ঢাকা ১২:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লাতাকিয়া ও তারতুসে সহিংসতা: প্রাণঘাতী হামলায় নিহত ৭৪৫ জন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৫১:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ মার্চ ২০২৫
  • / 478

ছবি: সংগৃহীত

 

সিরিয়ার উপকূলীয় শহর লাতাকিয়া এবং তারতুসে সহিংসতা রক্তাক্ত আকার ধারণ করেছে। অস্ত্রধারীরা ঘরে ঘরে ঢুকে সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে, আর প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, অনেককে পালানোর সুযোগ না দিয়ে তাদের রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়।

ব্রিটিশ ভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর) জানায়, গত শুক্র ও শনিবার আলাউইট সম্প্রদায়ের উপর আক্রমণে প্রায় ৭৪৫ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও বাশারপন্থী যোদ্ধারা। সহিংসতা এতটাই ব্যাপক, যে শত শত মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছে। সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকার ও তার অনুগত বাহিনীর বিরুদ্ধে এই সহিংসতার আঁতাত রয়েছে, যিনি নিজেও আলাউইট সম্প্রদায়ের সদস্য।

আরও পড়ুন  যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে একত্রিত হওয়া: বিশ্ব যৌন নিপীড়ন বিরোধী দিবস

সরকারি বাহিনীর পাল্টা অভিযানে হেলিকপ্টার গানশিপ, ড্রোন এবং কামানের ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।

এসওএইচআর জানিয়েছে, গত দুই দিনে এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যা ডিসেম্বরে বিদ্রোহীদের দ্বারা আসাদ সরকারের উৎখাতের পর থেকে সিরিয়ায় সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে আসাদের সমর্থক সরকারি সেনা এবং বন্দুকধারীরাও রয়েছেন, যারা বৃহস্পতিবার থেকে উপকূলীয় লাতাকিয়া এবং তারতুসে সংঘর্ষে লিপ্ত।

এদিকে, সৌদি আরব এই সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এটিকে “বেআইনি গোষ্ঠীর অপরাধ” বলে উল্লেখ করেছে এবং নতুন সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষ দূত গেইর পেডারসেন সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে কতটা বহুত্ববাদী হবে তা দেশটির ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

লাতাকিয়া ও তারতুসে সহিংসতা: প্রাণঘাতী হামলায় নিহত ৭৪৫ জন

আপডেট সময় ১১:৫১:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ মার্চ ২০২৫

 

সিরিয়ার উপকূলীয় শহর লাতাকিয়া এবং তারতুসে সহিংসতা রক্তাক্ত আকার ধারণ করেছে। অস্ত্রধারীরা ঘরে ঘরে ঢুকে সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে, আর প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, অনেককে পালানোর সুযোগ না দিয়ে তাদের রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়।

ব্রিটিশ ভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর) জানায়, গত শুক্র ও শনিবার আলাউইট সম্প্রদায়ের উপর আক্রমণে প্রায় ৭৪৫ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও বাশারপন্থী যোদ্ধারা। সহিংসতা এতটাই ব্যাপক, যে শত শত মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছে। সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকার ও তার অনুগত বাহিনীর বিরুদ্ধে এই সহিংসতার আঁতাত রয়েছে, যিনি নিজেও আলাউইট সম্প্রদায়ের সদস্য।

আরও পড়ুন  যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে একত্রিত হওয়া: বিশ্ব যৌন নিপীড়ন বিরোধী দিবস

সরকারি বাহিনীর পাল্টা অভিযানে হেলিকপ্টার গানশিপ, ড্রোন এবং কামানের ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।

এসওএইচআর জানিয়েছে, গত দুই দিনে এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যা ডিসেম্বরে বিদ্রোহীদের দ্বারা আসাদ সরকারের উৎখাতের পর থেকে সিরিয়ায় সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে আসাদের সমর্থক সরকারি সেনা এবং বন্দুকধারীরাও রয়েছেন, যারা বৃহস্পতিবার থেকে উপকূলীয় লাতাকিয়া এবং তারতুসে সংঘর্ষে লিপ্ত।

এদিকে, সৌদি আরব এই সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এটিকে “বেআইনি গোষ্ঠীর অপরাধ” বলে উল্লেখ করেছে এবং নতুন সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষ দূত গেইর পেডারসেন সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে কতটা বহুত্ববাদী হবে তা দেশটির ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।