ঢাকা ০৪:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

চীনের সর্বোচ্চ ভবনে বিমান বিধ্বস্ত

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:৫১:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
  • / 106

ছবি: সংগৃহীত

 

 

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের ১০৯ তলা সিটিক টাওয়ারে একটি ছোট বিমান আঘাত হানার ঘটনায় ভবনজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার (২৬ জুন) দুর্ঘটনার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ভবন থেকে সবাইকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য জানানো হয়নি।

আরও পড়ুন  উত্তরা ট্র্যাজেডি: বিমান বিধ্বস্তে ২৫ শিশুসহ ২৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানটিতে কতজন আরোহী ছিলেন, সেটি কোথা থেকে উড্ডয়ন করেছিল এবং কী কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রায় ৫২৮ মিটার উচ্চতার ভবনটির ওপরের দিকের একটি তলায় বিমানটি আঘাত হানে। এরপর ধ্বংসাবশেষের বিভিন্ন অংশ নিচের সড়ক ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পর জরুরি ভিত্তিতে ভবনের ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

স্থানীয় এক নারী জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাঁকে দ্রুত ভবন থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়। তিনি বলেন, তাড়াহুড়ার কারণে নিজের পরিচয়পত্র ও ব্যাগ নেওয়ারও সুযোগ পাননি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার পর পুলিশ সিটিক টাওয়ারের আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত করে। ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য ও কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়।

অনলাইনে প্রকাশিত ছবিতে বিমানটির নিবন্ধন নম্বর বি-১২পিপি দেখা গেছে। ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, এটি চীনের স্টারএয়ার এয়ারক্রাফট কোম্পানির তৈরি ‘সানওয়ার্ড এসএ৬০এল অরোরা’ মডেলের দুই আসনের একটি বিমান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় একটি ব্যক্তিগত পাইলট প্রশিক্ষণ ও আকাশপথে পর্যটনসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বিমানটি পরিচালনা করছিল। তবে এ দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, বেইজিংয়ে যেকোনো ধরনের হালকা বিমান উড্ডয়নের জন্য চীনের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্সের অনুমোদন প্রয়োজন। এছাড়া সম্প্রতি রাজধানীতে সাধারণ বিনোদনমূলক উড্ডয়ন ও ড্রোন পরিচালনায়ও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

২০১৮ সালে নির্মিত সিটিক টাওয়ার বর্তমানে বেইজিংয়ের সর্বোচ্চ ভবন এবং এটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান চায়না ইন্টারন্যাশনাল ট্রাস্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশনের (সিআইটিআইসি) সদর দপ্তর।

নিউজটি শেয়ার করুন

চীনের সর্বোচ্চ ভবনে বিমান বিধ্বস্ত

আপডেট সময় ০৮:৫১:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

 

 

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের ১০৯ তলা সিটিক টাওয়ারে একটি ছোট বিমান আঘাত হানার ঘটনায় ভবনজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার (২৬ জুন) দুর্ঘটনার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ভবন থেকে সবাইকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য জানানো হয়নি।

আরও পড়ুন  মেয়েকে বাঁচাতে ছুটে গিয়ে আগুনে দগ্ধ মা রজনী, ফিরলেন লাশ হয়ে

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানটিতে কতজন আরোহী ছিলেন, সেটি কোথা থেকে উড্ডয়ন করেছিল এবং কী কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রায় ৫২৮ মিটার উচ্চতার ভবনটির ওপরের দিকের একটি তলায় বিমানটি আঘাত হানে। এরপর ধ্বংসাবশেষের বিভিন্ন অংশ নিচের সড়ক ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পর জরুরি ভিত্তিতে ভবনের ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

স্থানীয় এক নারী জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাঁকে দ্রুত ভবন থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়। তিনি বলেন, তাড়াহুড়ার কারণে নিজের পরিচয়পত্র ও ব্যাগ নেওয়ারও সুযোগ পাননি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার পর পুলিশ সিটিক টাওয়ারের আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত করে। ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য ও কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়।

অনলাইনে প্রকাশিত ছবিতে বিমানটির নিবন্ধন নম্বর বি-১২পিপি দেখা গেছে। ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, এটি চীনের স্টারএয়ার এয়ারক্রাফট কোম্পানির তৈরি ‘সানওয়ার্ড এসএ৬০এল অরোরা’ মডেলের দুই আসনের একটি বিমান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় একটি ব্যক্তিগত পাইলট প্রশিক্ষণ ও আকাশপথে পর্যটনসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বিমানটি পরিচালনা করছিল। তবে এ দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, বেইজিংয়ে যেকোনো ধরনের হালকা বিমান উড্ডয়নের জন্য চীনের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্সের অনুমোদন প্রয়োজন। এছাড়া সম্প্রতি রাজধানীতে সাধারণ বিনোদনমূলক উড্ডয়ন ও ড্রোন পরিচালনায়ও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

২০১৮ সালে নির্মিত সিটিক টাওয়ার বর্তমানে বেইজিংয়ের সর্বোচ্চ ভবন এবং এটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান চায়না ইন্টারন্যাশনাল ট্রাস্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশনের (সিআইটিআইসি) সদর দপ্তর।