ঢাকা ১২:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

রমজানে পণ্যের সংকট হবে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:১৯:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 18

ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং বাজারে কোনো সংকট তৈরি হবে না বলে জানিয়েছেন শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল ও চিনিসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করতে আমদানির পাইপলাইনে যথেষ্ট পণ্য রয়েছে। একই সঙ্গে আপাতত ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলাসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন  আসন্ন রমজান মাসে ৫০ লাখ পরিবারকে ৩০ টাকা কেজিতে চাল দেবে সরকার: খাদ্য উপদেষ্টা

রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমদানিনির্ভর পণ্যগুলোর সরবরাহ এবং আসন্ন রমজানে সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত পণ্য আমদানির পাইপলাইনে রয়েছে। এই পরিমাণ পণ্য বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য যথেষ্ট বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রমজানের আগে, চলাকালে কিংবা পরে বাজারে কোনো পণ্যের ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা নেই।

ভোজ্যতেলের দাম সমন্বয়ে ব্যবসায়ীদের কোনো প্রস্তাব রয়েছে কি না এবং রমজানের আগে তেলের দাম বাড়ানো হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ মুহূর্তে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার দাম কিছুটা বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র বা এলসি খোলার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়ছেন কি না, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বড় ধরনের কোনো প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে কোনো আমদানিকারক এলসির মার্জিন বা অন্য কোনো ব্যাংকিং জটিলতার মুখে পড়লে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া প্রথম দফার আলোচনা দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আলোচনা এগিয়ে নিয়ে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মালয়েশিয়ার সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, ওমান, নিউজিল্যান্ড ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গেও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা চলছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কমুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা ধরে রাখা দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করা বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে এ ধরনের চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

রমজানে পণ্যের সংকট হবে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় ১১:১৯:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং বাজারে কোনো সংকট তৈরি হবে না বলে জানিয়েছেন শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল ও চিনিসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করতে আমদানির পাইপলাইনে যথেষ্ট পণ্য রয়েছে। একই সঙ্গে আপাতত ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলাসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন  রমজানে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে কর্মকর্তাদের প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশ

রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমদানিনির্ভর পণ্যগুলোর সরবরাহ এবং আসন্ন রমজানে সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত পণ্য আমদানির পাইপলাইনে রয়েছে। এই পরিমাণ পণ্য বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য যথেষ্ট বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রমজানের আগে, চলাকালে কিংবা পরে বাজারে কোনো পণ্যের ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা নেই।

ভোজ্যতেলের দাম সমন্বয়ে ব্যবসায়ীদের কোনো প্রস্তাব রয়েছে কি না এবং রমজানের আগে তেলের দাম বাড়ানো হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ মুহূর্তে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার দাম কিছুটা বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র বা এলসি খোলার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়ছেন কি না, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বড় ধরনের কোনো প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে কোনো আমদানিকারক এলসির মার্জিন বা অন্য কোনো ব্যাংকিং জটিলতার মুখে পড়লে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া প্রথম দফার আলোচনা দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আলোচনা এগিয়ে নিয়ে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মালয়েশিয়ার সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, ওমান, নিউজিল্যান্ড ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গেও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা চলছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কমুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা ধরে রাখা দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করা বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে এ ধরনের চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।