মণিপুরে ৩১ অক্টোবর মহাসমাবেশের ডাক
- আপডেট সময় ০৯:০৪:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
- / 13
কুকিদের সঙ্গে হওয়া সংঘর্ষবিরতি চুক্তি বাতিল, চলমান সংঘাতের অবসান এবং বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসনের দাবিতে ভারতের মণিপুর রাজ্যে ৩১ অক্টোবর মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে একাধিক সংগঠন। রাজধানী ইম্ফলে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে চায় সংগঠনগুলো।
মহাসমাবেশের ডাক দেওয়া সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে কোঅর্ডিনেটিং কমিটি অন মণিপুর ইন্টেগ্রিটি (কোকোমি), জয়েন্ট ট্রাইব কাউন্সিল, নাগা হিউম্যানিটারিয়ান এইড কমিটি, ফুটহিলস নাগা কোঅর্ডিনেশন কমিটি এবং নাগা পিপলস ইউনিয়ন। ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিলও কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। একই সঙ্গে আসাম রাইফেলসের পরিবর্তে অন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি তুলেছে সংগঠনটি।
এদিকে কাংপোকপির সিংদাই এলাকার শতাধিক বাস্তুচ্যুত মানুষ এবং কুকি-জো নারীরা তিন কুকির নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। খোংবাল এলাকায় তিন মেইতেই কাঠুরিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর মধ্যে পৃথক প্রশাসনের দাবিতে নিজেদের অবস্থান আরও জোরালো করেছে কুকি-জো কাউন্সিল। সংগঠনটির দাবি, ২০২৩ সালের মে মাস থেকে এ পর্যন্ত আড়াইশোর বেশি কুকি-জো নিহত হয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ। সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগও তুলেছে তারা।
কুকিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক সংলাপে অগ্রগতি না হলে কুকি-জো বিধায়কদের সরকার থেকে সরে আসার আহ্বান জানানো হতে পারে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
মণিপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে নাগা উপমুখ্যমন্ত্রী লোসি দিখোর এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। তিনি অভিযোগ করেছেন, সহ-উপমুখ্যমন্ত্রী নেমচা কিপগেনের স্বামীর নেতৃত্বাধীন কুকি ন্যাশনাল ফ্রন্ট ছয় নাগা ব্যক্তির হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল।
দিখো বলেন, আটজন নাগা বিধায়ক ইতোমধ্যে নেমচা কিপগেনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া এবং কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে হওয়া সংঘর্ষবিরতি চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সহিংসতা অব্যাহত থাকলে আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচন আয়োজন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
অন্যদিকে, রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে ইম্ফল সফর করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) মহাপরিচালক জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং। সফরে তিনি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
পরে সিআরপিএফপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন আসাম রাইফেলসের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিকাশ লাখেরা। দুই বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় এবং যৌথ অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নিয়ে তাদের আলোচনা হয়।
এ ছাড়া তেংনৌপাল জেলার মোরে ও চংজাং এলাকা পরিদর্শন করেন লাখেরা। এ সময় ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের অগ্রগতি এবং সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন তিনি।























