ঢাকা ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

লন্ডনে শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্টদের ১৪০০ কোটি টাকার সম্পত্তি জব্দ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:১৯:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ মে ২০২৫
  • / 581

ছবি সংগৃহীত

 

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) বাংলাদেশের সাবেক ক্ষমতাসীনদের মালিকানাধীন বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এনসিএ ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের ছেলে শায়ান এফ রহমানের লন্ডনের দুটি সম্পত্তি জব্দ করেছে। পাশাপাশি আরও সাতটি সম্পত্তির বিরুদ্ধে জব্দের আদেশ পেয়েছে সংস্থাটি।

শনিবার (২৪ মে) ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মালিকানাধীন প্রায় ৯০ মিলিয়ন পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪০০ কোটি টাকা) মূল্যের সম্পদ জব্দের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  কোস্টগার্ডের অভিযানে পাথরঘাটায় ৯০ কেজি হরিণের মাংসসহ ট্রলার জব্দ

শায়ান এফ রহমানের জব্দ হওয়া দুটি সম্পত্তির একটি অবস্থিত লন্ডনের অন্যতম অভিজাত এলাকা ১৭ গ্রোভনার স্কয়ারে একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট, যা ২০১০ সালে ৬.৫ মিলিয়ন পাউন্ডে কেনা হয়। অপরটি হলো উত্তর লন্ডনের গ্রেশাম গার্ডেনসে অবস্থিত একটি বাড়ি, যার মূল্য ছিল ১.২ মিলিয়ন পাউন্ড (ক্রয়কাল ২০১১)।

ফিনান্সিয়াল টাইমস-এর বরাতে গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গ্রেশাম গার্ডেনসের বাড়িটিতে শেখ হাসিনার বোন ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের মা শেখ রেহানা বসবাস করতেন।

সালমান এফ রহমান বাংলাদেশে শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে বহুবছর দায়িত্ব পালন করেন এবং তাকে দেশের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা হতো। দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এর আগে নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে।

গত বছর গার্ডিয়ান ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল-ইউকের যৌথ তদন্তে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠদের মালিকানাধীন প্রায় ৪০০ মিলিয়ন পাউন্ডের সম্পত্তির তথ্য প্রকাশিত হয়, যেখানে শায়ান ও তার আত্মীয়দের নাম উঠে আসে।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল-ইউকের নীতি পরিচালক ডানকান হেমস বলেন, “আমরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি তারা যেন দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে এবং সন্দেহভাজন সকল সম্পদ জব্দ করে।”

এনসিএ-এর এক মুখপাত্র গার্ডিয়ানকে বলেন, “আমরা নিশ্চিত করছি যে, সিভিল তদন্তের অংশ হিসেবে এনসিএ বেশ কিছু সম্পত্তি জব্দের আদেশ পেয়েছে এবং কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।”

এ নিয়ে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি রাজনৈতিক পরিবারের সম্পত্তি বিষয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

লন্ডনে শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্টদের ১৪০০ কোটি টাকার সম্পত্তি জব্দ

আপডেট সময় ০৩:১৯:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ মে ২০২৫

 

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) বাংলাদেশের সাবেক ক্ষমতাসীনদের মালিকানাধীন বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এনসিএ ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের ছেলে শায়ান এফ রহমানের লন্ডনের দুটি সম্পত্তি জব্দ করেছে। পাশাপাশি আরও সাতটি সম্পত্তির বিরুদ্ধে জব্দের আদেশ পেয়েছে সংস্থাটি।

শনিবার (২৪ মে) ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মালিকানাধীন প্রায় ৯০ মিলিয়ন পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪০০ কোটি টাকা) মূল্যের সম্পদ জব্দের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  এনায়েত উল্লাহ ও পরিবারের ১৯০টি যানবাহন জব্দের নির্দেশ

শায়ান এফ রহমানের জব্দ হওয়া দুটি সম্পত্তির একটি অবস্থিত লন্ডনের অন্যতম অভিজাত এলাকা ১৭ গ্রোভনার স্কয়ারে একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট, যা ২০১০ সালে ৬.৫ মিলিয়ন পাউন্ডে কেনা হয়। অপরটি হলো উত্তর লন্ডনের গ্রেশাম গার্ডেনসে অবস্থিত একটি বাড়ি, যার মূল্য ছিল ১.২ মিলিয়ন পাউন্ড (ক্রয়কাল ২০১১)।

ফিনান্সিয়াল টাইমস-এর বরাতে গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গ্রেশাম গার্ডেনসের বাড়িটিতে শেখ হাসিনার বোন ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের মা শেখ রেহানা বসবাস করতেন।

সালমান এফ রহমান বাংলাদেশে শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে বহুবছর দায়িত্ব পালন করেন এবং তাকে দেশের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা হতো। দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এর আগে নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে।

গত বছর গার্ডিয়ান ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল-ইউকের যৌথ তদন্তে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠদের মালিকানাধীন প্রায় ৪০০ মিলিয়ন পাউন্ডের সম্পত্তির তথ্য প্রকাশিত হয়, যেখানে শায়ান ও তার আত্মীয়দের নাম উঠে আসে।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল-ইউকের নীতি পরিচালক ডানকান হেমস বলেন, “আমরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি তারা যেন দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে এবং সন্দেহভাজন সকল সম্পদ জব্দ করে।”

এনসিএ-এর এক মুখপাত্র গার্ডিয়ানকে বলেন, “আমরা নিশ্চিত করছি যে, সিভিল তদন্তের অংশ হিসেবে এনসিএ বেশ কিছু সম্পত্তি জব্দের আদেশ পেয়েছে এবং কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।”

এ নিয়ে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি রাজনৈতিক পরিবারের সম্পত্তি বিষয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে।