নেতানিয়াহুকে সরাতে আইজেনকটকে সমর্থন বিরোধীদের
- আপডেট সময় ০৩:৪৬:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / 13
ইসরাইলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনয়নের বিষয়ে একমত হয়েছেন দেশটির প্রধান বিরোধী দলগুলোর নেতারা। দ্রুত বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নতুন ‘জাতীয় জরুরি সরকার’ গঠনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তারা। তবে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন নিয়ে বিরোধীদের মধ্যে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তেলআবিবের উত্তরে হার্জলিয়া শহরে বৈঠকে বসেন ইসরাইলের ইহুদি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের নেতারা। গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর এটিই ছিল তাদের প্রথম যৌথ বৈঠক। ওই নির্বাচনে ১২০ আসনের ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেটে কোনো জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, তা নির্ধারণে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। বুধবার থেকে তিনি দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করবেন। তার এই উদ্যোগের এক দিন আগে বিরোধী নেতাদের মধ্যে আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী পদে সমর্থনের সমঝোতা নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিরোধী জোটের নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, তাদের সব দল প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে ইয়াশার পার্টির প্রধান গাদি আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনয়নের সুপারিশ করবে। একই সঙ্গে সরকারের নীতিমালা ও জোট চুক্তির খসড়া তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট আলোচনা দলগুলো অবিলম্বে কাজ শুরু করবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন বর্তমান জোট সরকারকে সরিয়ে ‘জাতীয় জরুরি সরকার’ গঠনে বিরোধী দলগুলো সমন্বিতভাবে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।
তবে সরকার গঠনের সম্ভাব্য সমীকরণ নিয়ে বিরোধী জোটে এখনো মতবিরোধ রয়েছে। বিশেষ করে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে নেতারা একমত হতে পারেননি। নতুন সরকার গঠনে এসব দলের সমর্থন শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গাদি আইজেনকট, ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট, ইসরাইল বেইতেনু পার্টির নেতা আভিগদর লিবারম্যান, ডেমোক্র্যাটস পার্টির ইয়ার গোলান এবং ইয়েশ আতিদ পার্টির প্রধান ইয়ার লাপিদ।
বৈঠকে আইজেনকটের প্রস্তাব করা চারটি মূলনীতির প্রতিও সমর্থন জানান বিরোধী নেতারা। এসব নীতির মধ্যে রয়েছে, সরকারের অংশীদার সব দলকে ইসরাইলকে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং হামাসকে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে অভিহিত করতে হবে।
এই শর্তের কারণে আরব নেতৃত্বাধীন কয়েকটি দল বিরোধী জোটের সঙ্গে সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় অংশ না-ও নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্বাচনে তৃতীয় স্থান অর্জন করা নাফতালি বেনেট সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের হাতে সময় নেই। অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে।”
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা।
























