ঢাকা ০১:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
পদত্যাগের পর হাসিমুখে পূজামণ্ডপে ইশরাক সৌদি আরবে নিহত নুরুল হকের পরিবার পেলেন ক্ষতিপূরণ বিচ্ছেদের পর নতুন রূপে শেহতাজ রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব আতাউর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা কমছে নেতানিয়াহুর, খুঁজছেন নতুন মিত্র সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুজনের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে পাঁচ বিষয়ে অগ্রাধিকার ববি হাজ্জাজের নিজ সন্তানের জন্য হলেও ঢাকা পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, তথ্যের ঘাটতি ছিল

গৃহযুদ্ধ ও বর্জনের মধ্যেই মিয়ানমারে জান্তা সমর্থিত নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:২৭:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 3148

ছবি: সংগৃহীত

 

 

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে প্রথমবার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চরম গৃহযুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র সমালোচনার মধ্যেই আজ রোববার দেশটিতে তিন ধাপের নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ চলছে।

আরও পড়ুন  ইউক্রেনে বিভাজন তৈরি করাই এই মুহূর্তে রাশিয়ার মূল লক্ষ্য

ভোটের চিত্র ও জনবল:
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আজ স্থানীয় সময় সকাল থেকেই ইয়াঙ্গুনসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের লাইন দেখা গেছে। তবে গত ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রথম পর্বের ভোটে উপস্থিতির হার ছিল মাত্র ৫২ শতাংশ, যা ২০১৫ বা ২০২০ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। বিশ্লেষকদের মতে, জান্তা সরকারের প্রতি জনগণের আস্থার অভাব এবং গৃহযুদ্ধের আশঙ্কাই এই নিম্ন উপস্থিতির কারণ।

জান্তার নিরঙ্কুশ আধিপত্য:
ধারণা করা হচ্ছে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে সামরিক বাহিনী সমর্থিত ‘ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ (USDP) আবারও ক্ষমতায় ফিরবে। প্রথম পর্বে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ১০২টি আসনের মধ্যে ৯০টি আসনেই জয় পেয়েছে তারা। ২৫ জানুয়ারি চূড়ান্ত পর্বের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন থেকে বাদ পড়ছে বিশাল এলাকা:
মিয়ানমারের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ৩৩০টি প্রশাসনিক অঞ্চলের (টাউনশিপ) মধ্যে ৫৬টিতে কোনো ভোটগ্রহণ হচ্ছে না। এছাড়া প্রায় ৩ হাজার গ্রাম ও ওয়ার্ড এলাকা নির্বাচনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা এই নির্বাচন প্রক্রিয়ার বাইরে থাকছে।

আন্তর্জাতিক সমালোচনা ও বিরোধী দলের অনুপস্থিতি:
জাতিসংঘ, পশ্চিমা দেশগুলো এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের মতে:
অং সান সু চির দল ‘ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি’ (NLD)-সহ প্রায় ৪০টি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সু চি এবং তার দলের শীর্ষ নেতারা বর্তমানে কারাবন্দি বা নির্বাসিত।
ভোটের বিরোধিতা করলে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইন করা হয়েছে, যার আওতায় ইতোমধ্যে ২০০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের অভিমত:
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নির্বাচনের মূল উদ্দেশ্য হলো সামরিক জান্তাকে আইনি বৈধতা দেওয়া এবং তাদের ক্ষমতাকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করা। চীন সমর্থিত এই জান্তা সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নিজেদের শাসনব্যবস্থাকে গ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

গৃহযুদ্ধ ও বর্জনের মধ্যেই মিয়ানমারে জান্তা সমর্থিত নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ

আপডেট সময় ০২:২৭:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

 

 

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে প্রথমবার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চরম গৃহযুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র সমালোচনার মধ্যেই আজ রোববার দেশটিতে তিন ধাপের নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ চলছে।

আরও পড়ুন  স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে: ইসি

ভোটের চিত্র ও জনবল:
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আজ স্থানীয় সময় সকাল থেকেই ইয়াঙ্গুনসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের লাইন দেখা গেছে। তবে গত ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রথম পর্বের ভোটে উপস্থিতির হার ছিল মাত্র ৫২ শতাংশ, যা ২০১৫ বা ২০২০ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। বিশ্লেষকদের মতে, জান্তা সরকারের প্রতি জনগণের আস্থার অভাব এবং গৃহযুদ্ধের আশঙ্কাই এই নিম্ন উপস্থিতির কারণ।

জান্তার নিরঙ্কুশ আধিপত্য:
ধারণা করা হচ্ছে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে সামরিক বাহিনী সমর্থিত ‘ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ (USDP) আবারও ক্ষমতায় ফিরবে। প্রথম পর্বে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ১০২টি আসনের মধ্যে ৯০টি আসনেই জয় পেয়েছে তারা। ২৫ জানুয়ারি চূড়ান্ত পর্বের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন থেকে বাদ পড়ছে বিশাল এলাকা:
মিয়ানমারের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ৩৩০টি প্রশাসনিক অঞ্চলের (টাউনশিপ) মধ্যে ৫৬টিতে কোনো ভোটগ্রহণ হচ্ছে না। এছাড়া প্রায় ৩ হাজার গ্রাম ও ওয়ার্ড এলাকা নির্বাচনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা এই নির্বাচন প্রক্রিয়ার বাইরে থাকছে।

আন্তর্জাতিক সমালোচনা ও বিরোধী দলের অনুপস্থিতি:
জাতিসংঘ, পশ্চিমা দেশগুলো এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের মতে:
অং সান সু চির দল ‘ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি’ (NLD)-সহ প্রায় ৪০টি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সু চি এবং তার দলের শীর্ষ নেতারা বর্তমানে কারাবন্দি বা নির্বাসিত।
ভোটের বিরোধিতা করলে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইন করা হয়েছে, যার আওতায় ইতোমধ্যে ২০০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের অভিমত:
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নির্বাচনের মূল উদ্দেশ্য হলো সামরিক জান্তাকে আইনি বৈধতা দেওয়া এবং তাদের ক্ষমতাকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করা। চীন সমর্থিত এই জান্তা সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নিজেদের শাসনব্যবস্থাকে গ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করছে।