ঢাকা ০১:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা

গাজায় ত্রাণপ্রার্থীদের ওপর ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৭৮

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:২২:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
  • / 575

ছবি সংগৃহীত

 

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় টানা ইসরায়েলি হামলায় ফের রক্তাক্ত হল ফিলিস্তিন। ত্রাণ নিতে আসা শিশু ও সাধারণ মানুষসহ অন্তত ৭৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ক্রমবর্ধমান অবরোধে জ্বালানি ও খাদ্য সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

ফিলিস্তিনের সংবাদ সংস্থা ওয়াফার বরাতে জানা যায়, সোমবার দক্ষিণ গাজার রাফা এলাকায় একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের নিকট হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত ৫ জন ত্রাণপ্রার্থী প্রাণ হারান।

আরও পড়ুন  গা/জা/য় ত্রাণ কেন্দ্রে গোলাগুলি ও হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চায় জাতিসংঘ

এ নিয়ে ইসরায়েলি বাহিনী এবং মার্কিন সমর্থিত কুখ্যাত গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) পরিচালিত ত্রাণ কেন্দ্রে হামলায় মোট ৮৩৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হলেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে একটি বাস্তুচ্যুত শিবিরে চালানো হামলায় নিহত হয়েছেন ৯ জন ফিলিস্তিনি। এতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্রে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন আরও ৪ জন।

উত্তর গাজায় হামলার তীব্রতা আরও বেড়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমে জানানো হয়, সেখানে একটি ইসরায়েলি ট্যাংক হামলার শিকার হয়। পরে আইডিএফ জানায়, ওই ঘটনায় তাদের তিন সেনা নিহত হয়েছে। এর জবাবে তুফাহ এবং শুজাইয়া পাড়ায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে আবাসিক ভবনগুলো ধ্বংস করে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী।

এসব হামলায় শুধু গাজা শহরেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৪ জন ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।

এদিকে ইসরায়েলের কঠোর অবরোধে গাজায় মানবিক বিপর্যয় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ২ মার্চ থেকে ইসরায়েল গাজায় জ্বালানি সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। খাদ্য সংকটও চরমে পৌঁছেছে।

মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে ইসরায়েল ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছিল যাতে গাজায় ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে বলা হয়েছিল। তবে বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি মানা হয়নি। গাজার জনগণ এখনো প্রয়োজনীয় ত্রাণ থেকে বঞ্চিত।

গাজায় প্রতিদিনের এই নিষ্ঠুরতা ও মানবিক সংকটে বিশ্ব বিবেক এখনও কার্যকরভাবে সাড়া দেয়নি—এই অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজায় ত্রাণপ্রার্থীদের ওপর ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৭৮

আপডেট সময় ১২:২২:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫

 

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় টানা ইসরায়েলি হামলায় ফের রক্তাক্ত হল ফিলিস্তিন। ত্রাণ নিতে আসা শিশু ও সাধারণ মানুষসহ অন্তত ৭৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ক্রমবর্ধমান অবরোধে জ্বালানি ও খাদ্য সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

ফিলিস্তিনের সংবাদ সংস্থা ওয়াফার বরাতে জানা যায়, সোমবার দক্ষিণ গাজার রাফা এলাকায় একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের নিকট হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত ৫ জন ত্রাণপ্রার্থী প্রাণ হারান।

আরও পড়ুন  গাজা আক্রমণকে “ইসরায়েলের ভিয়েতনাম” আখ্যা, সতর্ক করল সামরিক কর্মকর্তারা

এ নিয়ে ইসরায়েলি বাহিনী এবং মার্কিন সমর্থিত কুখ্যাত গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) পরিচালিত ত্রাণ কেন্দ্রে হামলায় মোট ৮৩৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হলেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে একটি বাস্তুচ্যুত শিবিরে চালানো হামলায় নিহত হয়েছেন ৯ জন ফিলিস্তিনি। এতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্রে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন আরও ৪ জন।

উত্তর গাজায় হামলার তীব্রতা আরও বেড়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমে জানানো হয়, সেখানে একটি ইসরায়েলি ট্যাংক হামলার শিকার হয়। পরে আইডিএফ জানায়, ওই ঘটনায় তাদের তিন সেনা নিহত হয়েছে। এর জবাবে তুফাহ এবং শুজাইয়া পাড়ায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে আবাসিক ভবনগুলো ধ্বংস করে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী।

এসব হামলায় শুধু গাজা শহরেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৪ জন ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।

এদিকে ইসরায়েলের কঠোর অবরোধে গাজায় মানবিক বিপর্যয় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ২ মার্চ থেকে ইসরায়েল গাজায় জ্বালানি সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। খাদ্য সংকটও চরমে পৌঁছেছে।

মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে ইসরায়েল ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছিল যাতে গাজায় ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে বলা হয়েছিল। তবে বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি মানা হয়নি। গাজার জনগণ এখনো প্রয়োজনীয় ত্রাণ থেকে বঞ্চিত।

গাজায় প্রতিদিনের এই নিষ্ঠুরতা ও মানবিক সংকটে বিশ্ব বিবেক এখনও কার্যকরভাবে সাড়া দেয়নি—এই অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা।