ঢাকা ০৪:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুর্দিস্তান থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:০৩:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 34

ছবি: সংগৃহীত

ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চল থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে থাকা আন্তর্জাতিক সামরিক জোটের সেনা সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। ইসলামিক স্টেট (আইএস) দমনে পরিচালিত জোটের অভিযান সমাপ্তির পর নির্ধারিত সময়সীমা মেনে এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন কুর্দিস্তান প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) কুর্দিস্তানের স্বরাষ্ট্র বিভাগের মন্ত্রী রেবার আহমেদ গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র-ইরাক দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা অনুযায়ী চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই ইরাক থেকে জোটভুক্ত সব সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। তার ভাষ্যমতে, এই কার্যক্রম ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হতে শুরু করেছে।

তিনি আরও বলেন, চুক্তির শর্ত মোতাবেক সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সেনাদের ইরাক ত্যাগ করতে হবে এবং বাস্তবে এই প্রত্যাহার কার্যক্রম আগেই আরম্ভ হয়ে গেছে। প্রতিদিনই ধাপে ধাপে সেনাসদস্যদের ইরাকের বাইরের বিভিন্ন ঘাঁটিতে স্থানান্তর করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন  ইসরায়েলি সেনার গুলিতে নিহত ৬৭ ফিলিস্তিনি: ত্রাণ নিতে আসার সময় ঘটে এ ঘটনা

এর পূর্বে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ইরাকের অন্যান্য সামরিক ঘাঁটি থেকে জোটের সেনা প্রত্যাহারের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছিল। তখন থেকে শুধুমাত্র দেশটির উত্তরের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলেই সেনা মোতায়েন ছিল। এ প্রসঙ্গে ইরাকি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র সাবাহ আল-নুমান বৃহস্পতিবার জানান, বিদেশি সেনারা তাদের প্রত্যাহার প্রক্রিয়ায় আরও গতি সঞ্চার করছে।

উল্লেখ্য, ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের উদ্দেশ্যে ২০১৪ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন এই সামরিক জোট ইরাক ও সিরিয়ায় মোতায়েন করা হয়েছিল। সে সময় আইএস উভয় দেশের বিশাল ভূখণ্ড দখলে নিয়ে ব্যাপক নৃশংসতা ও গণহত্যা পরিচালনা করেছিল। পরবর্তীতে ইরাকে ২০১৭ সালে এবং সিরিয়ায় ২০১৯ সালে সংগঠনটির ভৌগোলিক আধিপত্যের সমাপ্তি ঘটে।

তবে আইএসের অবশিষ্ট সদস্যরা এখনো মরুভূমি অঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকায় সীমিত পরিসরে সক্রিয় রয়েছে বলে জানা যায়। যদিও তাদের হামলার মাত্রা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে, তবুও ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছে।

আইএসের পতনের পরও ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক থেমে থাকেনি। বিশেষত ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে জোটের সেনাদের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়েও তেহরান-ঘনিষ্ঠ এসব গোষ্ঠীর হামলার একাধিক ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

কুর্দিস্তান থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট

আপডেট সময় ১১:০৩:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চল থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে থাকা আন্তর্জাতিক সামরিক জোটের সেনা সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। ইসলামিক স্টেট (আইএস) দমনে পরিচালিত জোটের অভিযান সমাপ্তির পর নির্ধারিত সময়সীমা মেনে এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন কুর্দিস্তান প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) কুর্দিস্তানের স্বরাষ্ট্র বিভাগের মন্ত্রী রেবার আহমেদ গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র-ইরাক দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা অনুযায়ী চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই ইরাক থেকে জোটভুক্ত সব সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। তার ভাষ্যমতে, এই কার্যক্রম ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হতে শুরু করেছে।

তিনি আরও বলেন, চুক্তির শর্ত মোতাবেক সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সেনাদের ইরাক ত্যাগ করতে হবে এবং বাস্তবে এই প্রত্যাহার কার্যক্রম আগেই আরম্ভ হয়ে গেছে। প্রতিদিনই ধাপে ধাপে সেনাসদস্যদের ইরাকের বাইরের বিভিন্ন ঘাঁটিতে স্থানান্তর করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন  জানা গেল ট্যাংক দুর্ঘটনায় নিহত দুই সেনার পরিচয়

এর পূর্বে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ইরাকের অন্যান্য সামরিক ঘাঁটি থেকে জোটের সেনা প্রত্যাহারের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছিল। তখন থেকে শুধুমাত্র দেশটির উত্তরের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলেই সেনা মোতায়েন ছিল। এ প্রসঙ্গে ইরাকি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র সাবাহ আল-নুমান বৃহস্পতিবার জানান, বিদেশি সেনারা তাদের প্রত্যাহার প্রক্রিয়ায় আরও গতি সঞ্চার করছে।

উল্লেখ্য, ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের উদ্দেশ্যে ২০১৪ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন এই সামরিক জোট ইরাক ও সিরিয়ায় মোতায়েন করা হয়েছিল। সে সময় আইএস উভয় দেশের বিশাল ভূখণ্ড দখলে নিয়ে ব্যাপক নৃশংসতা ও গণহত্যা পরিচালনা করেছিল। পরবর্তীতে ইরাকে ২০১৭ সালে এবং সিরিয়ায় ২০১৯ সালে সংগঠনটির ভৌগোলিক আধিপত্যের সমাপ্তি ঘটে।

তবে আইএসের অবশিষ্ট সদস্যরা এখনো মরুভূমি অঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকায় সীমিত পরিসরে সক্রিয় রয়েছে বলে জানা যায়। যদিও তাদের হামলার মাত্রা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে, তবুও ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছে।

আইএসের পতনের পরও ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক থেমে থাকেনি। বিশেষত ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে জোটের সেনাদের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়েও তেহরান-ঘনিষ্ঠ এসব গোষ্ঠীর হামলার একাধিক ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে।