পটুয়াখালীতে বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ৪
- আপডেট সময় ১০:৩২:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 36
পটুয়াখালীতে অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষের পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে গেছে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস। এ ঘটনায় অটোরিকশার চার যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার বসাক বাজারসংলগ্ন ধলু গাজীর মোড় এলাকায় ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরগুনার তালতলী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা ‘ইমরান ট্রাভেলস’-এর বাসটি ধলু গাজীর মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর উভয় যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এ সময় অটোরিকশাটি বাসের নিচে চাপা পড়ে।
দুর্ঘটনার শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সেখানে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত চারজনই অটোরিকশার যাত্রী।
নিহতরা হলেন কাইয়ুম মিয়া (৫০), শিল্পী রানী (৪০), তিথি রানী (২৩) ও মিরাজ (৩৫)। তাঁদের সবার বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায়।
স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার সময় বাসটি খাদে পড়ে পানিতে নিমজ্জিত হয়। বাসটিতে প্রায় ৩৫ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে বাসের যাত্রীদের মধ্যে বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর বাসটির চালক ও সুপারভাইজার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
বাসের যাত্রী এমদাদুল বলেন, দুর্ঘটনার আগে বাসটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল বলে তাঁর মনে হয়েছে। পরে কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা বুঝতে পারেননি তিনি।
পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. রেজোয়ান রাতে বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। বাসের ভেতরে কেউ আটকা পড়েছেন কি না এবং পানির মধ্যে আরও কোনো মরদেহ রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আর কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে এখন পর্যন্ত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকাজ চলমান রয়েছে। উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পর হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।























