ঢাকা ১১:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :

জন্মশহর মাশহাদে আজ দাফন হচ্ছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৪৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • / 26

ছবি সংগৃহীত

 

জন্মশহর মাশহাদে আজ বৃহস্পতিবার দাফন করা হবে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে। ইরান ও ইরাকের পাঁচটি শহরে রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান ও লাখো মানুষের অংশগ্রহণে শোকযাত্রা শেষে তার মরদেহ মাশহাদে নেওয়া হয়েছে। শেষ বিদায়কে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ।

রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের অংশ হিসেবে বুধবার খামেনির মরদেহ ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফে নেওয়া হলে বিপুলসংখ্যক মানুষ শোকযাত্রায় অংশ নেন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ কারবালায় নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে মরদেহ ইরানে ফিরিয়ে আনা হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় পরিবারের চার সদস্যসহ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তার দাফন নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে পিছিয়ে দেওয়া হয়।

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধে সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর খামেনির দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় ইরান সরকার। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত শুক্রবার থেকে সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শুরু হয়।

শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত খামেনির কফিন তেহরানের প্রধান মসজিদ গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা হয়। সোমবার মরদেহ নেওয়া হয় ইরানের কোম শহরে। পরে উড়োজাহাজে করে মরদেহ ইরাকে পৌঁছানো হয়।

বুধবার ভোর থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে নাজাফে শোকযাত্রা শুরু হয়। ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিনটি বিশেষ কাচের কফিনবাহী যানে বহন করা হয়। নাজাফে হজরত আলী (রা.)-এর পবিত্র মাজারে তার রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মরদেহ কারবালায় নেওয়া হয়, যেখানে ইমাম হুসাইন (রা.) ও হজরত আব্বাস (রা.)-এর পবিত্র মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

ইরাকে আয়োজিত শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া মানুষের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা, কালো শোকপতাকা এবং প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত লাল পতাকা। অনেককে বুক চাপড়ে শোক প্রকাশ করতে দেখা যায়। নাজাফ ও কারবালার বিভিন্ন সড়কে শোকযাত্রীদের জন্য স্বেচ্ছাসেবীরা বিনা মূল্যে খাবার ও পানীয় বিতরণ করেন।

নাজাফ শিয়া মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র নগরী হিসেবে পরিচিত। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে অসংখ্য শিয়া আলেম ও ধর্মীয় নেতা সেখানে শিক্ষা গ্রহণ ও শিক্ষা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনিও রয়েছেন। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো শিয়া মুসলিম নাজাফ ও কারবালা জিয়ারত করতে যান।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরাকে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই শোকযাত্রা শুধু ধর্মীয় আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং ইরান ও ইরাকের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক সম্পর্কেরও প্রতিফলন।

এদিকে খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের আয়োজন এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যেই শোকানুষ্ঠান চলছে। ইরানি কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এই বিপুল জনসমাগম দেশের জাতীয় ঐক্য ও প্রতিরোধের বার্তা বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেবে।

অন্যদিকে, নিরাপত্তাজনিত কারণে খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে নির্বাচিত তার দ্বিতীয় ছেলে মোজতবা খামেনি এখনো জনসমক্ষে আসেননি। তবে ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, তিনি লিখিত বার্তার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

জন্মশহর মাশহাদে আজ দাফন হচ্ছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

আপডেট সময় ০৯:৪৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

 

জন্মশহর মাশহাদে আজ বৃহস্পতিবার দাফন করা হবে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে। ইরান ও ইরাকের পাঁচটি শহরে রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান ও লাখো মানুষের অংশগ্রহণে শোকযাত্রা শেষে তার মরদেহ মাশহাদে নেওয়া হয়েছে। শেষ বিদায়কে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ।

রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের অংশ হিসেবে বুধবার খামেনির মরদেহ ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফে নেওয়া হলে বিপুলসংখ্যক মানুষ শোকযাত্রায় অংশ নেন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ কারবালায় নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে মরদেহ ইরানে ফিরিয়ে আনা হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় পরিবারের চার সদস্যসহ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তার দাফন নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে পিছিয়ে দেওয়া হয়।

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধে সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর খামেনির দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় ইরান সরকার। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত শুক্রবার থেকে সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শুরু হয়।

শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত খামেনির কফিন তেহরানের প্রধান মসজিদ গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা হয়। সোমবার মরদেহ নেওয়া হয় ইরানের কোম শহরে। পরে উড়োজাহাজে করে মরদেহ ইরাকে পৌঁছানো হয়।

বুধবার ভোর থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে নাজাফে শোকযাত্রা শুরু হয়। ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিনটি বিশেষ কাচের কফিনবাহী যানে বহন করা হয়। নাজাফে হজরত আলী (রা.)-এর পবিত্র মাজারে তার রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মরদেহ কারবালায় নেওয়া হয়, যেখানে ইমাম হুসাইন (রা.) ও হজরত আব্বাস (রা.)-এর পবিত্র মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

ইরাকে আয়োজিত শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া মানুষের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা, কালো শোকপতাকা এবং প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত লাল পতাকা। অনেককে বুক চাপড়ে শোক প্রকাশ করতে দেখা যায়। নাজাফ ও কারবালার বিভিন্ন সড়কে শোকযাত্রীদের জন্য স্বেচ্ছাসেবীরা বিনা মূল্যে খাবার ও পানীয় বিতরণ করেন।

নাজাফ শিয়া মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র নগরী হিসেবে পরিচিত। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে অসংখ্য শিয়া আলেম ও ধর্মীয় নেতা সেখানে শিক্ষা গ্রহণ ও শিক্ষা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনিও রয়েছেন। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো শিয়া মুসলিম নাজাফ ও কারবালা জিয়ারত করতে যান।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরাকে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই শোকযাত্রা শুধু ধর্মীয় আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং ইরান ও ইরাকের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক সম্পর্কেরও প্রতিফলন।

এদিকে খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের আয়োজন এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যেই শোকানুষ্ঠান চলছে। ইরানি কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এই বিপুল জনসমাগম দেশের জাতীয় ঐক্য ও প্রতিরোধের বার্তা বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেবে।

অন্যদিকে, নিরাপত্তাজনিত কারণে খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে নির্বাচিত তার দ্বিতীয় ছেলে মোজতবা খামেনি এখনো জনসমক্ষে আসেননি। তবে ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, তিনি লিখিত বার্তার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছেন।