আইসিসির ওপর পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের
- আপডেট সময় ০৪:৪৮:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 25
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসির ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে নিউইয়র্কে এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।
এর আগে ইসরাইলি নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ আদালতের বিভিন্ন পদক্ষেপের জেরে আইসিসির একাধিক বিচারক ও কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ওয়াশিংটন। এবার পুরো প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট একটি সময়সীমা পার হওয়ার পর মার্কিন নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর আইসিসির সঙ্গে অধিকাংশ আর্থিক ও বাণিজ্যিক লেনদেন নিষিদ্ধ হতে পারে। তবে বিশেষ লাইসেন্সের মাধ্যমে কিছু কার্যক্রমের অনুমতি দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।
এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে আইসিসির দৈনন্দিন কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে। আদালটির প্রযুক্তি সেবা, বীমা, আর্থিক লেনদেন এবং কর্মীদের বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এসব ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আইসিসির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সাম্প্রতিক সময়ে আরও কঠোর হয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আইসিসির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এরপর আদালতের বিচারক ও কর্মকর্তাদের ওপর একাধিক দফায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। চলতি বছরের আগস্টেও আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে ও জ্যেষ্ঠ ট্রায়াল আইনজীবী আবদুলায়ে সেয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
আইসিসির সঙ্গে ওয়াশিংটনের বিরোধের অন্যতম কারণ ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। গাজা যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কথিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে এসব পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল—দুই দেশই আইসিসির সদস্য নয় এবং আদালতের এখতিয়ার নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।
এ ছাড়া আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে আইসিসির আগের তদন্ত নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এর আগে আদালটিকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন।
এদিকে আইসিসির কার্যক্রম সচল রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মোকাবিলার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা চলছে। ইউরোপের কিছু কর্মকর্তা ও আদালতের সমর্থকেরা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় ‘ব্লকিং স্ট্যাটাস’ ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছেন।
২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসি গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ব্যক্তিদের বিচার করে। আদালতটি বর্তমানে ১২৫টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন নিষেধাজ্ঞা এখনো চূড়ান্তভাবে ঘোষণা হয়নি। ফলে এর সুনির্দিষ্ট পরিধি ও কার্যকর হওয়ার সময়সীমা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত নয়।
























