ঢাকা ০১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

স্বপ্নের নারীর জন্য সর্বস্ব বিক্রি; দেখতে গিয়ে জানতে পারল এআই

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:১০:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 20

ছবি: সংগৃহীত

ব্রাজিলে এআইয়ের তৈরি এক কাল্পনিক নারীকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার আশায় নিজের সব সম্পত্তি বিক্রি করে ১ হাজার ৯৩১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছিলেন ৪৯ বছর বয়সি এদিমার মার্টিনস। কিন্তু নির্ধারিত শহরে পৌঁছে জানতে পারেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত হওয়া ওই নারীর বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি একটি কাল্পনিক চরিত্র।

ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মারানহাওয়ের বাসিন্দা মার্টিনস পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। কয়েক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে পরিচয়ের পর একপর্যায়ে তাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন তিনি। ওই নারীর সঙ্গে দেখা করার জন্য নিজের সব সম্পত্তি বিক্রি করে যাত্রা শুরু করেন মার্টিনস।

স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিভি মিরান্তেকে মার্টিনস জানান, ২০২০ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেসিকা অলিভেইরা নামের এক নারীর অ্যাকাউন্ট খুঁজে পান তিনি। অ্যাকাউন্টটিতে লক্ষাধিক অনুসারী ছিল। সেখানে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী খামারে মনোরম গ্রামীণ জীবনযাপন করছেন। ভিডিওতে তিনি পুরুষদের তার সঙ্গে থাকার আমন্ত্রণ জানাতেন এবং থাকার জায়গা ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিতেন।

আরও পড়ুন  এআই হতে হবে স্বচ্ছ ও পক্ষপাতমুক্ত

মায়ের মৃত্যুর পর একাকিত্বে ভুগছিলেন মার্টিনস। তার ধারণা হয়েছিল, ওই নারী হয়তো তাকে নতুন করে জীবন শুরু করতে সাহায্য করতে পারবেন। অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ওই চরিত্রটি তাকে আর্থিক সহায়তা এবং নিজের খামারে থাকার জায়গা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে মার্টিনস তার সঙ্গে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯ অক্টোবর নিজের সব জিনিসপত্র বিক্রি করে পাওয়া অর্থ নিয়ে ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মিনাস জেরাইসের রাজধানী বেলো হোরিজন্তের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। বাসে এক দিনেরও বেশি সময় ভ্রমণের পর ১১ অক্টোবর শহরটিতে পৌঁছান।

কিন্তু সেখানে গিয়ে তার আশা ভেঙে যায়। সঙ্গে থাকা ছবিগুলো দেখিয়ে শহরের মানুষের কাছে ওই নারী সম্পর্কে জানতে চান মার্টিনস। তবে কেউই তাকে শনাক্ত করতে পারেননি। পরে তিনি একটি স্থানীয় রেডিও স্টেশনে যোগাযোগ করেন। সেখান থেকে তাকে জানানো হয়, ওই নারীর বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টটি সম্পূর্ণ ভুয়া।

তখনই মার্টিনস বুঝতে পারেন, যাকে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তিনি আসলে এআই প্রযুক্তিতে তৈরি একটি কাল্পনিক চরিত্র।

মার্টিনস বলেন, ‘এটি কেবল দুঃখ, হতাশা আর বিষণ্নতাই বয়ে আনে। অনেকেই হয়তো কোনো সম্পর্কের সন্ধানে ছিল, তাই আমিও এসেছিলাম।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই অ্যাকাউন্টটির পেছনে থাকা ব্যক্তি পরে স্বীকার করেন, চরিত্রটি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি। তবে মার্টিনসের সঙ্গে সরাসরি কোনো যোগাযোগের কথা অস্বীকার করেন তিনি।

ভ্রমণের পেছনে নিজের সব অর্থ ব্যয় করে বেলো হোরিজন্তে অসহায় অবস্থায় আটকা পড়েন মার্টিনস। শেষ পর্যন্ত সাহায্যের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হন তিনি। সমাজকর্মীরা তাকে খাবার, গোসলের সুবিধা এবং শহরটি ছেড়ে যাওয়ার জন্য বাসের টিকিট দিয়ে সহায়তা করেন।

এত বড় হতাশার পরও জীবনসঙ্গী খোঁজার আশা ছাড়েননি মার্টিনস। বর্তমানে তিনি এক আত্মীয়ের বাড়িতে থাকছেন। আবারও বেলো হোরিজন্তে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। তার আশা, সেখানে হয়তো এমন কাউকে খুঁজে পাবেন, যার সঙ্গে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারবেন।

মার্টিনস বলেন, ‘আমি তাকে খুঁজে পাইনি, তবে অন্য কাউকে নিশ্চয়ই খুঁজে পাব। আর সেটি সেই একই জায়গায় হবে যেখানে আমি আগে গিয়েছিলাম—আমি আবারও সেখানে যাব।’

