ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

ইস্তাম্বুলের মেয়র ইমামোগলুর গ্রেপ্তার ঘিরে উত্তাল তুরস্ক, বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ৩২ প্রদেশে

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৪৮:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫
  • / 376

ছবি সংগৃহীত

 

ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলুর গ্রেপ্তার ঘিরে টানা তৃতীয় দিনের মতো উত্তাল তুরস্কের রাজপথ। সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে পুলিশ ব্যাপক টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করেছে।

এর আগে সরকার চার দিনের জন্য সব ধরনের সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। ইমামোগলুর গ্রেপ্তার ও তার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপ্লোমা বাতিলের সিদ্ধান্ত জনগণের মধ্যে প্রবল ক্ষোভ ছড়িয়েছে। বিরোধীরা বলছে, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে তাকে প্রতিযোগিতা থেকে সরাতে এ পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  তুরস্কে বিরোধী দল লক্ষ্য করে পঞ্চম দফা ধরপাকড়, গ্রেপ্তার ৩০

বুধবার দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সহায়তার অভিযোগে ইমামোগলুসহ আরও ১০৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘উসকানিমূলক’ পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে আরও বহু মানুষকে আটক করা হয়।

বিরোধীদল সিএইচপি দাবি করেছে, শুধু ইস্তাম্বুলেই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে তিন লাখের বেশি মানুষ। সিটি হলের সামনে জনসমুদ্র গড়ে ওঠে। সেতু ও রাস্তাগুলোতে প্রতিবন্ধকতার কারণে মানুষ বিভিন্ন জায়গায় জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানায়।

গ্রেপ্তারের আগের দিন ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয় তার ডিপ্লোমা বাতিল করে, যাতে প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার যোগ্যতা হারান তিনি। ইমামোগলু ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি এ সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করবেন।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেছেন, “দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে অশান্তি ছড়ানোর হাতিয়ার বানানো হচ্ছে। সরকার এই চক্রান্ত সহ্য করবে না।” একইসঙ্গে তিনি সিএইচপিকে ‘সন্ত্রাসের অংশীদার’ বলেও আখ্যা দেন।

তবে সমালোচকদের দাবি, এটি রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করছে সরকার এমন দাবি করলেও বিরোধীরা একে ‘গণতান্ত্রিক অভ্যুত্থান’ বলেই দেখছেন।

এএফপির তথ্যমতে, বিক্ষোভ ইতিমধ্যে দেশটির ৩২টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। অন্তত ৮৮ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৬ পুলিশ আহত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ইস্তাম্বুলের মেয়র নির্বাচিত হয়ে ২৫ বছরের একে পার্টির আধিপত্য ভেঙে দেন ইমামোগলু। এবারও তাকেই প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। কিন্তু নির্বাচনের আগেই তাকে কারাগারে পাঠানোর পদক্ষেপে তুরস্কে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইস্তাম্বুলের মেয়র ইমামোগলুর গ্রেপ্তার ঘিরে উত্তাল তুরস্ক, বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ৩২ প্রদেশে

আপডেট সময় ০৩:৪৮:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫

 

ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলুর গ্রেপ্তার ঘিরে টানা তৃতীয় দিনের মতো উত্তাল তুরস্কের রাজপথ। সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে পুলিশ ব্যাপক টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করেছে।

এর আগে সরকার চার দিনের জন্য সব ধরনের সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। ইমামোগলুর গ্রেপ্তার ও তার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপ্লোমা বাতিলের সিদ্ধান্ত জনগণের মধ্যে প্রবল ক্ষোভ ছড়িয়েছে। বিরোধীরা বলছে, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে তাকে প্রতিযোগিতা থেকে সরাতে এ পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  শিল্পে সহযোগিতা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প সংস্থা প্রধানের সাক্ষাৎ

বুধবার দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সহায়তার অভিযোগে ইমামোগলুসহ আরও ১০৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘উসকানিমূলক’ পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে আরও বহু মানুষকে আটক করা হয়।

বিরোধীদল সিএইচপি দাবি করেছে, শুধু ইস্তাম্বুলেই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে তিন লাখের বেশি মানুষ। সিটি হলের সামনে জনসমুদ্র গড়ে ওঠে। সেতু ও রাস্তাগুলোতে প্রতিবন্ধকতার কারণে মানুষ বিভিন্ন জায়গায় জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানায়।

গ্রেপ্তারের আগের দিন ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয় তার ডিপ্লোমা বাতিল করে, যাতে প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার যোগ্যতা হারান তিনি। ইমামোগলু ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি এ সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করবেন।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেছেন, “দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে অশান্তি ছড়ানোর হাতিয়ার বানানো হচ্ছে। সরকার এই চক্রান্ত সহ্য করবে না।” একইসঙ্গে তিনি সিএইচপিকে ‘সন্ত্রাসের অংশীদার’ বলেও আখ্যা দেন।

তবে সমালোচকদের দাবি, এটি রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করছে সরকার এমন দাবি করলেও বিরোধীরা একে ‘গণতান্ত্রিক অভ্যুত্থান’ বলেই দেখছেন।

এএফপির তথ্যমতে, বিক্ষোভ ইতিমধ্যে দেশটির ৩২টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। অন্তত ৮৮ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৬ পুলিশ আহত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ইস্তাম্বুলের মেয়র নির্বাচিত হয়ে ২৫ বছরের একে পার্টির আধিপত্য ভেঙে দেন ইমামোগলু। এবারও তাকেই প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। কিন্তু নির্বাচনের আগেই তাকে কারাগারে পাঠানোর পদক্ষেপে তুরস্কে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।