হরমুজে মাইনে বিস্ফোরণ, চার তেলবাহী জাহাজে আগুন
- আপডেট সময় ১১:৩৮:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
- / 18
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় সাগরে পুঁতে রাখা মাইনে আঘাত লেগে চারটি তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ থেকে তারা মাইন অপসারণ করেছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলের অননুমোদিত পথ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করার সময় তিনটি তেলবাহী জাহাজ সাগরে পুঁতে রাখা মাইনে আঘাত পায়। এতে জাহাজগুলোতে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়।
পরে বৃহস্পতিবার ইরানের সেনাবাহিনী জানায়, প্রণালির পূর্বাঞ্চলে আরও একটি তেলবাহী জাহাজ মাইন বিস্ফোরণের শিকার হয়েছে। জাহাজটি নিষিদ্ধ ও বিপজ্জনক এলাকায় চলাচল করছিল বলে দাবি করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম তিনটি জাহাজ তাদের রাডার ও নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ রেখেছিল। এ ছাড়া আইআরজিসি নৌবাহিনীর দেওয়া সতর্কবার্তাও তারা উপেক্ষা করে। তবে এসব ঘটনার সুনির্দিষ্ট সময় এবং জাহাজগুলোর পতাকাবাহী দেশ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জানিয়েছে, ওমানের খাসাব উপকূল থেকে প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল বা ৪৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে আগুন লাগার খবর তারা পেয়েছে।
এর আগে একই এলাকায় আরও দুটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা ঘটনার তথ্য দিয়েছিল সংস্থাটি। এর একটিতে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনার পর আগুন ধরে একটি ঐতিহ্যবাহী আরবীয় নৌযান ডুবে যায়। অন্য ঘটনায় হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় অজ্ঞাত কোনো বস্তু বা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গত কয়েক সপ্তাহে ইরান একাধিক জাহাজ সাগরে পুঁতে রাখা মাইনে আঘাত পাওয়ার খবর দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক মাধ্যমে দাবি করে, নৌযান চলাচলের প্রধান পথগুলো থেকে সব মাইন অপসারণ করা হয়েছে।
তবে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের এ দাবি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের দাবির পক্ষে শুধু বিবৃতি নয়, স্বাধীন প্রমাণ দেখাতে হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে ইরান। বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করেছে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করছে। রোববার সেন্টকম জানায়, গ্রীষ্মকাল থেকে এ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর ১৫০ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানিতে সহায়তা করেছে তারা।
ইরানের দাবি, ওমান উপকূলঘেঁষা দক্ষিণাঞ্চলীয় করিডর দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি নেই। বৃহস্পতিবারের বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, হরমুজ প্রণালির অননুমোদিত পথ মাইন পুঁতে বিপজ্জনক করে রাখা হয়েছে। এসব পথে চলাচলের দায় জাহাজের মালিক ও নাবিকদের। সেন্টকমের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিভ্রান্তিকর দাবিতে কান না দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠনটি।
এদিকে পৃথক এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা ড্রোন জব্দ করার দাবিও করেছে আইআরজিসি। তাদের ভাষ্য, হরমুজ প্রণালির পশ্চিমাঞ্চলে এক অভিযানে আইআরজিসি নৌবাহিনীর ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিট যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউএম-১৭০ মডেলের একটি ড্রোন জব্দ করেছে।
সূত্র: আলজাজিরা






















