যুদ্ধবিরতির খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধস
- আপডেট সময় ০১:৪৪:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
- / 40
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরপরই বিশ্ব অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে এবং এশিয়াসহ বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। আজ বুধবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছে।
যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বেড়ে ১১৯ ডলারে উঠে গিয়েছিল। তবে যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার নিশ্চয়তা আসায় আজ তেলের দামে এই বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যদিও বর্তমান দাম (৯২ ডলার) যুদ্ধের আগের গড় দামের (৭০ ডলার) চেয়ে বেশি, তবুও এই নিম্নমুখী প্রবণতা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর।
যুদ্ধবিরতির খবরে এশিয়ার পুঁজিবাজারে খুশির হাওয়া বইছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফেরায় প্রধান প্রধান সূচকগুলোর উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে:
জাপান: নিক্কেই ২২৫ সূচক ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়া: কসপি সূচক বেড়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্র: ওয়াল স্ট্রিটেও ইতিবাচক সূচনার আভাস পাওয়া গেছে। ফিউচারস বা আগাম লেনদেনের ইঙ্গিত অনুযায়ী, আজ বাজার খোলার পর মার্কিন সূচকগুলোর বড় উত্থান হতে পারে।
মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ ও তাৎক্ষণিকভাবে খুলে দেওয়ার শর্তে তিনি দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত রাখতে রাজি হয়েছেন। এর আগে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, সমঝোতা না হলে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হতে পারে। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, হামলা বন্ধের শর্তে তেহরান জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যুদ্ধবিরতি পালনে সম্মত।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আলফাসেন্সের বিশ্লেষক জ্যাভিয়ার স্মিথ মনে করেন, তেলের দাম অস্বাভাবিক বাড়লে তা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্য আত্মঘাতী হতো। তাই ট্রাম্প এই সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছেন। তবে এমএসটি মার্কির বিশ্লেষক সল কেভোনিক সতর্ক করে বলেছেন, যতক্ষণ না স্থায়ী শান্তিচুক্তি হচ্ছে, ততক্ষণ মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না। এছাড়া অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে উৎপাদন আগের অবস্থায় ফিরতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধের কারণে ফিলিপাইনের মতো দেশগুলো চরম সংকটে পড়েছিল, যাদের ৯৮ শতাংশ জ্বালানি মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। গত ২৪ মার্চ দেশটি জ্বালানি জরুরি অবস্থাও ঘোষণা করেছিল। জাপানের ইনস্টিটিউট অব এনার্জি ইকোনমিকসের গবেষক ইচিরো কুতানি বলেন, এই যুদ্ধবিরতি বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিনির্ভর এশীয় দেশগুলোর জন্য বড় ধরনের আশীর্বাদ হয়ে আসবে।























