ঢাকা ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রোহিঙ্গা সংকটের কার্যকর সমাধান রাখাইনেই নিহিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান থালাপতি বিজয়ের বিরুদ্ধে চেন্নাই পুলিশের মামলা বিসিএস ক্যাডার, প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী; এক নজরে সালাহউদ্দিন আহমদ ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করতে সম্মত হয়েছে: দাবি ট্রাম্পের সংসার সুখের করতে স্বামীকে কৃতজ্ঞতা জানানোর দিন আজ খুলনা পুলিশ লাইনে কনস্টেবলের রহস্যজনক আত্মহত্যা জিলকদ মাসের চাঁদ দেখতে সন্ধ্যায় বসছে জাতীয় কমিটি শ্রমিকদের দক্ষতা অনুযায়ী পেশা বদলের অনুমতি দিল কুয়েত সরকার অনুমতি মেলেনি ইরানের, হরমুজ প্রণালিতে আটকা ‘বাংলার জয়যাত্রা’ গরুর দুধের পুষ্টি ও শিশুর নিরাপত্তা: মায়েদের জন্য জরুরি স্বাস্থ্য টিপস

গাজায় ইসরায়েলি অবরোধে দুর্ভিক্ষ ও অনাহারে ৫৭ জনের মৃত্যু

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:১৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫
  • / 210

ছবি সংগৃহীত

 

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের পূর্ণাঙ্গ অবরোধের ফলে অনাহারে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭ জনে। খাদ্য, পানি ও ওষুধবাহী মানবিক সহায়তার ট্রাকগুলো সীমান্তেই আটকে রয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানায়, ইসরায়েলি বাহিনীর বাধার কারণে এসব সহায়তা এখনও গাজায় প্রবেশ করতে পারেনি।

অন্যদিকে, শনিবার (৩ মে) ইসরায়েলি বিমান ও স্থল হামলায় একদিনেই কমপক্ষে আরও ৩৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় চিকিৎসা ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।

আরও পড়ুন  গাজা সংকটে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ৫২ হাজার ৪৯৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৬৬ জন। তবে গাজা গভর্নমেন্ট মিডিয়া অফিস বলছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা বহু মানুষের মরদেহ এখনও উদ্ধার হয়নি। তাই প্রকৃত মৃতের সংখ্যা ৬১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে।

মানবিক সহায়তার অপ্রবেশযোগ্য পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। তারা অবিলম্বে গাজায় মানবিক সহায়তার প্রবেশ নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাগুলো বলছে, খাদ্য ও ওষুধ সংকট চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, এবং অনাহারে মৃত্যুর ঘটনাকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে একটি সমন্বিত হামলা চালায়, যেখানে ১,১৩৯ জন ইসরায়েলি নিহত হন এবং ২০০ জনের বেশি লোককে জিম্মি করে নেওয়া হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই ইসরায়েল গাজায় ভয়াবহ সামরিক অভিযান শুরু করে, যা এখনও পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই নতুন করে হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

গাজার মানুষ এখন মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি। খাদ্যহীনতা, ওষুধের সংকট এবং নিরাপত্তাহীনতার মাঝে দিন কাটাচ্ছে লাখো নিরীহ মানুষ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এখন বড় প্রশ্ন এই অবরোধ ও সহিংসতা কবে থামবে?

 

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজায় ইসরায়েলি অবরোধে দুর্ভিক্ষ ও অনাহারে ৫৭ জনের মৃত্যু

আপডেট সময় ১১:১৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫

 

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের পূর্ণাঙ্গ অবরোধের ফলে অনাহারে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭ জনে। খাদ্য, পানি ও ওষুধবাহী মানবিক সহায়তার ট্রাকগুলো সীমান্তেই আটকে রয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানায়, ইসরায়েলি বাহিনীর বাধার কারণে এসব সহায়তা এখনও গাজায় প্রবেশ করতে পারেনি।

অন্যদিকে, শনিবার (৩ মে) ইসরায়েলি বিমান ও স্থল হামলায় একদিনেই কমপক্ষে আরও ৩৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় চিকিৎসা ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।

আরও পড়ুন  গাজায় পোলিও টিকাদান স্থগিত, ৬ লাখ শিশু ঝুঁকিতে

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ৫২ হাজার ৪৯৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৬৬ জন। তবে গাজা গভর্নমেন্ট মিডিয়া অফিস বলছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা বহু মানুষের মরদেহ এখনও উদ্ধার হয়নি। তাই প্রকৃত মৃতের সংখ্যা ৬১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে।

মানবিক সহায়তার অপ্রবেশযোগ্য পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। তারা অবিলম্বে গাজায় মানবিক সহায়তার প্রবেশ নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাগুলো বলছে, খাদ্য ও ওষুধ সংকট চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, এবং অনাহারে মৃত্যুর ঘটনাকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে একটি সমন্বিত হামলা চালায়, যেখানে ১,১৩৯ জন ইসরায়েলি নিহত হন এবং ২০০ জনের বেশি লোককে জিম্মি করে নেওয়া হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই ইসরায়েল গাজায় ভয়াবহ সামরিক অভিযান শুরু করে, যা এখনও পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই নতুন করে হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

গাজার মানুষ এখন মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি। খাদ্যহীনতা, ওষুধের সংকট এবং নিরাপত্তাহীনতার মাঝে দিন কাটাচ্ছে লাখো নিরীহ মানুষ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এখন বড় প্রশ্ন এই অবরোধ ও সহিংসতা কবে থামবে?