ঢাকা ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় একদিনে প্রাণ হারালেন ১০০ ফিলিস্তিনি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫
  • / 580

ছবি সংগৃহীত

 

 

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি হামলায় আরও ১০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। এ ঘটনার ফলে গাজায় নিহতের মোট সংখ্যা ৫০ হাজার ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে।

আরও পড়ুন  ইরান ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে স্পষ্টভাবে বিজয় অর্জন করেছে: সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান

গত ১৮ মার্চ থেকে গাজায় নতুন করে ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে ১,১৫০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) বার্তাসংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজার উপর ইসরায়েলি হামলায় আরও ১০০ ফিলিস্তিনি নিহত হন, ফলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের আগ্রাসনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫০,৫২৩ জনে পৌঁছেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৩৮ জন আহত হয়ে হাসপাতাল ভর্তি হয়েছেন, যার ফলে আহতের সংখ্যা এখন ১,১৪,৭৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে। অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় পড়ে আছেন, কিন্তু উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।

দীর্ঘ ১৫ মাসের সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মুখে গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল। এরপর প্রায় দুই মাস শান্তি বজায় ছিল, তবে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রশ্নে হামাসের মতানৈক্যকে কেন্দ্র করে মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে আবার হামলা শুরু করে ইসরায়েল।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ মার্চ থেকে নতুন করে বিমান হামলায় ১,১৬৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২,৭০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এই হামলা চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে দিয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের আক্রমণের ফলে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

এর আগে গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে আগ্রাসনের জন্য ইসরায়েল আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলার মুখোমুখিও হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় একদিনে প্রাণ হারালেন ১০০ ফিলিস্তিনি

আপডেট সময় ১১:০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫

 

 

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি হামলায় আরও ১০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। এ ঘটনার ফলে গাজায় নিহতের মোট সংখ্যা ৫০ হাজার ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে।

আরও পড়ুন  ইসরায়েলের বাধা উপেক্ষা করে এগিয়ে যাচ্ছে ফ্লোটিলার ৩০টি নৌযান

গত ১৮ মার্চ থেকে গাজায় নতুন করে ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে ১,১৫০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) বার্তাসংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজার উপর ইসরায়েলি হামলায় আরও ১০০ ফিলিস্তিনি নিহত হন, ফলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের আগ্রাসনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫০,৫২৩ জনে পৌঁছেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৩৮ জন আহত হয়ে হাসপাতাল ভর্তি হয়েছেন, যার ফলে আহতের সংখ্যা এখন ১,১৪,৭৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে। অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় পড়ে আছেন, কিন্তু উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।

দীর্ঘ ১৫ মাসের সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মুখে গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল। এরপর প্রায় দুই মাস শান্তি বজায় ছিল, তবে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রশ্নে হামাসের মতানৈক্যকে কেন্দ্র করে মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে আবার হামলা শুরু করে ইসরায়েল।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ মার্চ থেকে নতুন করে বিমান হামলায় ১,১৬৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২,৭০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এই হামলা চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে দিয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের আক্রমণের ফলে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

এর আগে গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে আগ্রাসনের জন্য ইসরায়েল আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলার মুখোমুখিও হয়েছে।