হুতিদের ঠেকাতে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চায় সৌদি জোট
- আপডেট সময় ০১:০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / 19
লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে ইরান-সমর্থিত হুতি বাহিনীর সামরিক তৎপরতা ও মাইন স্থাপনের অভিযোগ তুলে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চেয়েছে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার। সামুদ্রিক পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন এলাকায় পুঁতে রাখা মাইন অপসারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত পদক্ষেপ চেয়েছে দেশটি।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইয়েমেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় হুতিদের মাইন স্থাপনের তৎপরতা বন্ধে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
ইয়েমেন সরকারের পক্ষ থেকে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আবাসিক প্রতিনিধির কাছে ইতিমধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি পাঠানো হয়েছে। এতে সামুদ্রিক এলাকা ছাড়াও গ্রাম, জনবসতি, কৃষিজমি ও সংযোগ সড়কে ছদ্মবেশী অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন পুঁতে রাখার জন্য হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার বলছে, এসব মাইনের কারণে বেসামরিক মানুষের জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, পাহাড়, বাড়িঘর ও মানুষের চলাচলের পথে মাইন পুঁতে রাখার কারণে ইয়েমেন বিশ্বের অন্যতম মাইনদূষিত দেশে পরিণত হয়েছে। এসব অবিস্ফোরিত মাইনে নারী ও শিশুসহ সাধারণ মানুষ হতাহত হচ্ছেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এ পরিস্থিতিতে সামুদ্রিক পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত বেসামরিক এলাকা থেকে মাইন অপসারণ কার্যক্রম জোরদার এবং হতাহত ব্যক্তিদের পরিবারকে মানবিক সহায়তা দিতে ইউএনডিপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইয়েমেন সরকার।
লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হুতি বাহিনীর তৎপরতা সৌদি আরবের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে তেল ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা হয়।
এর আগে, জ্বালানি স্থাপনা, বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা বন্ধের বিনিময়ে হুতিদের ১০০ কোটি ডলারের আর্থিক প্যাকেজ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল সৌদি আরব। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান তেহরানে একটি সি-১৩০ সামরিক পরিবহন বিমানে করে ওই অর্থ নিয়ে যান। তবে হুতিরা প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছে কি না, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি।
এর আগে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্ত হতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল সৌদি আরব। এ বিষয়ে ইসরায়েলের সঙ্গেও যোগাযোগ করে দেশটি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, হুতিদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের একটি চুক্তি হয়েছে। ওই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, হুতিরা লোহিত সাগর বা বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী মার্কিন পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাবে না। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতে জড়াবে না।
সূত্র: ফক্স নিউজ
