সূত্র: এনডিটিভি

নিউজটি শেয়ার করুন

স্বপ্নের নারীর জন্য সর্বস্ব বিক্রি; দেখতে গিয়ে জানতে পারল এআই

আপডেট সময় ১২:১০:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ব্রাজিলে এআইয়ের তৈরি এক কাল্পনিক নারীকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার আশায় নিজের সব সম্পত্তি বিক্রি করে ১ হাজার ৯৩১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছিলেন ৪৯ বছর বয়সি এদিমার মার্টিনস। কিন্তু নির্ধারিত শহরে পৌঁছে জানতে পারেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত হওয়া ওই নারীর বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি একটি কাল্পনিক চরিত্র।

ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মারানহাওয়ের বাসিন্দা মার্টিনস পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। কয়েক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে পরিচয়ের পর একপর্যায়ে তাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন তিনি। ওই নারীর সঙ্গে দেখা করার জন্য নিজের সব সম্পত্তি বিক্রি করে যাত্রা শুরু করেন মার্টিনস।

স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিভি মিরান্তেকে মার্টিনস জানান, ২০২০ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেসিকা অলিভেইরা নামের এক নারীর অ্যাকাউন্ট খুঁজে পান তিনি। অ্যাকাউন্টটিতে লক্ষাধিক অনুসারী ছিল। সেখানে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী খামারে মনোরম গ্রামীণ জীবনযাপন করছেন। ভিডিওতে তিনি পুরুষদের তার সঙ্গে থাকার আমন্ত্রণ জানাতেন এবং থাকার জায়গা ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিতেন।

আরও পড়ুন  এইচএসসির নিবন্ধনে প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেফতার

মায়ের মৃত্যুর পর একাকিত্বে ভুগছিলেন মার্টিনস। তার ধারণা হয়েছিল, ওই নারী হয়তো তাকে নতুন করে জীবন শুরু করতে সাহায্য করতে পারবেন। অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ওই চরিত্রটি তাকে আর্থিক সহায়তা এবং নিজের খামারে থাকার জায়গা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে মার্টিনস তার সঙ্গে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯ অক্টোবর নিজের সব জিনিসপত্র বিক্রি করে পাওয়া অর্থ নিয়ে ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মিনাস জেরাইসের রাজধানী বেলো হোরিজন্তের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। বাসে এক দিনেরও বেশি সময় ভ্রমণের পর ১১ অক্টোবর শহরটিতে পৌঁছান।

কিন্তু সেখানে গিয়ে তার আশা ভেঙে যায়। সঙ্গে থাকা ছবিগুলো দেখিয়ে শহরের মানুষের কাছে ওই নারী সম্পর্কে জানতে চান মার্টিনস। তবে কেউই তাকে শনাক্ত করতে পারেননি। পরে তিনি একটি স্থানীয় রেডিও স্টেশনে যোগাযোগ করেন। সেখান থেকে তাকে জানানো হয়, ওই নারীর বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টটি সম্পূর্ণ ভুয়া।

তখনই মার্টিনস বুঝতে পারেন, যাকে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তিনি আসলে এআই প্রযুক্তিতে তৈরি একটি কাল্পনিক চরিত্র।

মার্টিনস বলেন, ‘এটি কেবল দুঃখ, হতাশা আর বিষণ্নতাই বয়ে আনে। অনেকেই হয়তো কোনো সম্পর্কের সন্ধানে ছিল, তাই আমিও এসেছিলাম।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই অ্যাকাউন্টটির পেছনে থাকা ব্যক্তি পরে স্বীকার করেন, চরিত্রটি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি। তবে মার্টিনসের সঙ্গে সরাসরি কোনো যোগাযোগের কথা অস্বীকার করেন তিনি।

ভ্রমণের পেছনে নিজের সব অর্থ ব্যয় করে বেলো হোরিজন্তে অসহায় অবস্থায় আটকা পড়েন মার্টিনস। শেষ পর্যন্ত সাহায্যের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হন তিনি। সমাজকর্মীরা তাকে খাবার, গোসলের সুবিধা এবং শহরটি ছেড়ে যাওয়ার জন্য বাসের টিকিট দিয়ে সহায়তা করেন।

এত বড় হতাশার পরও জীবনসঙ্গী খোঁজার আশা ছাড়েননি মার্টিনস। বর্তমানে তিনি এক আত্মীয়ের বাড়িতে থাকছেন। আবারও বেলো হোরিজন্তে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। তার আশা, সেখানে হয়তো এমন কাউকে খুঁজে পাবেন, যার সঙ্গে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারবেন।

মার্টিনস বলেন, ‘আমি তাকে খুঁজে পাইনি, তবে অন্য কাউকে নিশ্চয়ই খুঁজে পাব। আর সেটি সেই একই জায়গায় হবে যেখানে আমি আগে গিয়েছিলাম—আমি আবারও সেখানে যাব।’

সূত্র: এনডিটিভি