ঢাকা ০৮:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
পরিবারের বক্তব্যে বাংলাদেশি শনাক্ত করে ফেরত পাঠানো যায়? কলকাতা হাইকোর্টের প্রশ্ন জুয়ায় গ্রাহকের টাকা হারিয়ে ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের নাটক শান্তিতে নোবেল পেলেন নাভি পিল্লাই চীন সফরে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত দেখছেন ইসমাইল জবিউল্লাহ মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে প্রতারণা, এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ফুটপাত দখলের চেষ্টা হলে জনগণকে নিয়ে প্রতিরোধ: ডিএনসিসি প্রশাসক দিল্লিতে বিক্ষোভের আগে দুই স্টেশনে ট্রেন বন্ধ তানজিদের ৮৩ রানে দাপুটে শুরু বাংলাদেশের আওয়ামী সন্ত্রাসীরা এখন রিকশাচালক হিসেবে হাজির হয়েছে: চিফ হুইপ ইরানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে: ট্রাম্প

কুপিয়ে ও পিটিয়ে তাঁতি দল নেতাকে হত্যা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৪৪:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 207

ছবি সংগৃহীত

 

ফেনীর সোনাগাজীতে এক যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত যুবক জাতীয়তাবাদী তাঁতি দলের স্থানীয় নেতা। গতকাল বুধবার রাত আটটার দিকে উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের গুনক গ্রামে এমন ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবকের নাম আইয়ুব নবী (২৬)। তিনি বগাদানা ইউনিয়নের গুনক গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে। বগাদানা ইউনিয়ন তাঁতি দলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
তাঁতি দলের দাবি, জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা আইয়ুব নবীকে খুন করেছেন। জামায়াত এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা প্রাথমিক তদন্তে মেলেনি।

আরও পড়ুন  হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি: জ্বালানি সংকটে বিপদে বাংলাদেশ

নিহত আইয়ুব নবীর বাবা কামাল উদ্দিন বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা নাহিদ, সাঈদ, নিলয় ও নাহার তাঁর ছেলেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন। ‘ডাকাত’, ‘ডাকাত’ চিৎকার করে আইয়ুবের ওপর ওপর হামলা করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আইয়ুব নবীর এক প্রতিবেশী ও প্রতিবেশীর স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নানা বিষয়ে ঝগড়াঝাঁটি চলে আসছিল। গতকাল সন্ধ্যায় আইয়ুব নবী বিষয়টি মীমাংসা করতে ওই প্রতিবেশীর ঘরে যান। সেখানে বিরোধ মীমাংসার সময় আইয়ুব নবীর সঙ্গে কয়েকজন প্রতিবেশীর ঝগড়া বাধে। এর একপর্যায়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আইয়ুব নবীকে জখম করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলেই আইয়ুবের মৃত্যু হয়।

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সবাই পলাতক। তাই অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। এদিকে আইয়ুব নবী নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১২টার দিকে ফেনী শহরের জিরো পয়েন্টে বিক্ষোভ মিছিল করেন তাঁতি দলসহ বিএনপির বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। জাতীয়তাবাদী তাঁতি দলের ফেনী জেলা আহ্বায়ক সরোয়ার জাহান অভিযোগ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিরোধের জেরে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতা–কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে আইয়ুব নবীকে হত্যা করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মুহাম্মদ আবদুর রহীম বলেন, ‘আমরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতা ঘটনাকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে জামায়াতের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেছেন। হত্যার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে এলাকার পরিবেশকে অশান্ত করার এ চেষ্টার প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

সোনাগাজী মডেল থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি কিরিচ জব্দ করেছে পুলিশ। হামলাকারীরা পলাতক। তাঁদের আটকের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, স্থানীয় বিরোধ মীমাংসা করতে আইয়ুব নবী একটি ঘরে গেলে সেখানে তাঁকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো বিষয় প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া যায়নি।’

নিউজটি শেয়ার করুন

কুপিয়ে ও পিটিয়ে তাঁতি দল নেতাকে হত্যা

আপডেট সময় ০২:৪৪:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

ফেনীর সোনাগাজীতে এক যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত যুবক জাতীয়তাবাদী তাঁতি দলের স্থানীয় নেতা। গতকাল বুধবার রাত আটটার দিকে উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের গুনক গ্রামে এমন ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবকের নাম আইয়ুব নবী (২৬)। তিনি বগাদানা ইউনিয়নের গুনক গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে। বগাদানা ইউনিয়ন তাঁতি দলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
তাঁতি দলের দাবি, জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা আইয়ুব নবীকে খুন করেছেন। জামায়াত এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা প্রাথমিক তদন্তে মেলেনি।

আরও পড়ুন  হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি: জ্বালানি সংকটে বিপদে বাংলাদেশ

নিহত আইয়ুব নবীর বাবা কামাল উদ্দিন বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা নাহিদ, সাঈদ, নিলয় ও নাহার তাঁর ছেলেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন। ‘ডাকাত’, ‘ডাকাত’ চিৎকার করে আইয়ুবের ওপর ওপর হামলা করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আইয়ুব নবীর এক প্রতিবেশী ও প্রতিবেশীর স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নানা বিষয়ে ঝগড়াঝাঁটি চলে আসছিল। গতকাল সন্ধ্যায় আইয়ুব নবী বিষয়টি মীমাংসা করতে ওই প্রতিবেশীর ঘরে যান। সেখানে বিরোধ মীমাংসার সময় আইয়ুব নবীর সঙ্গে কয়েকজন প্রতিবেশীর ঝগড়া বাধে। এর একপর্যায়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আইয়ুব নবীকে জখম করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলেই আইয়ুবের মৃত্যু হয়।

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সবাই পলাতক। তাই অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। এদিকে আইয়ুব নবী নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১২টার দিকে ফেনী শহরের জিরো পয়েন্টে বিক্ষোভ মিছিল করেন তাঁতি দলসহ বিএনপির বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। জাতীয়তাবাদী তাঁতি দলের ফেনী জেলা আহ্বায়ক সরোয়ার জাহান অভিযোগ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিরোধের জেরে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতা–কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে আইয়ুব নবীকে হত্যা করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মুহাম্মদ আবদুর রহীম বলেন, ‘আমরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতা ঘটনাকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে জামায়াতের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেছেন। হত্যার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে এলাকার পরিবেশকে অশান্ত করার এ চেষ্টার প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

সোনাগাজী মডেল থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি কিরিচ জব্দ করেছে পুলিশ। হামলাকারীরা পলাতক। তাঁদের আটকের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, স্থানীয় বিরোধ মীমাংসা করতে আইয়ুব নবী একটি ঘরে গেলে সেখানে তাঁকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো বিষয় প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া যায়নি।’