ঢাকা ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

গাজায় ইসরায়েলি অবরোধে দুর্ভিক্ষ ও অনাহারে ৫৭ জনের মৃত্যু

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:১৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫
  • / 296

ছবি সংগৃহীত

 

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের পূর্ণাঙ্গ অবরোধের ফলে অনাহারে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭ জনে। খাদ্য, পানি ও ওষুধবাহী মানবিক সহায়তার ট্রাকগুলো সীমান্তেই আটকে রয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানায়, ইসরায়েলি বাহিনীর বাধার কারণে এসব সহায়তা এখনও গাজায় প্রবেশ করতে পারেনি।

অন্যদিকে, শনিবার (৩ মে) ইসরায়েলি বিমান ও স্থল হামলায় একদিনেই কমপক্ষে আরও ৩৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় চিকিৎসা ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।

আরও পড়ুন  গাজা যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসবে আরব নেতারা

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ৫২ হাজার ৪৯৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৬৬ জন। তবে গাজা গভর্নমেন্ট মিডিয়া অফিস বলছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা বহু মানুষের মরদেহ এখনও উদ্ধার হয়নি। তাই প্রকৃত মৃতের সংখ্যা ৬১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে।

মানবিক সহায়তার অপ্রবেশযোগ্য পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। তারা অবিলম্বে গাজায় মানবিক সহায়তার প্রবেশ নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাগুলো বলছে, খাদ্য ও ওষুধ সংকট চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, এবং অনাহারে মৃত্যুর ঘটনাকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে একটি সমন্বিত হামলা চালায়, যেখানে ১,১৩৯ জন ইসরায়েলি নিহত হন এবং ২০০ জনের বেশি লোককে জিম্মি করে নেওয়া হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই ইসরায়েল গাজায় ভয়াবহ সামরিক অভিযান শুরু করে, যা এখনও পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই নতুন করে হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

গাজার মানুষ এখন মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি। খাদ্যহীনতা, ওষুধের সংকট এবং নিরাপত্তাহীনতার মাঝে দিন কাটাচ্ছে লাখো নিরীহ মানুষ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এখন বড় প্রশ্ন এই অবরোধ ও সহিংসতা কবে থামবে?

 

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজায় ইসরায়েলি অবরোধে দুর্ভিক্ষ ও অনাহারে ৫৭ জনের মৃত্যু

আপডেট সময় ১১:১৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫

 

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের পূর্ণাঙ্গ অবরোধের ফলে অনাহারে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭ জনে। খাদ্য, পানি ও ওষুধবাহী মানবিক সহায়তার ট্রাকগুলো সীমান্তেই আটকে রয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানায়, ইসরায়েলি বাহিনীর বাধার কারণে এসব সহায়তা এখনও গাজায় প্রবেশ করতে পারেনি।

অন্যদিকে, শনিবার (৩ মে) ইসরায়েলি বিমান ও স্থল হামলায় একদিনেই কমপক্ষে আরও ৩৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় চিকিৎসা ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।

আরও পড়ুন  গাজা এখন ‘শিশু ও অনাহারীদের কবরস্থান’: জাতিসংঘের সতর্কবার্তা

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ৫২ হাজার ৪৯৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৬৬ জন। তবে গাজা গভর্নমেন্ট মিডিয়া অফিস বলছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা বহু মানুষের মরদেহ এখনও উদ্ধার হয়নি। তাই প্রকৃত মৃতের সংখ্যা ৬১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে।

মানবিক সহায়তার অপ্রবেশযোগ্য পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। তারা অবিলম্বে গাজায় মানবিক সহায়তার প্রবেশ নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাগুলো বলছে, খাদ্য ও ওষুধ সংকট চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, এবং অনাহারে মৃত্যুর ঘটনাকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে একটি সমন্বিত হামলা চালায়, যেখানে ১,১৩৯ জন ইসরায়েলি নিহত হন এবং ২০০ জনের বেশি লোককে জিম্মি করে নেওয়া হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই ইসরায়েল গাজায় ভয়াবহ সামরিক অভিযান শুরু করে, যা এখনও পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই নতুন করে হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

গাজার মানুষ এখন মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি। খাদ্যহীনতা, ওষুধের সংকট এবং নিরাপত্তাহীনতার মাঝে দিন কাটাচ্ছে লাখো নিরীহ মানুষ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এখন বড় প্রশ্ন এই অবরোধ ও সহিংসতা কবে থামবে?