ঢাকা ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

রাশিয়াকে নিয়ে বক্তব্যে ইউরোপীয় দেশগুলোকে সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:০৬:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 24

ছবি সংগৃহীত

 

রাশিয়াকে ঘিরে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে ন্যাটোভুক্ত কয়েকটি দেশকে সংযত থাকার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। ইউরোপীয় নেতাদের কিছু মন্তব্য আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ওয়াশিংটন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চার ব্যক্তির বরাত দিয়ে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রগুলো জানায়, লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়াসহ কয়েকটি দেশকে রাশিয়াকে নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে বলেছে পেন্টাগন। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে এসব বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে ইউরোপের অন্য দেশগুলোর সরকারকেও একই ধরনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন  "যুক্তরাষ্ট্রে ডিমের দাম রেকর্ড উচ্চতায়, প্রতি ডজন ৬.২৩ ডলার"

এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা বলেন, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা একান্তই অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাই এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করবেন না।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানায়, ইউরোপীয় নেতাদের কিছু বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের নজরে এসেছে। এসব বক্তব্যে বলা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা করতে না পেরে রাশিয়া ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।

জানা গেছে, ইউরোপে মার্কিন সেনা মোতায়েনের সংখ্যা নিয়ে কাজ করা পেন্টাগনের নীতিবিষয়ক প্রধান এলব্রিজ কোলবির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে সতর্কবার্তা পৌঁছানো হয়েছে। তবে এ উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের আর কোন কোন কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি রয়টার্স।

রাশিয়ার হুমকি মোকাবিলায় ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর করণীয় নিয়ে জোটের সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এক পক্ষের ধারণা, মস্কোর কর্মকাণ্ড নিয়ে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখালে তাতে রাশিয়ার কৌশলই সফল হতে পারে। তাদের আশঙ্কা, ইউরোপজুড়ে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে ইউক্রেনের প্রতি পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন দুর্বল করাই ক্রেমলিনের অন্যতম লক্ষ্য।

অন্য পক্ষ মনে করে, রাশিয়ার হুমকি সম্পর্কে ইউরোপীয় সরকারগুলোর নিজ নিজ দেশের জনগণের কাছে স্বচ্ছ থাকা প্রয়োজন। মস্কোর প্রভাব মোকাবিলায় কী ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতে হতে পারে এবং প্রতিরক্ষা খাতে কতটা সম্পদ ব্যয় করা প্রয়োজন, সে বিষয়ে নাগরিকদের স্পষ্ট ধারণা দেওয়া জরুরি।

বিশেষ করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রাশিয়ার কথিত গোপন তৎপরতা এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রচেষ্টার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

তবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের গোপন অভিযান পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে রাশিয়া।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

রাশিয়াকে নিয়ে বক্তব্যে ইউরোপীয় দেশগুলোকে সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় ০৯:০৬:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

 

রাশিয়াকে ঘিরে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে ন্যাটোভুক্ত কয়েকটি দেশকে সংযত থাকার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। ইউরোপীয় নেতাদের কিছু মন্তব্য আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ওয়াশিংটন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চার ব্যক্তির বরাত দিয়ে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রগুলো জানায়, লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়াসহ কয়েকটি দেশকে রাশিয়াকে নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে বলেছে পেন্টাগন। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে এসব বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে ইউরোপের অন্য দেশগুলোর সরকারকেও একই ধরনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন  সরকারি সফরে রাশিয়া গেলেন সেনাবাহিনী প্রধান, পরবর্তী গন্তব্য ক্রোয়েশিয়া

এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা বলেন, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা একান্তই অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাই এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করবেন না।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানায়, ইউরোপীয় নেতাদের কিছু বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের নজরে এসেছে। এসব বক্তব্যে বলা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা করতে না পেরে রাশিয়া ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।

জানা গেছে, ইউরোপে মার্কিন সেনা মোতায়েনের সংখ্যা নিয়ে কাজ করা পেন্টাগনের নীতিবিষয়ক প্রধান এলব্রিজ কোলবির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে সতর্কবার্তা পৌঁছানো হয়েছে। তবে এ উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের আর কোন কোন কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি রয়টার্স।

রাশিয়ার হুমকি মোকাবিলায় ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর করণীয় নিয়ে জোটের সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এক পক্ষের ধারণা, মস্কোর কর্মকাণ্ড নিয়ে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখালে তাতে রাশিয়ার কৌশলই সফল হতে পারে। তাদের আশঙ্কা, ইউরোপজুড়ে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে ইউক্রেনের প্রতি পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন দুর্বল করাই ক্রেমলিনের অন্যতম লক্ষ্য।

অন্য পক্ষ মনে করে, রাশিয়ার হুমকি সম্পর্কে ইউরোপীয় সরকারগুলোর নিজ নিজ দেশের জনগণের কাছে স্বচ্ছ থাকা প্রয়োজন। মস্কোর প্রভাব মোকাবিলায় কী ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতে হতে পারে এবং প্রতিরক্ষা খাতে কতটা সম্পদ ব্যয় করা প্রয়োজন, সে বিষয়ে নাগরিকদের স্পষ্ট ধারণা দেওয়া জরুরি।

বিশেষ করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রাশিয়ার কথিত গোপন তৎপরতা এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রচেষ্টার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

তবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের গোপন অভিযান পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে রাশিয়া।