০৯:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
জনসম্মুখে প্রথমবার বক্তব্য রাখলেন জাইমা রহমান হৃদয় ম্যাজিকে রংপুরের জয়, এক ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরি জয় দিয়ে শুরু বাংলার বাঘিনিদের বাছাইপর্বের লড়াই ‘যথেষ্ট সংস্কার হলেও পুলিশ সংস্কার প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি’: আসিফ নজরুল ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ স্থায়ী আসন পেতে দিতে হবে ১ বিলিয়ন ডলার। প্রস্তুতি না থাকায় ইরান হামলা থেকে ট্রাম্পকে থামালো ইসরায়েল। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে বিশ্বকাপ বয়কটের হুঁশিয়ারি দিলো জার্মানি সাভারে পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারে মা ও শিশুর পোড়া মরদেহ উদ্ধার ​নির্বাচন সুষ্ঠু করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ওবায়দুল কাদের ও সাদ্দামসহ ৭ আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আজ অভিযোগ গঠনের শুনানি

তুরস্কে চার দশকের সশস্ত্র লড়াইয়ের অবসান, পিকেকে বিলুপ্ত ঘোষণা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৫৪:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ মে ২০২৫
  • / 112

ছবি: সংগৃহীত

 

তুরস্কের বিরুদ্ধে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা সশস্ত্র সংগ্রামের অবসান ঘটাল কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)। সোমবার দলটির ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম ফিরাত নিউজ এজেন্সি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সংগঠনটি তাদের সশস্ত্র কার্যক্রম ও দলীয় কাঠামো বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার কয়েক দিন আগেই ইরাকের উত্তরাঞ্চলে একটি কংগ্রেসের আয়োজন করে পিকেকে। শুক্রবার অনুষ্ঠিত ওই কংগ্রেসের পর সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনটি নিজেকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে এবং সশস্ত্র আন্দোলনের ইতি টানে। এর মাধ্যমে তুরস্কে দীর্ঘ সময় ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

[bsa_pro_ad_space id=2]

ঘোষণায় পিকেকে বলেছে, তারা একটি ‘ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে’ উপনীত হয়েছে, যা অচিরেই কুর্দি জনগণসহ আন্তর্জাতিক মহলকে জানানো হবে। শুক্রবারের কংগ্রেসে দলটির প্রভাবশালী নেতা আবদুল্লাহ ওকলানের পক্ষ থেকে পাঠানো একটি বিবৃতি উপস্থাপন করা হয়, যেখানে তার দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সাল থেকে আবদুল্লাহ ওকলান তুরস্কের ইস্তাম্বুলের অদূরে একটি দ্বীপ কারাগারে বন্দি রয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি পিকেকে-কে অস্ত্র ফেলে দেওয়ার এবং সংগঠন বিলুপ্তির আহ্বান জানান। ধারণা করা হচ্ছে, কংগ্রেসে ওকলানের সেই বার্তারই প্রতিফলন ঘটেছে।

পিকেকে ১৯৮৪ সালে তুরস্কের কুর্দি জনগোষ্ঠীর জন্য একটি আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে সশস্ত্র লড়াই শুরু করে। ইরাকের উত্তরাঞ্চলকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে তারা তুরস্কে বিভিন্ন সময় হামলা চালিয়ে আসছিল। দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ কুর্দি জাতিগোষ্ঠীভুক্ত।

এই দীর্ঘ সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন পিকেকে-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পিকেকে’র এই ঘোষণা তুরস্কের জন্য যেমন স্বস্তির, তেমনি কুর্দি জনগণের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যও একটি নতুন দিগন্তের সূচনা হতে পারে। এখন দেখা যাক, তুর্কি সরকার এই ঘোষণাকে কীভাবে গ্রহণ করে এবং পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে কুর্দি জনগণের দাবি-দাওয়া মীমাংসার পথে কতটা অগ্রসর হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

[bsa_pro_ad_space id=4]

তুরস্কে চার দশকের সশস্ত্র লড়াইয়ের অবসান, পিকেকে বিলুপ্ত ঘোষণা

আপডেট সময় ০২:৫৪:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ মে ২০২৫

 

তুরস্কের বিরুদ্ধে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা সশস্ত্র সংগ্রামের অবসান ঘটাল কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)। সোমবার দলটির ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম ফিরাত নিউজ এজেন্সি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সংগঠনটি তাদের সশস্ত্র কার্যক্রম ও দলীয় কাঠামো বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার কয়েক দিন আগেই ইরাকের উত্তরাঞ্চলে একটি কংগ্রেসের আয়োজন করে পিকেকে। শুক্রবার অনুষ্ঠিত ওই কংগ্রেসের পর সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনটি নিজেকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে এবং সশস্ত্র আন্দোলনের ইতি টানে। এর মাধ্যমে তুরস্কে দীর্ঘ সময় ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

[bsa_pro_ad_space id=2]

ঘোষণায় পিকেকে বলেছে, তারা একটি ‘ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে’ উপনীত হয়েছে, যা অচিরেই কুর্দি জনগণসহ আন্তর্জাতিক মহলকে জানানো হবে। শুক্রবারের কংগ্রেসে দলটির প্রভাবশালী নেতা আবদুল্লাহ ওকলানের পক্ষ থেকে পাঠানো একটি বিবৃতি উপস্থাপন করা হয়, যেখানে তার দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সাল থেকে আবদুল্লাহ ওকলান তুরস্কের ইস্তাম্বুলের অদূরে একটি দ্বীপ কারাগারে বন্দি রয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি পিকেকে-কে অস্ত্র ফেলে দেওয়ার এবং সংগঠন বিলুপ্তির আহ্বান জানান। ধারণা করা হচ্ছে, কংগ্রেসে ওকলানের সেই বার্তারই প্রতিফলন ঘটেছে।

পিকেকে ১৯৮৪ সালে তুরস্কের কুর্দি জনগোষ্ঠীর জন্য একটি আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে সশস্ত্র লড়াই শুরু করে। ইরাকের উত্তরাঞ্চলকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে তারা তুরস্কে বিভিন্ন সময় হামলা চালিয়ে আসছিল। দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ কুর্দি জাতিগোষ্ঠীভুক্ত।

এই দীর্ঘ সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন পিকেকে-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পিকেকে’র এই ঘোষণা তুরস্কের জন্য যেমন স্বস্তির, তেমনি কুর্দি জনগণের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যও একটি নতুন দিগন্তের সূচনা হতে পারে। এখন দেখা যাক, তুর্কি সরকার এই ঘোষণাকে কীভাবে গ্রহণ করে এবং পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে কুর্দি জনগণের দাবি-দাওয়া মীমাংসার পথে কতটা অগ্রসর হয়।