বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা নিয়ে কড়া বার্তা
- আপডেট সময় ০৩:৫৫:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
- / 11
দেশে চলমান তীব্র জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বিয়েসহ যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এই জরুরি নির্দেশনার কথা জানান। আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে এই সিদ্ধান্ত সারাদেশে কার্যকর হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ অপচয় রোধে এখন থেকে বিয়ে, গায়ে হলুদ বা অন্য কোনো সামাজিক ও উৎসবকেন্দ্রিক অনুষ্ঠানে কোনো ধরনের আলোকসজ্জা করা যাবে না। এই নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। মূলত বিনোদনমূলক খাতে বিদ্যুতের ব্যবহার কমিয়ে জরুরি সেবা সচল রাখতেই এই ‘কৃচ্ছ্রসাধন’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
আগামী রোববার থেকে সরকারি ও বেসরকারি খাতের কর্মঘণ্টায় বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে:
সরকারি-বেসরকারি অফিস: বর্তমান কর্মঘণ্টা ১ ঘণ্টা কমিয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: গ্রাহক লেনদেনের জন্য ব্যাংক খোলা থাকবে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত। তবে অভ্যন্তরীণ কাজের জন্য বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যাংক সচল থাকবে।
ব্যবসায়িক খাতের জন্য নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সব ধরনের মার্কেট, দোকানপাট ও শপিং মল সন্ধ্যা ৬টার পর আর খোলা রাখা যাবে না। তবে ওষুধের দোকান ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জরুরি সেবার দোকানগুলো এই সময়ের পরেও খোলা থাকতে পারবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তদারকিতে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সময়সূচি বা অনলাইন ক্লাসের বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ধাপে ধাপে পর্যালোচনা করছে। আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা নির্দেশনা জারি করা হবে।
নাসিমুল গণি জানান, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় এই কঠোর পদক্ষেপগুলো নিতে বাধ্য হয়েছে সরকার। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বর্তমান সংকটকালে সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সর্বোচ্চ মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রিসভা।






















