ঢাকা ১১:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
সৌদি আরবে নিহত নুরুল হকের পরিবার পেলেন ক্ষতিপূরণ বিচ্ছেদের পর নতুন রূপে শেহতাজ রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব আতাউর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা কমছে নেতানিয়াহুর, খুঁজছেন নতুন মিত্র সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুজনের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে পাঁচ বিষয়ে অগ্রাধিকার ববি হাজ্জাজের নিজ সন্তানের জন্য হলেও ঢাকা পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, তথ্যের ঘাটতি ছিল মিডিয়ায় আমাকে টার্গেট করা হয়েছে, বললেন ইশরাক

ইউক্রেনের খারকিভে রাশিয়ার ড্রোন হামলা, নিহত ৩, আহত অন্তত ৬০

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৫০:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫
  • / 667

ছবি সংগৃহীত

 

ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। গতকাল বুধবার ভোরে এ হামলায় অন্তত তিনজন নিহত ও ৬০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯ জন শিশু রয়েছে। শহরটি রাশিয়ার সীমান্ত থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। খবর আল জাজিরা।

খারকিভের মেয়র ইহোর তেরেখভ জানান, রাশিয়া দুইটি আবাসিক এলাকায় ১৭টি ড্রোন নিক্ষেপ করে। শান্তিপূর্ণ বসতিকে লক্ষ্য করে এমন হামলার কোনো ন্যায়িকতা নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন  ২০২৬ সালের শুরুতে ইরানে গুরুত্বপূর্ণ রেলপথ নির্মাণ শুরু করবে রাশিয়া

খারকিভ অঞ্চলের প্রশাসনিক প্রধান ওলেহ সিনিহুবভ বলেন, আহতদের মধ্যে শিশুদের বয়স দুই থেকে পনেরো বছরের মধ্যে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তবে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বাসিন্দা ওলেনা খরুঝেভা ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, “আমি ড্রোনের শব্দ শুনে বাইরে তাকাই। একটিকে আমার দিকেই এগিয়ে আসতে দেখি। তারপর মুহূর্তের নীরবতা। হঠাৎ দেয়ালে ড্রোনের আঘাত লাগে, এরপর বিকট বিস্ফোরণ আর চারদিক থেকে চিৎকার শোনা যায়। আমি আমার দুই সন্তানকে নিয়ে দ্রুত নিচে নেমে পালিয়ে যাই। আমার ৬৫ বছর বয়সী এক প্রতিবেশী ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন।”

হামলার পর উদ্ধারকাজে ব্যাপক বেগ পেতে হয় জরুরি সেবা বিভাগ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করতে হয়।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানায়, গত রাতে খারকিভ অঞ্চলে মোট ৮৫টি ড্রোন মোতায়েন করেছিল রাশিয়া, যার মধ্যে ৪০টি ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বারবার রুশ হামলার শিকার হচ্ছে খারকিভ শহর। বসবাসযোগ্য আবাসিক এলাকা ও বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্য করে এমন হামলার ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। ইউক্রেন সরকার ও আন্তর্জাতিক মহল এসব হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচনা করছে।

এমন অবস্থায় ইউক্রেনীয় জনগণের মাঝে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা ও বেঁচে থাকার তাগিদে অনেকেই শহর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালিয়ে যাচ্ছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইউক্রেনের খারকিভে রাশিয়ার ড্রোন হামলা, নিহত ৩, আহত অন্তত ৬০

আপডেট সময় ১০:৫০:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫

 

ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। গতকাল বুধবার ভোরে এ হামলায় অন্তত তিনজন নিহত ও ৬০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯ জন শিশু রয়েছে। শহরটি রাশিয়ার সীমান্ত থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। খবর আল জাজিরা।

খারকিভের মেয়র ইহোর তেরেখভ জানান, রাশিয়া দুইটি আবাসিক এলাকায় ১৭টি ড্রোন নিক্ষেপ করে। শান্তিপূর্ণ বসতিকে লক্ষ্য করে এমন হামলার কোনো ন্যায়িকতা নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন  জার্মানি থেকে ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের বহিষ্কারের প্রস্তাব দিল কট্টর ডানপন্থী দলের নেত্রী

খারকিভ অঞ্চলের প্রশাসনিক প্রধান ওলেহ সিনিহুবভ বলেন, আহতদের মধ্যে শিশুদের বয়স দুই থেকে পনেরো বছরের মধ্যে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তবে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বাসিন্দা ওলেনা খরুঝেভা ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, “আমি ড্রোনের শব্দ শুনে বাইরে তাকাই। একটিকে আমার দিকেই এগিয়ে আসতে দেখি। তারপর মুহূর্তের নীরবতা। হঠাৎ দেয়ালে ড্রোনের আঘাত লাগে, এরপর বিকট বিস্ফোরণ আর চারদিক থেকে চিৎকার শোনা যায়। আমি আমার দুই সন্তানকে নিয়ে দ্রুত নিচে নেমে পালিয়ে যাই। আমার ৬৫ বছর বয়সী এক প্রতিবেশী ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন।”

হামলার পর উদ্ধারকাজে ব্যাপক বেগ পেতে হয় জরুরি সেবা বিভাগ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করতে হয়।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানায়, গত রাতে খারকিভ অঞ্চলে মোট ৮৫টি ড্রোন মোতায়েন করেছিল রাশিয়া, যার মধ্যে ৪০টি ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বারবার রুশ হামলার শিকার হচ্ছে খারকিভ শহর। বসবাসযোগ্য আবাসিক এলাকা ও বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্য করে এমন হামলার ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। ইউক্রেন সরকার ও আন্তর্জাতিক মহল এসব হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচনা করছে।

এমন অবস্থায় ইউক্রেনীয় জনগণের মাঝে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা ও বেঁচে থাকার তাগিদে অনেকেই শহর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালিয়ে যাচ্ছেন।