ঢাকা ১১:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
শিল্প বাঁচলে মজুরি বাড়বে, অহেতুক প্ররোচনায় না পড়ে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান শ্রম মন্ত্রীর মেগা প্রকল্প নয়, জনগণের প্রয়োজনই অগ্রাধিকার: প্রতিমন্ত্রী ফুটবলে নজিরবিহীন ঘটনা: এক ম্যাচে ৫১ লাল কার্ড, ছাড়িয়ে গেল আগের রেকর্ড কাল থেকে সেন্টমার্টিনে যাচ্ছে পর্যটকবাহী তিন জাহাজ মান ও শর্ত পূরণ ছাড়া মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দেওয়া হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী একনেকে ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি টাকার ১৩ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মন্ত্রীর বৈঠক ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৬ মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৮৬৬ হাম উপসর্গে ৬ জনের মৃত্যু তাহসিফ হত্যা মামলায় দিশার ফের ৩ দিনের রিমান্ড

গাজায় ত্রাণপ্রার্থীদের ওপর ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৭৮

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:২২:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
  • / 844

ছবি সংগৃহীত

 

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় টানা ইসরায়েলি হামলায় ফের রক্তাক্ত হল ফিলিস্তিন। ত্রাণ নিতে আসা শিশু ও সাধারণ মানুষসহ অন্তত ৭৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ক্রমবর্ধমান অবরোধে জ্বালানি ও খাদ্য সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

ফিলিস্তিনের সংবাদ সংস্থা ওয়াফার বরাতে জানা যায়, সোমবার দক্ষিণ গাজার রাফা এলাকায় একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের নিকট হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত ৫ জন ত্রাণপ্রার্থী প্রাণ হারান।

আরও পড়ুন  গা/জা/য় ত্রাণকেন্দ্রে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত ২১, আহত শতাধিক

এ নিয়ে ইসরায়েলি বাহিনী এবং মার্কিন সমর্থিত কুখ্যাত গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) পরিচালিত ত্রাণ কেন্দ্রে হামলায় মোট ৮৩৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হলেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে একটি বাস্তুচ্যুত শিবিরে চালানো হামলায় নিহত হয়েছেন ৯ জন ফিলিস্তিনি। এতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্রে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন আরও ৪ জন।

উত্তর গাজায় হামলার তীব্রতা আরও বেড়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমে জানানো হয়, সেখানে একটি ইসরায়েলি ট্যাংক হামলার শিকার হয়। পরে আইডিএফ জানায়, ওই ঘটনায় তাদের তিন সেনা নিহত হয়েছে। এর জবাবে তুফাহ এবং শুজাইয়া পাড়ায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে আবাসিক ভবনগুলো ধ্বংস করে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী।

এসব হামলায় শুধু গাজা শহরেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৪ জন ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।

এদিকে ইসরায়েলের কঠোর অবরোধে গাজায় মানবিক বিপর্যয় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ২ মার্চ থেকে ইসরায়েল গাজায় জ্বালানি সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। খাদ্য সংকটও চরমে পৌঁছেছে।

মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে ইসরায়েল ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছিল যাতে গাজায় ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে বলা হয়েছিল। তবে বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি মানা হয়নি। গাজার জনগণ এখনো প্রয়োজনীয় ত্রাণ থেকে বঞ্চিত।

গাজায় প্রতিদিনের এই নিষ্ঠুরতা ও মানবিক সংকটে বিশ্ব বিবেক এখনও কার্যকরভাবে সাড়া দেয়নি—এই অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজায় ত্রাণপ্রার্থীদের ওপর ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৭৮

আপডেট সময় ১২:২২:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫

 

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় টানা ইসরায়েলি হামলায় ফের রক্তাক্ত হল ফিলিস্তিন। ত্রাণ নিতে আসা শিশু ও সাধারণ মানুষসহ অন্তত ৭৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ক্রমবর্ধমান অবরোধে জ্বালানি ও খাদ্য সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

ফিলিস্তিনের সংবাদ সংস্থা ওয়াফার বরাতে জানা যায়, সোমবার দক্ষিণ গাজার রাফা এলাকায় একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের নিকট হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত ৫ জন ত্রাণপ্রার্থী প্রাণ হারান।

আরও পড়ুন  গাজায় নতুন হামলায় প্রাণ গেল আরও ৬০ ফিলিস্তিনির

এ নিয়ে ইসরায়েলি বাহিনী এবং মার্কিন সমর্থিত কুখ্যাত গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) পরিচালিত ত্রাণ কেন্দ্রে হামলায় মোট ৮৩৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হলেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে একটি বাস্তুচ্যুত শিবিরে চালানো হামলায় নিহত হয়েছেন ৯ জন ফিলিস্তিনি। এতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্রে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন আরও ৪ জন।

উত্তর গাজায় হামলার তীব্রতা আরও বেড়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমে জানানো হয়, সেখানে একটি ইসরায়েলি ট্যাংক হামলার শিকার হয়। পরে আইডিএফ জানায়, ওই ঘটনায় তাদের তিন সেনা নিহত হয়েছে। এর জবাবে তুফাহ এবং শুজাইয়া পাড়ায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে আবাসিক ভবনগুলো ধ্বংস করে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী।

এসব হামলায় শুধু গাজা শহরেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৪ জন ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।

এদিকে ইসরায়েলের কঠোর অবরোধে গাজায় মানবিক বিপর্যয় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ২ মার্চ থেকে ইসরায়েল গাজায় জ্বালানি সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। খাদ্য সংকটও চরমে পৌঁছেছে।

মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে ইসরায়েল ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছিল যাতে গাজায় ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে বলা হয়েছিল। তবে বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি মানা হয়নি। গাজার জনগণ এখনো প্রয়োজনীয় ত্রাণ থেকে বঞ্চিত।

গাজায় প্রতিদিনের এই নিষ্ঠুরতা ও মানবিক সংকটে বিশ্ব বিবেক এখনও কার্যকরভাবে সাড়া দেয়নি—এই অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা।