ঢাকা ০৫:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টাঙ্গাইলে পুকুরে ডুবে দুই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু মাদারীপুরে জমি নিয়ে বিরোধে ৩ ভাইকে কুপিয়ে জখম জ্বালানি সংকট ঠেকাতে তিন দেশ থেকে বিকল্প পথে তেল আনছে বাংলাদেশ বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা নিয়ে কড়া বার্তা বেইলি রোড ট্র্যাজেডি: ভবন মালিক ও রেস্টুরেন্ট মালিকসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে সিআইডির চার্জশিট মোটরসাইকেলে এসে ছাত্রদল নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা ট্রাম্পকে ‘প্রতিদিন কথা বলা’ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ ম্যাক্রোর; ন্যাটো নিয়ে উদ্বেগ ট্রাম্প প্রশাসনে ফের রদবদল: মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি বরখাস্ত জ্বালানি সংকট সামাল দিতে অফিস ও মার্কেট বন্ধের নতুন সময় ঘোষণা

ইরান সংঘাতকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিনিয়োগ হিসেবে অভিহিত করলেন ট্রাম্প

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৪৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • / 27

ছবি: সংগৃহীত

হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে প্রদত্ত বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানকে আমেরিকার আগামী প্রজন্ম ও শিশুদের জন্য সত্যিকারের বিনিয়োগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় (যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার রাত ৯টা) প্রদত্ত ১৯ মিনিটের এই ভাষণে প্রথমেই নাসার চন্দ্র মিশন ‘আর্টেমিস-২’ এর সফল উৎক্ষেপণ উপলক্ষে নাসাকে অভিনন্দন জানান তিনি। মহাকাশে যাত্রা করা নভোচারীদের সাহসিকতার প্রশংসা করার পর তিনি গত এক মাসব্যাপী চলমান ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে আলোচনা শুরু করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, তেহরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানি নৌ-শক্তি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা এবং পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণের সক্ষমতা স্থায়ীভাবে বিনষ্ট করা।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর বৈঠক: স্বাস্থ্যসহ অগ্রাধিকার খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে আহ্বান

ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, সামরিক সামর্থ্যের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র অজেয়। তার মতে, এই সংঘাত দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তায় প্রকৃত অর্থেই একটি দীর্�মেয়াদি বিনিয়োগ।
ইরান ছাড়াও ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট। নিকোলাস মাদুরোকে দ্রুততার সঙ্গে আটক করার কৃতিত্ব মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীকে দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, এই গ্রেফতার বিশ্বব্যাপী প্রশংসা অর্জন করেছে।

তেল উৎপাদন প্রসঙ্গে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন যে, আমেরিকার বৈদেশিক তেল আমদানির কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, সংঘাতজনিত কারণে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির জন্য তেহরানকে দায়ী করেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের মূল্য প্রতি গ্যালনে চার ডলার অতিক্রম করেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ।

যুদ্ধ সমাপ্তির ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প জানান, “আমরা ইরানের ক্ষতিকর শক্তিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বের জন্য নির্মূল করার একেবারে শেষ প্রান্তে রয়েছি। আমাদের হাতে সব সুবিধা আছে, তাদের কাছে কিছুই অবশিষ্ট নেই।”

তিনি দাবি করেন, ইরানের নৌ ও বিমান বাহিনী প্রায় সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত, দেশটি দুর্বল এবং “বিশ্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আর হুমকিস্বরূপ নয়।” একই সঙ্গে তিনি জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহে ইরানের ওপর “তীব্র আঘাত” অব্যাহত থাকবে।

“তারা যা প্রাপ্য, আমরা তাদের সেই অবস্থায় ফেরত পাঠাব,” বলেন ট্রাম্প। প্রায় এক মাস পূর্বে শুরু হওয়া এই সামরিক সংঘাত এখনও সক্রিয়। বুধবার তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় হামলা পরিচালিত হয়েছে। ইসরায়েলি সূত্র জানিয়েছে, তারা রাজধানী তেহরানে দুই দফা আক্রমণ চালিয়েছে এবং লেবাননের বৈরুতে হামলা করে হিজবুল্লাহর এক ঊর্ধ্বতন কমান্ডারকে নিহত করেছে। প্রতিক্রিয়ায় ইরানও ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যীয় অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে।

হরমুজ প্রণালী কার্যত ইরান বন্ধ করে রেখেছে এবং সংঘাত শুরু থেকে তেল-গ্যাস ট্যাংকারসহ বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে আক্রমণ চালাচ্ছে, যার ফলে তেলের মূল্য আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের ভাষণের পরেও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকা নিয়ে বাজারের উদ্বেগ কমেনি।

আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্টের প্রাথমিক হিসাব মতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানে কমপক্ষে ১,৯০০ জন নিহত এবং ২০,০০০ জন আহত হয়েছেন, যদিও প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করা দুরূহ।

লেবাননে ১,৩০০-এর অধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই সাধারণ লেবানিজ নাগরিক, তবে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে তাদের ৪০০ যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন।
ইসরায়েলে ১৯ জন নিহত এবং ৫১৫ জন আহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কমপক্ষে ১৩ সেনা নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক আহত হয়েছেন।

মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ‘অপারেশন এপিক ফিউর’ চালু হওয়ার পর থেকে ইরানের অভ্যন্তরে ১২,৩০০-এর বেশি লক্ষ্যে আঘাত হানা হয়েছে।
সংঘাত শুরু থেকে ট্রাম্প প্রশাসন বারংবার পরস্পরবিরোধী ও অস্পষ্ট বার্তা প্রদান করেছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানি নেতৃত্ব স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চাইছে, কিন্তু তেহরান তা ‘মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরান সংঘাতকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিনিয়োগ হিসেবে অভিহিত করলেন ট্রাম্প

আপডেট সময় ০৯:৪৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে প্রদত্ত বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানকে আমেরিকার আগামী প্রজন্ম ও শিশুদের জন্য সত্যিকারের বিনিয়োগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় (যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার রাত ৯টা) প্রদত্ত ১৯ মিনিটের এই ভাষণে প্রথমেই নাসার চন্দ্র মিশন ‘আর্টেমিস-২’ এর সফল উৎক্ষেপণ উপলক্ষে নাসাকে অভিনন্দন জানান তিনি। মহাকাশে যাত্রা করা নভোচারীদের সাহসিকতার প্রশংসা করার পর তিনি গত এক মাসব্যাপী চলমান ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে আলোচনা শুরু করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, তেহরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানি নৌ-শক্তি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা এবং পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণের সক্ষমতা স্থায়ীভাবে বিনষ্ট করা।

আরও পড়ুন  ইরানে বিজ্ঞানীদের উপর হামলা: ১২ দিনে ১৪ জন নিহত, দাবি ইসরায়েলের

ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, সামরিক সামর্থ্যের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র অজেয়। তার মতে, এই সংঘাত দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তায় প্রকৃত অর্থেই একটি দীর্�মেয়াদি বিনিয়োগ।
ইরান ছাড়াও ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট। নিকোলাস মাদুরোকে দ্রুততার সঙ্গে আটক করার কৃতিত্ব মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীকে দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, এই গ্রেফতার বিশ্বব্যাপী প্রশংসা অর্জন করেছে।

তেল উৎপাদন প্রসঙ্গে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন যে, আমেরিকার বৈদেশিক তেল আমদানির কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, সংঘাতজনিত কারণে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির জন্য তেহরানকে দায়ী করেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের মূল্য প্রতি গ্যালনে চার ডলার অতিক্রম করেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ।

যুদ্ধ সমাপ্তির ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প জানান, “আমরা ইরানের ক্ষতিকর শক্তিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বের জন্য নির্মূল করার একেবারে শেষ প্রান্তে রয়েছি। আমাদের হাতে সব সুবিধা আছে, তাদের কাছে কিছুই অবশিষ্ট নেই।”

তিনি দাবি করেন, ইরানের নৌ ও বিমান বাহিনী প্রায় সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত, দেশটি দুর্বল এবং “বিশ্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আর হুমকিস্বরূপ নয়।” একই সঙ্গে তিনি জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহে ইরানের ওপর “তীব্র আঘাত” অব্যাহত থাকবে।

“তারা যা প্রাপ্য, আমরা তাদের সেই অবস্থায় ফেরত পাঠাব,” বলেন ট্রাম্প। প্রায় এক মাস পূর্বে শুরু হওয়া এই সামরিক সংঘাত এখনও সক্রিয়। বুধবার তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় হামলা পরিচালিত হয়েছে। ইসরায়েলি সূত্র জানিয়েছে, তারা রাজধানী তেহরানে দুই দফা আক্রমণ চালিয়েছে এবং লেবাননের বৈরুতে হামলা করে হিজবুল্লাহর এক ঊর্ধ্বতন কমান্ডারকে নিহত করেছে। প্রতিক্রিয়ায় ইরানও ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যীয় অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে।

হরমুজ প্রণালী কার্যত ইরান বন্ধ করে রেখেছে এবং সংঘাত শুরু থেকে তেল-গ্যাস ট্যাংকারসহ বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে আক্রমণ চালাচ্ছে, যার ফলে তেলের মূল্য আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের ভাষণের পরেও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকা নিয়ে বাজারের উদ্বেগ কমেনি।

আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্টের প্রাথমিক হিসাব মতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানে কমপক্ষে ১,৯০০ জন নিহত এবং ২০,০০০ জন আহত হয়েছেন, যদিও প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করা দুরূহ।

লেবাননে ১,৩০০-এর অধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই সাধারণ লেবানিজ নাগরিক, তবে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে তাদের ৪০০ যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন।
ইসরায়েলে ১৯ জন নিহত এবং ৫১৫ জন আহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কমপক্ষে ১৩ সেনা নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক আহত হয়েছেন।

মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ‘অপারেশন এপিক ফিউর’ চালু হওয়ার পর থেকে ইরানের অভ্যন্তরে ১২,৩০০-এর বেশি লক্ষ্যে আঘাত হানা হয়েছে।
সংঘাত শুরু থেকে ট্রাম্প প্রশাসন বারংবার পরস্পরবিরোধী ও অস্পষ্ট বার্তা প্রদান করেছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানি নেতৃত্ব স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চাইছে, কিন্তু তেহরান তা ‘মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।