিয়াকে রক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে হামলার শিকার হয় তার ছোট বোন জয়া (১২) ও ভাই মুয়াজ (১৫)। অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের দুজনকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

আহত চারজনকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দিয়া আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণই তার মৃত্যুর কারণ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে, আহত মৌসুমী আক্তারের অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

ঘটনায় অভিযুক্ত ঠিকাদার আবু মুসাও ওই সংঘর্ষে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি পুলিশি পাহারায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সুস্থ হওয়ার পর তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হবে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত তরুণীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে এবং হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার মূল কারণ উদঘাটন এবং হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে। ভোরের এই নৃশংস ঘটনার পর কাজলা ভাঙা প্রেস এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাওনা টাকার বাইরে অন্য কোনো পূর্বশত্রুতা বা বিরোধ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনার সময় অন্য কেউ প্ররোচনা দিয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

পরিবারের ৪ জনকে কুপিয়ে জখম, প্রাণ গেল কলেজছাত্রী দিয়ার

আপডেট সময় ০১:৩৯:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

 

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে এক ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এক ঠিকাদারের এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাতে একই পরিবারের চার সদস্য গুরুতর জখম হয়েছেন, যাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন দিয়া আক্তার (২০) নামে এক কলেজছাত্রী। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোররাতে যাত্রাবাড়ীর কাজলা ভাঙা প্রেস এলাকায় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় এক নারীর হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আরও দুই শিশু-কিশোর গুরুতর আহত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জনৈক নবীউল্লাহর কাছে জনৈক ঠিকাদার আবু মুসা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পাওনা ছিলেন। সেই টাকা আদায়ের দাবি নিয়ে মঙ্গলবার ভোরে নবীউল্লাহর বাসভবনে যান মুসা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, টাকা নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে এই বিবাদ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।

আহতদের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, আলোচনার শুরুতে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নবীউল্লাহ ক্ষিপ্ত হয়ে আবু মুসাকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিক্রিয়ায় আবু মুসা তার কাছে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর চড়াও হন।

হামলার একপর্যায়ে আবু মুসা ধারালো অস্ত্র দিয়ে নবীউল্লাহর স্ত্রী মৌসুমী আক্তারকে (৩৫) লক্ষ্য করে আঘাত করেন। এতে তার বাম হাতের কবজি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ সময় মাকে বাঁচাতে তার বড় মেয়ে শেখ বোরহান উদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থী দিয়া আক্তার (২০) এগিয়ে এলে তাকেও উপর্যুপরি কুপিয়ে জখম করা হয়।

দিয়াকে রক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে হামলার শিকার হয় তার ছোট বোন জয়া (১২) ও ভাই মুয়াজ (১৫)। অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের দুজনকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

আহত চারজনকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দিয়া আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণই তার মৃত্যুর কারণ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে, আহত মৌসুমী আক্তারের অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

ঘটনায় অভিযুক্ত ঠিকাদার আবু মুসাও ওই সংঘর্ষে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি পুলিশি পাহারায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সুস্থ হওয়ার পর তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হবে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত তরুণীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে এবং হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার মূল কারণ উদঘাটন এবং হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে। ভোরের এই নৃশংস ঘটনার পর কাজলা ভাঙা প্রেস এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাওনা টাকার বাইরে অন্য কোনো পূর্বশত্রুতা বা বিরোধ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনার সময় অন্য কেউ প্ররোচনা দিয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হবে।