ঢাকা ০১:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬
শিরোনাম :
এক মায়ের চোখে নতুন আলো, পাশে এমপি সালাউদ্দিন বাবু; চীনে অধ্যয়নরত ছেলের কৃতজ্ঞতা ‘রক্তঝরা জুলাই’ অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ নিয়ে যা বলছে ভারত জুলাই সনদ সামনে রেখে পুরো সংবিধান পর্যালোচনা করবে বিশেষ কমিটি বাংলাদেশি ৯৭ শতাংশ পণ্যে শুল্ক সুবিধা দেবে দক্ষিণ কোরিয়া মালয়েশিয়ায় ৩ বাংলাদেশি নিহত পরকীয়ার অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া গ্রামবাসীর হাতে আটক ৬ আগস্ট থেকে জুলাই জাদুঘর উন্মুক্ত, থাকবে টিকিট ব্যবস্থা শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমকে ফের সতর্ক করলেন তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা সিরাজগঞ্জে ট্রেন লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ

দেশের সাংস্কৃতিক পরিবেশ সংকটে: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:২৯:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / 23

ছবি: সংগৃহীত

 

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটের মধ্যে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। তিনি বলেছেন, দেশের সাংস্কৃতিক পরিবেশ বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকার সাংস্কৃতিক খাত পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে এবং একটি পরিশীলিত সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদের আয়োজিত ৬৯তম আবৃত্তি উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ সাবেক প্রতিমন্ত্রী, ঢামেকে ভর্তি

আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, সংস্কৃতি কেবল গান, নাচ বা আবৃত্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি জাতির চেতনা, মূল্যবোধ ও মানবিক বিকাশের অন্যতম ভিত্তি। তবে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রই বর্তমানে বিভিন্ন সংকট ও জটিলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, সংগীত, আবৃত্তিসহ সংস্কৃতির প্রতিটি শাখায় উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে। একটি সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশ ছাড়া সমাজে মানবিক মূল্যবোধ ও গণতান্ত্রিক চেতনার বিকাশও বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংস্কৃতি খাত পুনর্গঠনে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার নতুনভাবে সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল গড়ে তুলতে কাজ করছে। এ বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে আন্তরিক এবং সংস্কৃতি খাতকে কীভাবে পুনরুজ্জীবিত ও আরও পরিশীলিত করা যায়, তা নিয়ে একাধিক বৈঠকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন বলেন, আবৃত্তি শুধু ভাষা চর্চা বা মঞ্চে উপস্থাপনার বিষয় নয়; এটি কণ্ঠ নিয়ন্ত্রণ, শুদ্ধ উচ্চারণ ও সঠিক শব্দ ব্যবহারের দক্ষতা গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আবৃত্তি চর্চাকে আরও উৎসাহিত করার পাশাপাশি এ খাতে সরকারি বরাদ্দ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বিদেশি শিল্পীদের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশের শিল্পী ও আবৃত্তিশিল্পীদের পেশাগত সুযোগ বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহম্মেদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমিন এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক।

অনুষ্ঠানে কবি সম্মাননা প্রদান করা হয় যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদারকে। আবৃত্তিশিল্পী সম্মাননায় ভূষিত হন রেজাউল হোসেন টিটো।

নিউজটি শেয়ার করুন

দেশের সাংস্কৃতিক পরিবেশ সংকটে: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

আপডেট সময় ১১:২৯:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

 

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটের মধ্যে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। তিনি বলেছেন, দেশের সাংস্কৃতিক পরিবেশ বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকার সাংস্কৃতিক খাত পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে এবং একটি পরিশীলিত সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদের আয়োজিত ৬৯তম আবৃত্তি উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  দুই সপ্তাহে ১২ হাতির মৃত্যু, বিষয়টি স্বাভাবিক নয়: পরিবেশ উপদেষ্টা

আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, সংস্কৃতি কেবল গান, নাচ বা আবৃত্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি জাতির চেতনা, মূল্যবোধ ও মানবিক বিকাশের অন্যতম ভিত্তি। তবে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রই বর্তমানে বিভিন্ন সংকট ও জটিলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, সংগীত, আবৃত্তিসহ সংস্কৃতির প্রতিটি শাখায় উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে। একটি সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশ ছাড়া সমাজে মানবিক মূল্যবোধ ও গণতান্ত্রিক চেতনার বিকাশও বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংস্কৃতি খাত পুনর্গঠনে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার নতুনভাবে সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল গড়ে তুলতে কাজ করছে। এ বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে আন্তরিক এবং সংস্কৃতি খাতকে কীভাবে পুনরুজ্জীবিত ও আরও পরিশীলিত করা যায়, তা নিয়ে একাধিক বৈঠকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন বলেন, আবৃত্তি শুধু ভাষা চর্চা বা মঞ্চে উপস্থাপনার বিষয় নয়; এটি কণ্ঠ নিয়ন্ত্রণ, শুদ্ধ উচ্চারণ ও সঠিক শব্দ ব্যবহারের দক্ষতা গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আবৃত্তি চর্চাকে আরও উৎসাহিত করার পাশাপাশি এ খাতে সরকারি বরাদ্দ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বিদেশি শিল্পীদের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশের শিল্পী ও আবৃত্তিশিল্পীদের পেশাগত সুযোগ বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহম্মেদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমিন এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক।

অনুষ্ঠানে কবি সম্মাননা প্রদান করা হয় যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদারকে। আবৃত্তিশিল্পী সম্মাননায় ভূষিত হন রেজাউল হোসেন টিটো।