ঢাকা ০৯:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
বিচ্ছেদের পর নতুন রূপে শেহতাজ রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব আতাউর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা কমছে নেতানিয়াহুর, খুঁজছেন নতুন মিত্র সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুজনের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে পাঁচ বিষয়ে অগ্রাধিকার ববি হাজ্জাজের নিজ সন্তানের জন্য হলেও ঢাকা পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, তথ্যের ঘাটতি ছিল মিডিয়ায় আমাকে টার্গেট করা হয়েছে, বললেন ইশরাক মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের ঘোষণা ইশরাকের, প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দিলেন পদত্যাগপত্র

টাকা ছাড়াও যা লাগবে তেল কিনতে: অপচয় ও মজুত ঠেকাতে বিপিসির নতুন নির্দেশনা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:২১:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
  • / 226

ছবি: সংগৃহীত

 

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে। এই পরিস্থিতিতে তেলের অপচয় ও অবৈধ মজুত ঠেকাতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। এখন থেকে ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি তেল কিনতে হলে টাকা দেওয়ার পাশাপাশি আগের ক্রয়ের রসিদ দেখাতে হবে।

শুক্রবার দেওয়া নির্দেশনায় বিপিসি জানায়, গ্রাহক আগেরবার কতটুকু তেল কিনেছেন এবং কতদিন পর আবার তেল নিতে এসেছেন—তার প্রমাণ হিসেবে আগের রসিদ দেখাতে হবে। রসিদ ছাড়া নতুন করে তেল দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুন  কুয়েতের তেলক্ষেত্রে ইরানি ড্রোন হামলা ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির শঙ্কা

নতুন নিয়ম অনুযায়ী যানবাহনভেদে দৈনিক তেল নেওয়ার নির্দিষ্ট সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন এবং ব্যক্তিগত গাড়িতে দিনে ১০ লিটার পর্যন্ত তেল নেওয়া যাবে।

এ ছাড়া স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল (এসইউভি) ও মাইক্রোবাস প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল পাবে। পিকআপ বা স্থানীয় বাস দৈনিক ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে। দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনার ট্রাকের ক্ষেত্রে দৈনিক সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ থেকে ২২০ লিটার।

বিপিসি জানিয়েছে, দেশের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেলের সংকট নিয়ে নানা নেতিবাচক খবর ছড়িয়ে পড়ায় কিছু মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনে মজুত করার চেষ্টা করছেন।

এই আতঙ্কিত কেনাকাটা বা ‘প্যানিক বায়িং’ ঠেকাতেই রসিদ দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিপিসি আরও জানিয়েছে, ফিলিং স্টেশনগুলোকে তেলের ধরন, পরিমাণ ও দাম উল্লেখ করে গ্রাহকদের রসিদ দিতে হবে। একই সঙ্গে ডিলারদের ডিপো থেকে তেল সংগ্রহের সময় আগের দিনের বিক্রয় ও মজুতের তথ্য জমা দিতে হবে। তথ্যের গরমিল থাকলে বা বরাদ্দের অতিরিক্ত তেল কোনোভাবেই দেওয়া হবে না।

বর্তমানে রেল ওয়াগন ও ট্যাংকারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ডিপোতে নিয়মিত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিপিসি। শিগগিরই পর্যাপ্ত ‘বাফার স্টক’ গড়ে উঠবে বলেও আশ্বাস দিয়েছে সংস্থাটি।

নতুন এই নির্দেশনা আগামী রোববার থেকে সারা দেশে কার্যকর হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

টাকা ছাড়াও যা লাগবে তেল কিনতে: অপচয় ও মজুত ঠেকাতে বিপিসির নতুন নির্দেশনা

আপডেট সময় ১০:২১:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

 

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে। এই পরিস্থিতিতে তেলের অপচয় ও অবৈধ মজুত ঠেকাতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। এখন থেকে ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি তেল কিনতে হলে টাকা দেওয়ার পাশাপাশি আগের ক্রয়ের রসিদ দেখাতে হবে।

শুক্রবার দেওয়া নির্দেশনায় বিপিসি জানায়, গ্রাহক আগেরবার কতটুকু তেল কিনেছেন এবং কতদিন পর আবার তেল নিতে এসেছেন—তার প্রমাণ হিসেবে আগের রসিদ দেখাতে হবে। রসিদ ছাড়া নতুন করে তেল দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুন  এপ্রিলে জ্বালানি তেলের সংকট হবে না, মজুত না করার আহ্বান জ্বালানি বিভাগের

নতুন নিয়ম অনুযায়ী যানবাহনভেদে দৈনিক তেল নেওয়ার নির্দিষ্ট সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন এবং ব্যক্তিগত গাড়িতে দিনে ১০ লিটার পর্যন্ত তেল নেওয়া যাবে।

এ ছাড়া স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল (এসইউভি) ও মাইক্রোবাস প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল পাবে। পিকআপ বা স্থানীয় বাস দৈনিক ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে। দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনার ট্রাকের ক্ষেত্রে দৈনিক সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ থেকে ২২০ লিটার।

বিপিসি জানিয়েছে, দেশের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেলের সংকট নিয়ে নানা নেতিবাচক খবর ছড়িয়ে পড়ায় কিছু মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনে মজুত করার চেষ্টা করছেন।

এই আতঙ্কিত কেনাকাটা বা ‘প্যানিক বায়িং’ ঠেকাতেই রসিদ দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিপিসি আরও জানিয়েছে, ফিলিং স্টেশনগুলোকে তেলের ধরন, পরিমাণ ও দাম উল্লেখ করে গ্রাহকদের রসিদ দিতে হবে। একই সঙ্গে ডিলারদের ডিপো থেকে তেল সংগ্রহের সময় আগের দিনের বিক্রয় ও মজুতের তথ্য জমা দিতে হবে। তথ্যের গরমিল থাকলে বা বরাদ্দের অতিরিক্ত তেল কোনোভাবেই দেওয়া হবে না।

বর্তমানে রেল ওয়াগন ও ট্যাংকারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ডিপোতে নিয়মিত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিপিসি। শিগগিরই পর্যাপ্ত ‘বাফার স্টক’ গড়ে উঠবে বলেও আশ্বাস দিয়েছে সংস্থাটি।

নতুন এই নির্দেশনা আগামী রোববার থেকে সারা দেশে কার্যকর হবে।