আইসিসির অর্থায়ন বন্ধের অনুরোধ, বুলবুলের অস্বীকার
- আপডেট সময় ০২:২১:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
- / 34
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে আর্থিক সহায়তা ও ক্রিকেট-সংক্রান্ত সুবিধা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার আবেদন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে বিসিবির সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বিরুদ্ধে। তবে তিনি প্রকাশ্যে এমন অনুরোধ করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শুরুতে বুলবুল আইসিসির কাছে ১৪ পৃষ্ঠার একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে বর্তমান বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য আইসিসির আর্থিক সহায়তা এবং ক্রিকেট-সংক্রান্ত সরঞ্জাম সরবরাহ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার অনুরোধ করা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে নিজেকে বিসিবির বৈধ সভাপতি হিসেবে পুনর্বহালের দাবিও জানানো হয়।
চিঠিতে বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বোর্ডের বৈধতা নিয়েও আপত্তি তোলা হয়েছে। বিষয়টি আইসিসি বিসিবিকে অবহিত করার পর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে সংস্থাটির কাছে পাল্টা চিঠি পাঠিয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় আমিনুল ইসলাম বুলবুল দাবি করেন, তিনি কখনোই বাংলাদেশের ক্রিকেটের ক্ষতি হতে পারে—এমন কোনো অনুরোধ আইসিসির কাছে করেননি। তার ভাষ্য, আইসিসির অর্থায়ন বন্ধের আবেদন করার খবরটি সত্য নয়।
তবে গণমাধ্যমের হাতে আসা চিঠির অনুলিপিতে বর্তমান বিসিবির জন্য আইসিসির অর্থায়ন ও ক্রিকেট-সংক্রান্ত সহায়তা স্থগিত রাখার অনুরোধের উল্লেখ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ওই নথিতে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের স্বাক্ষরও রয়েছে।
চিঠির ‘পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আইসিসি তহবিল স্থগিতকরণ’ অংশে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচিত বোর্ড পুনর্বহাল, আইসিসির ডিসপিউট রেজল্যুশন কমিটির (ডিআরসি) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং বাংলাদেশে চলমান আদালতের মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিসিবির জন্য বরাদ্দ আইসিসির তহবিল এসক্রোতে রাখা বা স্থগিত করার নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ৭ জুন ২০২৬ সালের নির্বাচনের ভিত্তিতে বিসিবির কর্তৃত্ব দাবি করা কোনো ব্যক্তিকে আইসিসির তহবিল না দেওয়ারও অনুরোধ করা হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।
‘বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা জারি’ শিরোনামের আরেকটি অংশে বাংলাদেশ সরকার, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার অনুরোধ করা হয়েছে। সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ভোটার তালিকার মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে এবং তা আইসিসির সংবিধানের কয়েকটি ধারার লঙ্ঘন। একই সঙ্গে ৭ জুন নির্বাচিত বোর্ডকে বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া, নির্বাচিত বোর্ড পুনর্বহালের দাবি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়ন না হলে বিসিবির পূর্ণ সদস্যপদ স্থগিত, আইসিসির তহবিল জব্দ এবং বাংলাদেশ দলকে আইসিসির ইভেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার ক্ষমতা প্রয়োগের কথাও চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ৭ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তামিম ইকবাল চার বছরের জন্য বিসিবির সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর থেকেই আমিনুল ইসলাম বুলবুল নিজেকে বিসিবির বৈধ সভাপতি দাবি করে আসছেন এবং এ বিষয়ে আইসিসির হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
























