লালমোহনে দলিল লেখক সমিতির সভাপতির মরদেহ উদ্ধার
- আপডেট সময় ০৯:৩৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
- / 23
ভোলার লালমোহনে একটি ভাড়া বাসা থেকে আবদুল্লাহ আল মাহমুদ (৩৮) নামে চরফ্যাশন দলিল লেখক সমিতির সভাপতির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোরে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি তিনতলা ভবনের কক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে আবদুল্লাহর পরিবারের দাবি, তাঁকে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে স্থানীয় বাবুলের মালিকানাধীন ওই ভবনের একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তা ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত আবদুল্লাহ আল মাহমুদ চরফ্যাশন পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জয়নাল আবেদিনের ছেলে।
আবদুল্লাহর বাবা জয়নাল আবেদিন জানান, দলিল লেখক সমিতির সভাপতি থাকার সুবাদে তাঁর ছেলের সঙ্গে লালমোহনের বাসিন্দা নাহিদা পারভীনের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নাহিদা সে সময় চরফ্যাশন সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
জয়নাল আবেদিনের ভাষ্য, পরে আবদুল্লাহ ও নাহিদা দুজনই আগের সংসার থেকে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে ২০২৩ সালে বিয়ে করেন। আবদুল্লাহর আগের সংসারে দুই মেয়ে এবং নাহিদা পারভীনের আগের সংসারে একটি সন্তান ছিল।
বিয়ের পর নাহিদা স্বামীকে নিয়ে তাঁর বাবার বাড়ি লালমোহনে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। প্রায় তিন বছর ধরে তাঁরা সেখানে থাকছিলেন। এ দম্পতির একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
আবদুল্লাহর পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের বিষয়ে অভিযোগ তুলে জয়নাল আবেদিন বলেন, বিয়ের পর থেকে তাঁর ছেলেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হতো না।
তিনি আরও জানান, শুক্রবার সকালে পুত্রবধূ নাহিদা মুঠোফোনে তাঁকে ছেলের মৃত্যুর খবর দেন। তবে তাঁর দাবি, আবদুল্লাহ আত্মহত্যা করতে পারেন না। তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, আবদুল্লাহর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তাঁর স্ত্রীর ভাড়া বাসায় গিয়ে নাহিদা পারভীনকে পাওয়া যায়নি। ওই বাসায় কয়েকজনকে দেখা গেলেও নাহিদার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বর্তমানে তিনি তজুমদ্দিন সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার জানান, খবর পেয়ে শুক্রবার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ওসি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আবদুল্লাহ আল মাহমুদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।


























